ধুনটে ধ‌সে পড়া সেই সড়কের সংস্কার শুরু

আগের সংবাদ

সড়কে অবৈধভাবে রাখা সামগ্রী নিলামে বিক্রি করলো ডিএনসিসি

পরের সংবাদ

ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর সামাজিক ভূমিকা

মোহাম্মদ আবদুল মজিদ

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২০ , ৬:১৫ অপরাহ্ণ

স্মরণ

ডক্টর মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর (জন্ম ১০ জুলাই ১৮৮৫, মৃত্যু ১৩ জুলাই ১৯৬৯) পূর্বপুরুষরা বহুদিন থেকে পীর গোরাচাঁদের খাদেম রূপে পরিচিত হয়ে আসছিলেন। এমনি এক ধর্মপ্রাণ মুসলমান পরিবারের ছেলে ডক্টর মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ সংস্কৃতকে দ্বিতীয় বিষয় হিসেবে নিয়ে ১৯০৪ সালে হুগলী জেলা স্কুল থেকে ‘এন্ট্রান্স’ (বর্তমান মাধ্যমিক পরীক্ষা) পাস করেন। অতঃপর প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ১৯০৬ সালে এফএ (উচ্চ মাধ্যমিক) পাস করেন এবং কলিকাতার সিটি কলেজ থেকে সংস্কৃতে বিএ (অনার্স) পাস করেন ১৯০৯ সালে। ১৯১২ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক ভাষাতত্তে¡ এমএ এবং ১৯১৪ সালে এলএলবি পাস করেন। ১৯২৬-১৯২৮ পর্যন্ত প্যারিসের সরবন বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈদিক ভাষা, প্রাচীন পার্সি, তিব্বত, বিভিন্ন আধুনিক ভারতীয় ভাষা অধ্যয়ন ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন, উপরন্তু ডিপ্লোমা ফোন সনদপত্র লাভ করেন। ১৯২৭-১৯২৮ এ সরবনে পাঠরত অবস্থাতেই এক অবকাশে জার্মানির ফ্রাইবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈদিক, সংস্কৃত ও প্রাকৃত ভাষা অধ্যয়ন। তিনি ১৯০৮-০৯ সাল পর্যন্ত যশোর জেলা স্কুলে শিক্ষকতা করেন। ১৯১৫ সালে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড হাইস্কুলে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯১৫-১৯ সালে চব্বিশ পরগনার বশিরহাটে আইন ব্যবসায়ে নিয়োজিত ছিলেন। এ সময় স্থানীয় পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯১৯ সালে স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় তাকে তার যোগে জানান Shahidullah Bar is not for you . Come to our University. তিনি ড. দীনেশ চন্দ্র সেনের সহকর্মী হিসেবে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে শরৎকুমার লাহিড়ী গবেষণা সহায়ক পদে নিযুক্তিলাভ করেন এবং ১৯২১ সাল অবধি সে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯২১ সালে সদ্য প্রতিষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে প্রভাষক পদে যোগদান করেন মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, একই সঙ্গে সলিমুল্লাহ হলের আবাসিক শিক্ষক (১৯২৫ পর্যন্ত), ১৯২২-১৯২৪ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে খণ্ডকালীন অধ্যাপনাসহ ১৯৩৭-এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত ও বাংলা বিভাগ পৃথক হলে বাংলা বিভাগের অধ্যক্ষ ও রিডার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ এবং ১৯৪৪ সালে অবসর গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত ঐ পদে অধ্যাপনা করেন। একই সাথে ১৯৪০-১৯৪৪ পর্যন্ত ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্ট ছিলেন। অবসর গ্রহণের পরপরই বগুড়ার আজিজুল হক কলেজের তিনি অধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন। ১৯৪৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে সংখ্যাতিরিক্ত অধ্যাপক নিযুক্ত হন। ১৯৫৩-৫৫ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ফার্সি ভাষার খণ্ডকালীন অধ্যাপক ছিলেন। ১৯৫৫ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগের অধ্যক্ষ পদের দায়িত্ব পান। ১৯৫৮ সালে তিনি শিক্ষকতার পেশা থেকে অবসর লাভ করেন।

১৯৫৯-১৯৬০ এ করাচিতে অবস্থিত উর্দু উন্নয়ন সংস্থা পরিচালিত উর্দু অভিধান প্রকল্পের সম্পাদক নিযুক্ত এবং এক বছরকাল সেখানে ছিলেন তিনি। ১৯৬০-এর ১ জুলাই ‘পূর্ব পাকিস্তানি ভাষার আদর্শ অভিধান’ প্রকল্পের প্রথম অংশ ‘পূর্ব পাকিস্তানি আঞ্চলিক ভাষার অভিধান’ প্রণয়নের কাজ সমাপ্ত করেন। ১৯৬৩-১৯৬৪ তে পূর্ব পাকিস্তান সরকার কর্তৃক নিযুক্ত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কমিশনের সদস্য। একই সময়ে ঢাকার ইসলামিক একাডেমির কার্যনির্বাহক সভার সদস্য। এর পাশাপাশি ইসলামী বিশ্বকোষ প্রকল্পের অস্থায়ী সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৬৩ সালে বাংলা একাডেমি কর্তৃক গঠিত ‘বাংলা পঞ্জিকার তারিখ নির্ণয় কমিটি’র সভাপতি হন। তাঁর নেতৃত্বে ওই কমিটি একটি বিজ্ঞানভিত্তিক ও যুক্তিযুক্ত ব্যবহারিক বাংলা পঞ্জিকা প্রস্তুত করে, যা বর্তমানেও অনুসৃত হয়ে থাকে। তিনি প্রিন্সিপাল আবুল কাশেম ও প্রিন্সিপাল ইবরাহিম খা সহযোগে মিরপুরে বাঙলা কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৬২-১৯৬৭ পর্যন্ত বাংলা কলেজের সাংগঠনিক সংসদ ও ব্যবস্থাপক সংসদের সভাপতি ছিলেন। তিনি আদমজী, দাউদ প্রভৃতি সাহিত্য পুরস্কার কমিটির স্থায়ী সভাপতিরূপেও দায়িত্ব পালন করেন।

বহু ভাষাবিদ পণ্ডিত ও প্রাচ্যের অন্যতম ভাষাবিজ্ঞানী মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ছিলেন একজন খাঁটি বাঙালি ও ধর্মপ্রাণ মুসলমান। তিনি ধর্মীয় অনুভূতি অপেক্ষা জাতীয় অনুভূতিকে অধিক গুরুত্ব প্রদান করেন। জাতীয় ও ধর্মীয় চেতনা সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য : ‘আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশী সত্য আমরা বাঙ্গালী। এটি কোন আদর্শের কথা নয়, এটি বাস্তব কথা। মা প্রকৃতি নিজের হাতে আমাদের চেহারায় ও ভাষায় বাঙ্গালিত্বেও এমন ছাপ রেখে দিয়েছেন যে মালা-তিলক-টিকিতে কিংবা টুপি-লুঙ্গি-দাড়িতে ঢাকবার জো-টি নেই’। মুহম্মদ শহীদুল্লাহর এ দুঃসাহসিক উক্তি বাঙালির জাতীয় চেতনা শাণিতকরণে মাইলফলকের ভূমিকা পালন করে। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার (১৯৪৭) পরপরই দেশের রাষ্ট্রভাষা উর্দু হবে, না বাংলা হবে এ বিতর্ক সৃষ্টি হলে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে জোরালো বক্তব্য উপস্থাপন করেন তিনি। তাঁর এ ভ‚মিকার ফলে পূর্ব বাংলায় রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের পথ প্রশস্ত হয়। ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনে শহীদুল্লাহ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ভাষা আন্দোলনের সময় বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে লেখনীর মাধ্যমে ও সভা-সমিতির বক্তৃতায় জোরালো বক্তব্য উপস্থাপন করে আন্দোলনের পথ প্রশস্ত ও গতি বৃদ্ধি করেন। পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষার প্রশ্নে ড. জিয়াউদ্দীন উর্দু ভাষার পক্ষে ওকালতি করলে ড. শহীদুল্লাহ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় এর প্রতিবাদ করে বলেন, ‘বাংলাদেশের কোর্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষার পরিবর্তে উর্দু বা হিন্দী ভাষা গ্রহণ করা হইলে, ইহা রাজনৈতিক পরাধীনতারই নামান্তর হইবে। ড. জিয়াউদ্দীন আহমদ পাকিস্তানের প্রদেশসমূহের বিদ্যালয়ে শিক্ষার বাহন রূপে প্রাদেশিক ভাষার পরিবর্তে উর্দু ভাষার পক্ষে যে অভিমত প্রকাশ করিয়াছেন, আমি একজন শিক্ষাবিদরূপে উহার তীব্র প্রতিবাদ জানাইতেছি। ইহা কেবল বৈজ্ঞানিক শিক্ষনীতির বিরোধীই নহে, প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন ও আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের নীতিবিগর্হিতও বটে।’ (পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা সমস্যা, দৈনিক আজাদ, ১২ শ্রাবণ ১৩৫৪)।

তিনি একজন সুযোগ্য পণ্ডিত এবং অর্ধশতাব্দীকাল শিক্ষক হিসেবে কাটিয়েছেন। শিক্ষা সম্বন্ধে তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ছিল সুদূরপ্রসারী। তিনি তাঁর অভিজ্ঞতার আলোকে হয়ত এটা স্পষ্ট দেখতে পেয়েছিলেন যে, যে জাতির শিশু সাহিত্যের গতি গঠনমূলক নয় এবং শিশু শিক্ষার সহকর্মী নয় যে জাতির বয়োজ্যেষ্ঠদের জন্য বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয় থাকলেও শিক্ষার প্রসার কোনো মতে সম্ভব নয়। শিশুর সুশিক্ষা এবং তাগের সুকুমার বৃত্তিগুলো বিকশিত হওয়ার মতো ক্ষেত্র সৃষ্টি করতে না পারলে ভবিষ্যতে কোনো কল্যাণকর কিছু তাদের কাছ থেকে পাওয়া যায় না। শিশুদের সুকুমার বৃত্তি প্রস্ফুটনের ক্ষেত্র হলো শিশু সাহিত্য। বলাবাহুল্য, আমাদের শিশু সাহিত্যের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তিনি। শিশু-কিশোরদের জন্যে তাঁর সচিত্র মাসিক পত্রিকা আঙুর-এর কথা অনেকে শুনে থাকবেন। আমাদের তৎকালীন সমাজে এই আঙুরই প্রথম এবং একমাত্র কিশোর পত্রিকা। অবশ্য এর পূর্বে ‘সন্দেশ’ ও ‘মৌচাক’ নামে আরো দুটি কিশোর পত্রিকা ছিল কিন্তু আঙুরের মতো সন্দেশ ও মৌচাক তেমনিভাবে আকৃষ্ট করতে পারেনি কিশোর সমাজকে। যদিও বাংলার আর্দ্র আবহাওয়ায় ‘আঙুর’ বেশি দিন বাঁচেনি (১৩২৭ বাংলা সালের বৈশাখ থেকে ১৩২৮ সালের জ্যৈষ্ঠ পর্যন্ত)। তবু এ স্বল্প কালকে ‘আঙুর’ এর স্বর্ণযুগ বলা যেতে পারে। এই পত্রিকাতেই লিখতেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, বেগম শামসুন নাহার মাহমুদ, ডাক্তার আব্দুল ওয়াহেদ, অধ্যাপক আলী আহমদ প্রমুখ। এই পত্রিকার প্রচ্ছদে থাকত আঙুরের গাছ এবং থলি থলি আঙুর। আঙুরের লোভে ছেলে-মেয়েরা চারদিকে মাতালের মতো ঘোরাফেরা করছে। তিনি ছিলেন এই পত্রিকার সম্পাদক।

এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, বিশাল জ্ঞান তিনি অর্জন করেছিলেন তা তাঁকে গোঁড়ামি অথবা অহংকারী করে তোলেনি। বরং এই বিশাল জ্ঞানরাজি তাঁকে দান করেছিল এক সুমহান ব্যক্তিত্ব। তিনি শুধু নিজধর্ম ইসলাম চর্চা করেননি অথবা আপন ধর্মে নিজেকে সঁপে দিয়ে অন্ধত্ব বরণ করেননি। অপরের ধর্মী পুস্তকাবলী পাঠ ও চর্চা করে তিনি দেখিয়ে গেছেন ধর্ম মানুষকে বেঁধে রাখতে পারে না। বরং ধর্ম মানুষকে দিয়েছে মহত্তম মুক্তি।

মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ সবসময় অসাধারণ হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করতেন। অসাধারণ কিছু শেখার এই স্পৃহাই যে তাকে এতগুলো ভাষায় বুৎপত্তি লাভের স্পৃহায়তা করেছিল সে বিষয়ে দ্বিমতের অবকাশ নেই। ভাবতে আশ্চর্য লাগে তিনি আঠারটি ভাষার ওপর পাণ্ডিত্য অর্জন করেছিলেন। ভাষাগুলো হলো- বাংলা, ইংরেজি, ফার্সি, জার্মান, সংস্কৃত, প্রাকৃত, আরবি, পার্সি, বৈদিক, আবেস্তান, তিব্বতী, উর্দু, হিন্দি, সিংহলী, মৈথিলি, উড়িয়া, আসামী এবং সিন্ধি। স্কুল জীবনেই তিনি বেশ কয়েকটি ভাষা আয়ত্তে এনেছিলেন। পারিবারিক ঐতিহ্য রক্ষার্থ শেখেন উর্দু এবং পার্সি। বিদ্যালয় সূত্রে শেখেন ইংরেজি, বাংলা এবং সংস্কৃত। আর হওড়াস্ব বাসার প্রতিবেশীর কাছ থেকে উড়িয়া ও হিন্দি ভাষা শিখেছিলেন। তাঁর জীবনের দুটি ঘটনা বিশেষ উল্লেখযোগ্য। এ দুটি ঘটনাকে তাঁর বিস্তৃত জ্ঞান-সাধনার দিকদর্শন বলা যেতে পারে।

আরবি ছিল তার পরিবারের প্রিয় ভাষা। অথচ এই আরবি ত্যাগ করে তিনি সংস্কৃতে এন্ট্রান্স পরীক্ষা দেন। এর কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলতেন, শিক্ষকের মারের ভয়ে। হুগলী জেলা স্কুলের তখনকার আরবি শিক্ষক নাকি কারণে-অকারণে ছাত্রদের বেদম প্রহার করতেন। শহীদুল্লাহ সাহেবের এটা পছন্দ হতো না। তাই তিনি আরবির পরিবর্তে সংস্কৃত পণ্ডিতের কাছে এসে ধরা দিলেন সংস্কৃতের শিক্ষার্থী হিসেবে। এমনিভাবে তিনি সংস্কৃত শিক্ষার উৎসাহ পেলেন। ১৯০৪ইং সনে তিনি সংস্কৃতকে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে নিয়ে এন্ট্রান্স পাস করেন। ১৯০৬ সালে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে এফএ পাস করার পর তিনি হুগলী কলেজে ভর্তি হন সংস্কৃতে অনার্স পড়বার জন্যে। এই সময় তিনি বেশ কিছুকাল ম্যালেরিয়া রোগে ভোগেন। বছর দুয়েক পড়াশুনা করতে পারেননি। কিন্তু তাতে হতোদ্যম হয়ে তিনি পড়েননি। কলকাতার সিটি কলেজ থেকে ১৯১০ সালে তিনি সংস্কৃতে অনার্সসহ বিএ পাস করেন। তাঁর আমলে একজন মুসলমান ছাত্রের পক্ষে সংস্কৃতে অনার্স পাস করাটা আশ্চর্যজনক ছিল বৈকি।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের সুপারিশক্রমে ও বগুড়ার নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী বাহাদুরের বদান্যতায় তিনি জার্মানিতে সংস্কৃতে উচ্চ শিক্ষালাভের জন্য একটি রাষ্ট্রীয় বৃত্তি পান। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তিনি ভালো মেডিকেল সার্টিফিকেট পাননি, তাই তাঁর আর জার্মানি যাওয়া হয়নি। কিন্তু এতেও তিনি হতোদ্যম হয়ে পড়েননি। প্রাচ্যের জ্ঞানভাণ্ডার তাঁকে বারবার হাতছানি দিয়ে ডাকছিল। সে ডাকে তিনি সাড়া দিলেন ১৯২৬ সালে। তিনি তথন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে অধ্যাপনা করছিলেন। দু’বছরের ছুটি নিয়ে প্যারিসের সরবন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেন নিজের খরচে। সেখানে তিনি বৈদিক, বৌদ্ধ, সংস্কৃত, তিব্বতী এবং প্রাচীন পার্সি ভাষা সম্বন্ধে গবেষণা শুরু করলেন। এর ফাঁকে ফাঁকে তিনি প্যারিসের ‘আর্কিভ ডি লা প্যারোল’ নাম ধ্বনিতত্ত্ব শিক্ষায়তনে ধ্বনিতত্ত¡ বিষয়ে শিক্ষালাভ করতে লাগলেন। সেখানে তিনি ‘লেস সনস ডু বেঙ্গলী’ নামে একটি গবেষণাপত্রের জন্য উক্ত শিক্ষায়তনের মানপত্র লাভ করে ছিলেন। এদিকে সরবন বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ‘লেশাঁ মিস্ত্রিক’ নামক তাঁর গবেষণা কর্মটি জমা দিয়ে জার্মানির ফ্রাইবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয় আসেন বৈদিক সংস্কৃত ও প্রাকৃত ভাষায় ব্যুৎপত্তি অর্জনের জন্যে। কিন্তু ছুটি ফুরিয়ে এল। সরবন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম শ্রেণির ডক্টরেট অব লেটারেচার ডিগ্রি নিয়ে ১৯২৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসেন।

এসআর