নিউ নরমাল জনজীবনে টেলিমেডিসিনের পসার

আগের সংবাদ

শঙ্কা কাটছে না হল মালিকদের

পরের সংবাদ

রাজশাহীর শিল্পীরা ঘরেই করছেন সংস্কৃতি চর্চা

শরীফা বুলবুল:

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২০ , ৯:৫৯ পূর্বাহ্ণ

স্থবির জেলাভিত্তিক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড

শিক্ষানগরী রাজশাহী। শিল্প, সাহিত্য, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও এক প্রাণবন্ত শহর। এখন তার কোনো কোলাহল নেই। মঞ্চে নাটক নেই। নেই নৃত্যশিল্পীর নূপুরের ঝংকার। নেই বাচিক শিল্পীদের কণ্ঠের মুখরতা। করোনা মহামারির কারণে বন্ধ মঞ্চ। বন্ধ রয়েছে সংস্কৃতিকর্মীদের সম্মিলন। তবে ঘরে থেকে নিজস্ব পরিসরে নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানসিক স্বস্তি ও নিজেদের বিনোদিত করার চেষ্টা করছেন সংস্কৃতিকর্মীরা। কিন্তু তাতে যেন ছন্দ নেই!

সীমিত আকারে সব কিছু খুলে দেয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কিন্তু সামাজিক দূরত্ব বজায়ের এ সময়ে আগের মতো কার্যক্রম শুরু করা অনেকখানি কঠিন। করোনা ভাইরাসের কারণে একদিকে যেমন দর্শক বেরুচ্ছেন না ঘর থেকে, ঠিক তেমনি জনসমাগম এড়াতে বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানও বন্ধ রেখেছেন তাদের সাংস্কৃতিক কার্যক্রম। এছাড়া করোনা সংক্রমণের ভয় থেকেও অনেক শিক্ষার্থী সংগঠনে আসতে চাইছে না বলে মনে করছেন সাংস্কৃতিক সংগঠকরা।

এছাড়া অবস্থার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত জোটভুক্ত সব সাংস্কৃতিক সংগঠনকে অনুষ্ঠান আয়োজনে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। এমন অবস্থায় যেন স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের গোটা সাংস্কৃতিক অঙ্গন। কোথাও নেই কোনো ধরনের আয়োজন। জানতে চাইলে রাজশাহী সাংস্কৃতিক সংঘের সভাপতি মো. আনিসুর রহমান ভোরের কাগজকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ থাকায় সংগঠনের অবস্থা খুবই খারাপ। কারণ আমাদের সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক। বিশ^বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে আছে। বিশ্ববিদ্যালয় না খোলা পর্যন্ত এই স্থবিরতা কাটবে না।

রাজশাহী বিভাগের দীর্ঘ ৫৫ বছরের সাংস্কৃতিক সংগঠন নবরূপী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সহসাধারণ সম্পাদক সিফাত ই জাহান বলেন, আমরা স্কুল কলেজ খোলার অপেক্ষায় আছি। কারণ স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরাই আমাদের সংগঠনের প্রাণ। সংক্রমণের ভয়ে যদিও অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের সংগঠনে পাঠাতে সাহস পাচ্ছেন না। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভয়কে জয় করেই আমরা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাব।

গণশিল্পী সংস্থার কার্যনির্বাহী সদস্য বিপ্লব ভৌমিক বলেন, নিজের পেশার ওপর নির্ভরশীল ঢোলবাদক, গিটারিস্ট, তবলা বাদক, ব্যান্ডকর্মীরা করোনার আঘাতে সম্পূর্ণ বেকার হয়ে পড়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া ৫ হাজার টাকা প্রণোদনাও কেউ কেউ পেয়েছে। সে টাকায় কদিনই বা চলে? জেলা প্রশাসক কিংবা ব্যক্তি পর্যায় থেকে কেউ ত্রাণ দিলেও লাইনে দাঁড়িয়ে সেসব সহায়তা অনেকে নিতে কুণ্ঠাবোধ করেন।

অনেকে পেশা পাল্টানোর চিন্তা করছে, কিন্তু ছোট শহরে সীমাবদ্ধতা অনেক উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো কিছুই তো এখন আর বন্ধ নেই। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অনুমতি দেয়া উচিত। অন্তত এ পেশার ওপর নির্ভর করে যাদের জীবন-জীবিকা টিকে আছে।

দর্পন সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক মীর ফজলুল করিম বাচ্চু বলেন, ছয় মাস চলে গেছে সংস্কৃতি চর্চা থেকে দূরে আছি। করোনার কারণে জনজীবন এখনো বিপর্যস্ত। তবে এবার আমরা প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছি। মহড়াও শুরু করেছি। আমরা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সবসময় মানুষের জয়গান গেয়েছি। করোনা সহজে যাবে না। তাই পরিস্থিতি সামাল দিয়ে শত প্রতিকূলতার মধ্যেও আমাদের জয়গান থামবে না।

প্রগতি সংঘের সাধারণ সম্পাদক মো. আমজাদ হোসেন বলেন, প্রগতির পথে এক সংগ্রামী জীবন প্রগতির। লাখো শহীদের আত্মত্যাগের চেতনায় দেশকে প্রগতির পথে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দৃঢ প্রত্যয় উচ্চারিত হয় এ সংগঠনের কর্মীদের কণ্ঠ থেকে। কিন্তু স্কুল বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা স্টাডি সার্কেলে আসতে পারছে না। সব থেকে গেছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের ভাড়া থেকে শুরু করে কর্মীদের বেতন থেমে নেই। আর্থিক কষ্টের মধ্যে সংগঠন চালিয়ে নিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জনস্বার্থের কথা বিবেচনায় রেখে সামগ্রিক পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন থেকে বিরতি থাকার জন্য সব জেলা ও উপজেলা সাংস্কৃতিক জোট এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানানো যাচ্ছে। সব কিছুর আগে জনগণের সুরক্ষায় প্রধান বিষয়।

এমআই