শিক্ষক-নারী-শিশু পেটানো সেই ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত

আগের সংবাদ

কুড়িগ্রামে পরিচ্ছন্নতা কর্মী দিয়ে চলছে চিকিৎসা

পরের সংবাদ

গবেষণায় মাত্র ৪ কোটি

চবির ৩৫১ কোটি টাকা বাজেট ঘোষণা

চট্টগ্রাম অফিস

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২০ , ৯:৪২ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ৩৫১ কোটি ৮৫ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। এবারের বাজেটেও গবেষণা খাতে মাত্র ৪ কোটি ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যা মোট বাজেটের মাত্র ১ দশমিক ২১ শতাংশ। অথচ বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনভাতা খাতে। এ বছর এই খাতে বরাদ্দের পরিমাণ ২২২ কোটি ২০ লাখ টাকা, যা মোট বাজেটের ৬৪ দশমিক ১৬ শতাংশ। গবেষণায় বরাদ্দকৃত অর্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চলমান গবেষণা কর্মকাণ্ডগুলো কতটুকু সফলতার মুখ দেখবে তা নিয়ে বিশেষজ্ঞমহলও চিন্তিত। এক্ষেত্রে গবেষণা খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন বলেও তারা মনে করছেন।

রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. এ আর মল্লিক ভবনে উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতারের সভাপতিত্বে এই বাজেট ঘোষণা করেন চবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এস এম মনিরুল হাসান। এবারের বাজেটে ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্স এন্ড ফিশারিজের গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি খাতে ২ কোটি ৪১ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পণ্য ও সেবা বাবদ সহায়তা হিসেবে ৬০ কোটি ৯০ লাখ ও পেনশনের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫০ কোটি টাকা। পরিবহন খাতে ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা ও চিকিৎসা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫৬ লাখ টাকা। সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার বলেন, ‘আগামী অর্থবছরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা ও উন্নয়ন বিষয়কে গুরুত্বারোপ করে সব পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক র?্যাংঙ্কিয়ে চবির অবস্থানকে একটি সম্মানজনক জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য গবেষণা মান ও পরিমাণ বাড়ানোর জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা হাতে নেয়া হচ্ছে।’ তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রেখে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সম্পদের সুরক্ষা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার উপযুক্ত পরিবেশ সমুন্নত রাখতে বর্তমান প্রশাসন অঙ্গীকারাবদ্ধ। তিনি আরো বলেন, বিশ^বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরো গতিশীল করা হবে এবং বিশ^বিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় সর্বক্ষেত্রে সততা, ন্যায়-নিষ্ঠা ও ন্যায্যতার প্রশ্নকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

তবে বাজেটে গবেষণা খাতে অপ্রতুল বরাদ্দের বিষয়ে জানতে চাইলে হালদা নদী ও তার জীববৈচিত্র্য নিয়ে গবেষণাকারী চবির প্রাণিবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরিয়া ভোরের কাগজকে বলেন, গবেষণা ছাড়া দেশের অগ্রগতি ও উন্নয়ন কখনো এগিয়ে যেতে পারে না। গবেষণা খাতে বরাদ্দের পরিমাণ বৃদ্ধি করা হলে তা উন্নয়নে সহায়ক শক্তি হয়ে ভ‚মিকা রাখবে। ইতোপূর্বে চবির বাজেটে গবেষণায় আরো কম বরাদ্দ রাখা হতো। গণমাধ্যমে নানা লেখালেখির পর বর্তমানে এই অবস্থায় উন্নীত হয়েছে। তবে এবারের বরাদ্দও একেবারে অপ্রতুল। বাজেটে এই খাতে পরিমাণ বৃদ্ধি করা হলে গবেষণায় নিবেদিত শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের মাঝে প্রাণ ফিরে আসবে।

২০২০-২১ অর্থবছরে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কাছ থেকে ৫১৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত ৩৪৬ কোটি ৩০ লাখ টাকার এই বাজেটের মধ্যে ৩২৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে এবং ১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় থেকে পাওয়া যাবে। বাকি ৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা বাজেট ঘাটতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এবারের বাজেটে গত ২০১৯-২০ অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ৭ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সিনেট অধিবেশনে গত ২০১৯-২০ অর্থবছরের ৩৩৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা সংশোধিত বাজেট অনুমোদন দেয়া হয়। এ বছর বাজেটে বেতনভাতা খাতে বরাদ্দ রাখা হয় ২২২ কোটি ২০ লাখ টাকা, যা মোট বাজেটের ৬৪ দশমিক ১৬ শতাংশ। গবেষণা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪ কোটি ২০ লাখ টাকা, যা মোট বাজেটের ১ দশমিক ২১ শতাংশ। এছাড়া ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্স এন্ড ফিশারিজ অনুষদের গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি খাতে ২ কোটি ৪১ লাখ ২০ হাজার টাকা, পরিবহন খাতে ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা ও চিকিৎসা খাতে ৫৬ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

উপাচার্যের ভাষণ ও বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন চবির সিনেট সদস্য ওয়াসিকা আয়েশা খান এমপি, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এখলাসুর রহমান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বিশ^বিদ্যালয়) আফতাব হোসাইন প্রামাণিক, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী, সিনেট সদস্য প্রফেসর ড. মো. দানেশ মিয়া, প্রফেসর এ বি এম আবু নোমান, প্রফেসর সিরাজ-উদ দৌল্লাহ, প্রফেসর ড. মুস্তাফিজুর রহমান ছিদ্দিকী, প্রফেসর বেনু কুমার দে, প্রফেসর ড. মো. মাহবুবুর রহমান, প্রফেসর জমির উদ্দিন আহমদ, ড. মোহাম্মদ মঞ্জুর-উল-আমিন চৌধুরী, প্রফেসর এম এ গফুর, এস এম ফজলুল হক, প্রফেসর ড. কাজী এস এম খসরুল আলম কুদ্দুসী, গোলাম সাব্বির সাত্তার, প্রফেসর মনসুর উদ্দিন আহমদ এবং প্রফেসর ড. মোহাম্মদ নাসিম হাসান। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত), সিনেট সদস্য, সিন্ডিকেট সদস্য ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

এসআর