আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ নির্মাণের কাজ ৫০ভাগ সম্পন্ন

আগের সংবাদ

দগ্ধদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের আদেশ স্থগিত

পরের সংবাদ

বাবলি

আন্দালিব রাশদী

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২০ , ৫:৫৬ অপরাহ্ণ

স্যার বললেন, আপনাকে তেলের দাম দিতে হবে না। বিকল্প একটা আছে, আপনিই না হয় হোস্টেল সুপারিনটেনডেন্টের দায়িত্বটা নিয়ে নিন। সুবিধে আছে, নিজের থাকার জন্য আপনার ভাড়া দিতে হবে না।
সম্পর্কটা এরকমই ছিল বলে অনেকের ধারণা। তবে এটাও ঠিক টিফিন টাইমে যে ক’জন স্যার এক সাথে বসে দুধ-চা খেতেন তাদের মধ্যে এ দু’জন ছিলেন এবং অনেক সময়ই দু’জন পাশাপাশি বসতেন। এটা ওটা আলাপও করতেন।
পুলিশ এসে যায়। স্যারের রুমের চারদিকে সিল্কের হলুদ দড়ি দিয়ে বেড় দেয়। কাউকে কোনো কিছু স্পর্শ করা থেকে বিরত রাখে। হোস্টেলের মেয়েরা কিছুটা দূরে বিভিন্ন জায়গায় জায়গায় জড়ো হয়ে কাঁদছে। তার কড়া শাসনকে যারা অপছন্দ করছে তারাও বলছে, স্যার অনেক ভালো মানুষ ছিলেন। ক্লাস সেভেনের একটি মেয়ে কাঁদছে আর বলছে, স্যার আমার আব্বুর মতন ছিলেন।
পুলিশ স্যারের রুম থেকে আলামত সংগ্রহ শুরু করে। ভিকটিম হিসেবে স্যার নিজেই এক নম্বর আলামত। তার গলার মাফলারটি আলাদাভাবে একটি সাদা পলিথিন ব্যাগে ঢুকানো হয়। এটাকেই সম্ভবত হত্যাকাণ্ডের অস্ত্র মনে করা হয়।
পুলিশ মৃতদেহের সুরতহাল রিপোর্ট লিখে। স্যার তেমন হাসিখুশি ও সদালাপী না হওয়ায় অনেকটাই বন্ধুহীন ছিলেন। সৌজন্যের খাতিরে কেউ কেউ তার সাথে সালাম বিনিময় করেছেন। কিন্তু তার দিক থেকে সাড়া এতো কিঞ্চিতকর যে আগ্রহীজনও পিছিয়ে গেছেন। এরকম গোমড়ামুখো গম্ভীর মানুষটি যখন স্কুলের বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হারমোনিয়াম বাজিয়ে গান গেয়েছেন সবাই অবাক হয়ে বলেছেন, একী আজব ব্যাপার। গানও গাইতে পারেন! তাহলে ব্যবহারটা এমন কেন?
ময়নাতদন্তের জন্য লাশটা যখন সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয় তার সাথে যাবার মতো কেউ নেই। অগত্যা দপ্তরি শামসু মিয়ার হাতে হেডস্যার দুশ’ টাকা দিলেন। লাশবাহী রিকশা ভ্যানের ওপর থেকে লাশের পা দুটো একটু সরিয়ে শামসু মিয়া তাতে চড়ে বসে। যখন ভ্যান ছেড়ে দেয় ছাত্রীদের কেউ কেউ আবার ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে। তার রুমে কোনো চেয়ার ছিল না। তবে চকি লাগোয়া কমদামি একটি টেবিল ছিল। টেবিলের ওপর বহু পুরনো একটি বই, ক্লাস এইটের ছাত্রীদের ক্লাস টেস্টের খাতা, একটি ডায়েরি, দুটো বলপয়েন্ট কলম, একটি লাল কালির, একটি ফ্ল্যাওয়ার ভামও ছিল। কোনো শুকনো ফুলও ছিল না, তবে এর ভেতরে এক প্যাকেট স্যালাইন ও চারটি প্যারাসিটামল ট্যাবলেট ছিল। টেবিলে একটি ড্রয়ার ছিল। ড্রয়ারে পাওয়া যায় সাড়ে চার ইঞ্চি দৈর্ঘ্যরে একটি স্ট্যাপলার, একটি কাঁচি, অর্ধেক খরচ হয়ে যাওয়া একটি স্কচট্যাপ, একটি গাম স্টিক, এক কৌটা ভ্যাসেলিন, আর একটি কোটাতে বেশ ক’টি শার্টের বোতাম, সুতো লাগানো দুটি সুই এবং সাদা সুতোর রিল, একটা লাল কাভারের ডায়েরি, আর একটি ছোট্ট ও স্বচ্ছ প্লাস্টিকের কোটাতে শুকনো আদার ফালি।
পুলিশ বরাবরই ভিন্ন ধরনের জিনিস খোঁজে। বালিশ, চাদর, তোষক সব ঝেড়ে বিছানা থেকে নামায় এবং বলে কনডম-টনডম তো দেখলাম না।
দড়িতে ঝোলানো প্যান্ট নামিয়ে আনে। প্যান্টের পকেট থেকে মানিব্যাগ বের করে। সবশুদ্ধ সাতশত একাশি টাকা পাওয়া যায়, খবরের কাগজ কাটা একটা চাকরির বিজ্ঞপ্তি। এক চিলতে কাগজে শাহানা নামের একজনের ফোন নম্বর।
পুলিশ তখনই ফোন করল এবং ফোন ধরলে বলল তার নাম রেহানা, এটা তার বোন শাহারারই ফোন, আবদুল কাইয়ুম শুধু তার পরিচিতই নয়, আত্মীয়ও; শাহানার সাবেক হাজব্যান্ড, তাদের মধ্যে তালাক হয়ে গেছে।
পুলিশ বলে, শাহানাকে দিন।
রেহানা বলে, তার বোন নতুন দুলাভাইয়ের সাথে সৌদি আরব চলে গেছে। মাত্র এক সপ্তাহ আগে গেছে, তাদের ঠিকানা, ফোন নম্বর এখনো পাঠায়নি। পুলিশ যখন বলল আবদুল কাইয়ুম খুন হয়েছে রেহানা বলল, এমন ভালো মানুষকে কে খুন করল?
পুলিশ বলল, সেটাই তো আমাদের প্রশ্ন।
লাল ডায়েরিটা খুলল, বছরের অর্ধেক পেরিয়ে গেছে কিন্তু আবদুল কাইয়ুম একটি লাইনও লিখেননি। তবে ডায়েরির পাতাকে উল্টাতেই হাতে লেখা একটি শব্দ পাওয়া গেল : আপনাকে।
এটুকুই। ছাত্রীদের ক্লাস টেস্টের খাতাগুলো দেখা হয়নি। প্রচ্ছদ-ছেঁড়া পুরনো বইটি কলিকাতায় মুদ্রিত শ্রী যাদবচন্দ্র চক্রবর্তীর পাটিগণিত। এটা তো দাদার বাবার আমলের বই। কয়েকটি চিরকুট এই বইয়ের ভেতর আঠা লাগিয়ে বিভিন্ন পাতায় পেস্ট করা। দুটি চিঠিও আছে একটি চিঠি বেশ বড়। একটি খামবন্ধ চিঠি। চিঠি ও চিরকুটগুলো পড়া দরকার।
জনাব আবদুল কাইয়ুম,
সালাম জানবেন। আপনি প্রায় সাড়ে তিন মাস আগে প্রত্যন্ত অঞ্চলে আমাদের এই দখিনদুয়ারি গার্লস স্কুলে যোগদান করেছেন। অংকের মেধাবী শিক্ষক হিসেবেই আপনি নিয়োগ পেয়েছেন এটা আমরা জানি। আমাদের শিক্ষকদের ফিফটি পার্সেন্টেরও বেশি চাকরি পেয়েছে তদবিরে এবং দু’একজন ঘুষও দিয়েছেন। নিজের মেয়ে স্কুলে ক্লাস টেনে পড়ছে বলে চেয়ারম্যান আবুল বাশার অন্তত অংকের টিচার নিয়োগে তদবির করেননি, ঘুষও নেননি। আপনার সাথে সে রকম কোনো কোনো ঘনিষ্টতা না হওয়ায় সামনা-সামনি না বলে পত্র মারফত কিছু বিষয় আপনাকে জানাচ্ছি। আশা করি এবং বিশ্বাস করি আপনি এসব গোপন রাখবেন; প্রকাশ করে আমাকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলবেন না। আপনার একজন শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আমি বলতে চাই গার্লস হোস্টেলের সুপারিনটেনডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করা আপনার উচিত হয়নি। সম্ভব হলে কোনো একটি ছুঁতো তৈরি করে যদি এই বাড়তি কাজ থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন সেটাই হবে মঙ্গলজনক।
গার্লস হোস্টেলটি বেশ পুরনো। আমি স্কুলে যোগ দেবার পর আপনাকেসহ মোট পাঁচজন সুপারিনটেনডেন্ট দেখলাম। কিন্তু কেউই ছ’মাস পূরণ করতে পারেননি, একজন পার করেছেন মাত্র একদিন।
নারী শিক্ষকদের কাউকেই তো গার্লস হোস্টেলের সুপার বানাবার কথা। সেধেই যেতে চাইলেন আমাদের রৌশন আরা আপা। তার আগ্রহী হবার কারণ ছেলে বিদেশে পড়াশোনা করতে চলে গেছে, মেয়ে স্বামীর সাথে থাকছে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কোয়ার্টারে আর মাস দেড়েক আগে চিকুনগুনিয়া আক্রান্ত স্বামীর মৃত্যু; তার একার জন্য বাড়িটা দরকার নেই। সিদ্ধান্ত নিলেন, বাড়িটা ভাড়া দেবেন, তিনি থাকবেন হোস্টেল সুপারের এক রুমের বাসায়। প্রথম রাতে যখন তার চোখ লেগে আসছে একটি বাচ্চার কান্না শুনলেন। চোখ খোলার পর দেখলেন চার-পাঁচ মাসের একটি ছেলে শিশু মশারির চাদোয়ার হামাগুড়ি দিয়ে কাঁদছে এবং মা মা করে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছে।

তিনি বেশ বুঝতে পারলেন, এটা একটা স্বপ্নমাত্র। মোহাম্মদী খাবনামা দেখে এ স্বপ্নের মানে খোঁজা যাবে কিন্তু তার আগে দরকার এই শিশুর হামাগুড়ি দেয়া অগ্রগতি থেকে মুক্তি। তিনি আবার যখন গভীর ঘুমে বাচ্চার কান্না শুনলেন, চোখ খুলে দেখলেন টিকটিকি যেমন করে দেয়াল বেয়ে নেমে আসে, তেমনি মশারি বেয়ে শিশুটি নামছে।
তিনি নিজেকে বোঝালেন, এটা কিছু নয় স্বপ্ন। ভোরের দিকে আবার যখন তিনি ঘুমে, শিশুটি হাত বাড়ালেই তাকে ধরে ফেলবে এমন একটি অবস্থায় তিনি দ্রুত রুম ছেড়ে স্কুলের সিঁড়িতে গিয়ে বসলেন এবং খতমে ইউনুস জপতে শুরু করলেন। ব্যাপারটা কয়েকজন টিচারকে বললেন। তখনকার অ্যাসিস্টেন হেডমিসট্রেস বললেন, কোনো একটা অবসেশন থেকে এটা হচ্ছে। তুমি তিন দিন ছুটি কাটিয়ে আবার এসে কাজে যোগ দাও।
রৌশন আরা আপা ছুটির দরখাস্ত দিয়ে সেই যে গেলেন স্কুলে আর ফিরে আসেননি। এমনকি মাসের পাওনা বেতনটা নেননি।
লেডি টিচারদের সবারই তো ঘর-সংসার আছে। কেউই তখন হোস্টেল সুপার হতে রাজি হননি।
তারপর অনেকটা জোর করেই আরবি ও ইসলামিয়াতে শিক্ষক কারী আবদুল মজিদকে সুপার করা হয়। এক মাস ভালোই চালালেন। তারপর হঠাৎ সুপারের পদ থেকে পদত্যাগ করলেন। কিন্তু কারণ তেমন কিছুই বললেন না। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো- হোস্টেলের কোনো মেয়ে কি তার সাথে কোনো অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছে?
তিনি জবাব দিলেন, তার চেয়ে বেশি।
অবাক হয়ে অন্যরা যখন জিজ্ঞেস করলেন, কোন মেয়েটি, কি করেছে, তিনি একটি অদ্ভুত কথা বললেন : প্রতিদিন হোস্টেলে আসা-যাওয়ার পথে এবং সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার ওপর যেসব মেয়ের ছায়া পড়ে তাদের মধ্যে কারো যদি তখন পিরিয়ড চলতে থাকে তাহলে তিনি নাপাক হয়ে যাবেন। এই বোধোদয় তার নতুন হয়েছে।
আমার নারী সহকর্মীরা তার কথায় কোনো মন্তব্য করেননি। কিন্তু পুরুষদের কেউ কেউ বলেছেন হুজুর তো ঠিক কথাই বলেছেন।
কারী আবদুল মজিদের পর সুপার হলেন সমাজবিজ্ঞানের নুরুর রহমান। তারও শুরুটা বেশ ভালো। ছুটির পর আধঘণ্টা হোস্টেলের মেয়েদের পিটি প্যারেড করাতেন, হ্যান্ডবল খেলারও আয়োজন করেন। মেয়েদের প্যারেড কমান্ডার দিলশাদ রাহাত আরা এবং নুরুর রহমানের সম্পর্ক ততদিনে এতটাই ঘনিষ্ট হয়ে পড়ে এবং সংবাদও এতটাই রটে যায় যে দুই শিশু সন্তানসহ নুরুর রহমানের স্ত্রী ১৭০ কিলোমিটার দূর থেকে এসে হাজির হয় গার্লস হোস্টেলে। পুরুষ সুপার বসিয়ে তার সংসারে অশান্তি সৃষ্টির জন্য হেডস্যারকে গালমন্দ করতে থাকেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে হেডস্যার নুরুর রহমানকে সুপার পদ থেকে প্রত্যাহার করেন। নুরুর রহমান দিলশাদ রাহাত আরার কাছ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিতে চাইলে দিলশাদের সাথে তার কয়েকটি অন্তরঙ্গ ছবি ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়া হয় এবং প্রয়োজনে আরো অন্তরঙ্গ ভিডিও আপলোড করার হুমকি পেয়ে ঘাবড়ে যান। পরিস্থিতি জটিল হয়ে যাওয়ায় স্কুল দুজনকে বের করে দেয় এবং সরকার দলের এক জেলা পর্যায়ের নেতার আত্মীয় হবার কারণে নুরুর রহমানকে ধমক দিয়ে কাজী অফিসে এনে দশ লাখ টাকা দেনমোহরের নিকাহনামায় সই করাতে বাধ্য করা হয়। দু’জনের কেউই আর এই এলাকাতে নেই।
তারপর সুপ্রিয়া নাগকে যখন সুপার করা হলো রৌশন আরার স্বপ্নের পুনরাবৃত্তি ঘটতে শুরু করল। এবার মশারির ওপর হামাগুড়ি দিতে শুরু করল একটি নগ্ন কন্যাশিশু। স্বপ্ন তো স্বপ্নই। একে অযথা গুরুত্ব না দেবার সিদ্ধান্ত নিল সুপ্রিয়া নাগ। নিজেকেও বোঝাল- এসব আজগুবি কুসংস্কারে তার বিশ্বাস নেই। সে রাতে শিশুটি টিকটিকির মতো মশারি বেয়ে নেমে সুপ্রিয়ার ডান গালে আঁচড় দিল। আঁচড়টা তীক্ষ্ম হওয়াতে ঘুমটা ভেঙে গেল। মুখের সামনে আয়না ধরে কোনো আঁচড়ের দাগ না দেখে নিজেকেই শোনাল, বলেছিলাম না এগুলো সব ভুয়া, সব কল্পনা। ততক্ষণে সকাল হয়ে গেছে, হাত-মুখ ধুয়ে ছাত্রীদের সাথে নাস্তা করতে বসে যায়। আগের ক’জন সুপার মনে করতেন ছাত্রীদের সাথে বসলে ওজন কমে যাবে। যতটা দূরত্ব বজায় রাখা দরকার ততটা রাখা যাবে না। সেজন্য খাবারটা রুমে পাঠিয়ে দেবার নির্দেশ দিল। কিন্তু সুপ্রিয়ার স্টাইলটা ভিন্ন- কৃত্রিম দূরত্বের প্রয়োজন নেই। ছাত্রীদের সাথে বন্ধুত্ব রাখতে হবে, তাহলেই সুপার হিসেবে তাদের সবচেয়ে বেশি সাহায্য করা যাবে।
নাস্তার সময় সুপ্রিয়া যে মেয়েটার মুখোমুখি বসল সে ক্লাস এইটের তানিয়া। তানিয়া কতক্ষণ তার মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে মাথা নিচু করে খেতে শুরু করল। তানিয়াকে জিজ্ঞেস করল, কি ব্যাপার তানিয়া?
কিছু না ম্যাডাম।
সুপ্রিয়া নাস্তার সময় এক গ্লাস গরম পানি খায়। আয়া পানিটা তার টেবিলে রেখে কিছুক্ষণ তার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। সুপ্রিয়া জিজ্ঞেস করল, কি দেখছ?
একই উত্তর, কিছু না ম্যাডাম।
সুপ্রিয়া ক্লাস সিক্স-এ সেকশনের ক্লাস টিচার। প্রথম ক্লাসেই বাংলা। প্রত্যেকদিন কোন ছড়া বা কবিতার দুটো পঙ্ক্তি নিজে ব্ল্যাক বোর্ডে লিখে, সবাইকে খাতায় লিখতে বলে। তারপর হঠাৎ হঠাৎ একে ওকে জিজ্ঞেস করে লাইন দুটো যেন কী?
জবাব আসে :
শুনেছ কি বলে গেছে সীতানাথ বন্দো
আকাশের গায়ে নাকি টকটকে গন্ধ।
সুপ্রিয়া বেরোচ্ছে আর ইংরেজির গুল হাঁফসা ঢুকছে। সুপ্রিয়ার সামনে থমকে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করল তোমার গালে এসব কি?
মানে? গালে আবার কি?
যাও আয়নায় গিয়ে দেখ।
সুপ্রিয়া টিচার্স রুমে এসে দ্রুত লেডিস টয়লেটে ঢুকে পড়ল। আজই প্রথম নজর পড়ল যে বেসিনের উপরের গ্লাসটার পেছনের পারদ এখানে ওখানে উঠে গেছে। সে আয়নায় তাকালো, মুখে তেমন কিছু চোখে পড়ল না। হাত-মুখ ধুয়ে বেরিয়ে এলো। তার সেকেন্ড পিরিয়ড অফ। এই সময় ক্লাস সিক্সের ছাত্রীদের হোমওয়ার্কগুলো দেখে ফেলল।
ঘণ্টা পড়তেই ছুটল ক্লাস নাইন সেকশন-এ তে। ক্লাস থেকে তখন বের হচ্ছেন সবচেয়ে বয়স্ক শিক্ষক হুদাল্লিশ মুত্তাকিন। নাম শুনে তাকে আরবির শিক্ষক মনে হতে পারে। তিনি আসলে পড়ান পদার্থ বিজ্ঞান। তার পড়ানোর ধরনটা উস্কানিমূলক। ধর্মের যৌক্তিকতা, স্রষ্টার ভূমিকা এসব নিয়ে প্রশ্ন করেন। তিনিও থমকে দাঁড়িয়ে গেলেন, বললেন প্রহলাদ গুপ্তের সাথে একরাউন্ড মারামারি করে এলে নাকি?
প্রহলাদ সুপ্রিয়ার স্বামী। কিন্তু সম্পর্কটা অনেকদিন ধরেই খারাপ যাচ্ছে। তিনি জানেন বলেই মারামারি বলেছেন। একবার সুপ্রিয়ার বঁটির কোপ পড়েছিল প্রহলাদের ঘাড়ের কাছে। চারটা স্টিচ লেগেছিল। এক সাথে থাকলে প্রহলাদের মারের পর সে হয়তো এমন কাণ্ড করে বসবে। তাতে স্কুলের চাকরিটা যাবে, জেলে থাকতে হবে এসব কারণেই তার কাছ থেকে কিছুকাল দূরে থাকতেই সুপারের কাজটা আগ্রহ ভরেই নিয়েছে। হুদাল্লিশ মুত্তাকিন স্যার যা বললেন তার মানে কি এই যে তার চেহারায় মারামারির ছাপ রয়েছে?

এসআর