কাউন্টারে মিলছে ট্রেনের টিকিট

আগের সংবাদ

জেলে অত্যাচার ও ধর্ষণের হুমকির শিকার রিয়া!

পরের সংবাদ

দৃশ্যমান প্রায় ৫ কিলোমিটার

করোনায় মেট্রোরেলে মন্থর গতি

দেব দুলাল মিত্র

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২০ , ১২:০৯ অপরাহ্ণ

করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রকোপে মেট্রোরেল প্রকল্পের গতি কমেছে। ফলে ২০২১ সালের ডিসেম্বরের আগে মেট্রোরেল চালু হচ্ছে না। চলতি বছরের ডিসেম্বরে প্রকল্পের প্রথম অংশে রেল চালু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আশানুরূপভাবে অগ্রগতি না হওয়ায় মেয়াদ এক বছর পিছিয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দৃশ্যমান হয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মোট ৮টি প্যাকেজের আওতায় পুরো মেট্রোরেল প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। এখন প্রথম অংশের সুপার স্ট্রাকচারের নির্মাণকাজ চলছে। একদিকে রেলের ট্র্যাক বসানো হচ্ছে, আবার কোথাও পিলারের কাজ চলছে। প্রকল্পের আগারগাঁও অংশে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ এগিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন। ট্র্যাক বসানো শেষে মেট্রোরেলের বাণিজ্যিক পরিচালনা শুরু হবে। কিন্তু ট্র্যাকের ওপর দিয়ে চলাচলের রেলকোচ এখনো জাপান থেকে ঢাকায় আসেনি। করোনার প্রকোপে জাপান থেকে শিপমেন্ট হচ্ছে না। সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক এই প্রকল্পের সব দিকের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।

নিরবচ্ছিন্নভাবে সবসময় মেট্রোরেল চলাচলের জন্য দিয়াবাড়িতে নিজস্ব বিদ্যুৎ ব্যবস্থার জন্য নিজস্ব পাওয়ার স্টেশন নির্মাণকাজও অনেক এগিয়েছে। প্যাকেজ-৩ ও প্যাকেজ-৪ এর আওতায় উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত প্রকল্পের প্রথম অংশের নির্মাণকাজ ৪০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। কোনো কোনো বিভাগে এই অগ্রগতি ৯০ শতাংশের কাছাকাছি। প্রায় ৫ কিলোমিটার দৃশ্যমান হয়েছে।

উত্তরায় দিয়াবাড়িতে মেট্রোরেলের ডিপো নির্মাণের জন্য মাটির উন্নয়নকাজ শেষ এবং ডিপোর অবকাঠামো নির্মাণ চলছে। এছাড়া রেলের ট্র্যাক নির্মাণের তিনটি ভাগ শেষ হয়েছে। বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা স্থাপন এবং ইঞ্জিন ও কোচ তৈরির কাজ চলছে। ফার্মগেট থেকে মতিঝিল পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে মেট্রোরেলের অবকাঠামো নির্মাণ কাজের অগ্রগতি ভালো। দশতলা বিশিষ্ট কন্ট্রোল রুম ও অন্যান্য কয়েকটি ভবন নির্মাণকাজ শেষের দিকে এগিয়ে চলছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অপারেশন কন্ট্রোল টাওয়ার, প্রধান ওয়ার্কশপ নির্মাণ, স্ট্যাবলিং ইয়ার্ড (বিরতির সময় ট্রেন রাখার স্থান), ট্রেন মেরামত ও ওভারহোলের মালামালের গুদামঘর নির্মাণের কাজ চলছে।

এছাড়া ট্রেন মেরামত ও ওভারহোল স্থান, ট্রেন ইন্সপেকশন, জেনারেটর ও ইলেকট্রিক্যাল ভবন, ট্রেন ওয়াশ স্থাপনা, ম্যানুয়াল ট্রেন ওয়াশিং, বহুতল কার পার্কিং ও গ্রিন স্পেসের কাজও চলছে। জানা গেছে, ডিএমটিসিএল প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন নিয়মিত সরকারের কাছে দিতে হয়।

এতে দেখা গেছে, উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত অংশের কাজের অগ্রগতি কোথাও ৪০ শতাংশ আবার কোনো কোনো অংশে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। এই প্রকল্পের সঙ্গে একাধিক দেশের প্রকৌশলী ও নির্মাণ সংস্থা জড়িত রয়েছে। করোনার কারণে সব ক্ষেত্রেই কাজের গতি থমকে গেছে। নতুন করে আবার শুরু হলেও তা আশানুরূপ গতিতে এগোয়নি। এ কারণে সরকার প্রকল্পের মেয়াদ আরো এক বছর বাড়িয়েছে।

মেট্রোরেলের কোচগুলো ঘণ্টায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার গতিতে চলবে। উত্তরা থেকে ৩৫ মিনিটে কমলাপুর পৌঁছবে। উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ১৬টি স্টেশনে যাত্রী উঠানামা করাবে। স্টেশনগুলো হলো উত্তরা-উত্তর, উত্তরা-সেন্টার, উত্তরা-দক্ষিণ, পল্লবী, মিরপুর-১১, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কাওরানবাজার, শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ সচিবালয় ও মতিঝিল।

ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন সিদ্দিক জানান, করোনা ভাইরাসের কারণে মেট্রোরেলের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। একটানা প্রায় সোয়া দুই মাস প্রকল্পের কাজ বন্ধ ছিল। এখন কাজ শুরু হওয়ার পর দ্রুত এগিয়ে চলছে। প্রথম অংশের দিয়াবাড়ি থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত অনেক অগ্রগতি হয়েছে। আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত অবকাঠামোগত কাজেরও অনেক উন্নতি হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে না।

এনএম