আগামী হজে ২০২০ সালের নিবন্ধনকারীদের অগ্রাধিকার

আগের সংবাদ

ইয়াবা সেবনে ভাইরাল সেই ছাত্রলীগ নেতাকে অব্যাহতি

পরের সংবাদ

জমি নিয়ে বাবা-মাকে ঘর ছাড়া করলেন ছেলেরা

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২০ , ৮:৩০ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২০ , ৮:৩৫ অপরাহ্ণ

সম্পত্তি লিখে নিয়ে বৃদ্ধ বাবা জামেরুল (৭০) ও মা রাশেদাকে (৬৫) ভরণপোষণ বন্ধ করে দিয়েছে তিন ছেলে। শুধু তাই নয়, খাবার চাওয়ার অপরাধে ওই বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে তিন ছেলের বিরুদ্ধে। ছেলেদের নামে জমি লিখে দেয়ার কারণে বৃদ্ধ বাবা-মার থাকার ঘরটিও ভেঙে নিয়ে গেছেন মেয়ে।

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গুরুদাসপুর পৌর সদরের ১নং ওয়ার্ড উত্তর নারী বাড়িতে ওই ঘটনা ঘটেছে। ছেলেদের হাতে নির্যাতিত বাবা-মা জানান, এক সময় তাদের সহায় সম্পত্তি ছিল।

স্ত্রী রাশেদা জানান, স্বামী প্যারালাইসিসের রোগী। তার চিকিৎসার জন্য জমিজমা শেষ। মাত্র তিন শতক জায়গা ছিল। সেই সম্পত্তি লিখে নেন তিন ছেলে। তাদেরকে ভরণপোষণ করানোর আশ্বাস দিয়ে ওই সম্পত্তি লিখে নেয় তিন সন্তান জালাল (৪৫) আলাল (৪২) ও রসুল (৩৮)। কিছুদিন পর তার ভরণপোষণ বন্ধ করে দেয় ছেলেরা।

বৃদ্ধা রাশেদা আরো জানান, রবিবার ছোট ছেলে মোফাজ্জলের কাছে খাবার চান তিনি। তখন তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতে থাকে মোফাজ্জল। এক পর্যায়ে বৃদ্ধা মাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। এ সময় তারা উপায়ান্ত না পেয়ে পাশ্ববর্তী শহীদ মবিদুল উচ্চ বিদ্যালয়ের বারান্দায় আশ্রয় নেয়। পরবর্তীতে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মিটিং করতে এসে ওই দৃশ্য দেখে তাদেরকে একটা কক্ষ খুলে দেন।

আর্তনাদ করে রাশেদা আরো জানান, খাবারের কষ্ট আর অভাবের তাড়নায় ১নং ওয়ার্ডের কমিশনার মো.মুজিবুর রহমানের কাছে ত্রাণ চান । তিনি তার ছেলেদের ডেকে পাঠান। ত্রাণের তালিকায় বৃদ্ধার নাম দিতে চান মুজিবুর। কিন্তু ছেলেরা নাম দিতে দেয়নি।

স্থানীয় ১নং ওয়ার্ডে কমিশনার মুজিবুর রহমান বলেন, ত্রাণের জন্য বৃদ্ধা আমার কাছে এসেছিল। আমি মাঝে মধ্যেই ত্রাণ সহায়তা দিয়ে থাকি। ছেলে ও ছেলেদের স্ত্রী কেউ দেখতে পারে না। তাই ওই স্কুলে গিয়ে থাকে। বৃদ্ধা মা-বাবাকে বাড়ি থেকে বের করে দেবার ঘটনা তিনি আগে থেকেই জানেন

অভিযুক্ত ছেলেদের মধ্যে বড় ছেলে জালাল জানায়, তার ঘর-বাড়ি ভাঙা হয়েছে। এ কারণে তাকে কয়েক দিনের জন্য বাড়ির বাহিরে থাকতে বলা হয়েছে। পাশেই ছোট ছেলে রসুলের ছাদ বিল্ডিং বাসা ফাঁকা রয়েছে ।

গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. মোজাহারুল ইসলাম বলেন, এ ব্যাপারে কোনো খবর পাইনি। এ বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি। যদি অভিযোগ সত্য হয়, তাহলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ তমাল হোসেন জানান, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়