কুড়িগ্রাম-রমনা রেললাইনের ৪'শ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

আগের সংবাদ

বাফুফে নির্বাচনে আপত্তি নেই কারো বিরুদ্ধে

পরের সংবাদ

স্বরূপে ফিরছে বায়ুদূষণের অস্বস্তি

সাধন সরকার

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২০ , ৮:৪৭ অপরাহ্ণ

করোনা ভাইরাস মহামারি মোকাবিলায় কয়েক মাস গণপরিবহন চলাচল বন্ধ ছিল। অস্বস্তির মধ্যেও সামাজিক দূরত্ব মেনে অতঃপর সবকিছু স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে! ফলে আবার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পরিবেশের ওপর। স্বরূপে আবার ফিরছে বায়ুদূষণের সেই চিরচেনা অস্বস্তি। করোনাকালে ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরের উন্নয়ন কাজ, যানবাহন চলাচল, অন্যান্য নির্মাণকাজ ও ইটভাটা বন্ধ থাকার কারণে বায়ুদূষণ ছিল না বললেই চলে! কিন্তু স্বরূপে দূষণের সেই যন্ত্রণা ভর করেছে নগরবাসীর জীবনে। বায়ুদূষণ ছিল না বলেই শিশু, বয়স্কসহ সব বয়সী মানুষ নগরীয় জীবনে পেয়েছিল স্বস্তির সুবাতাস। সবাই মনেপ্রাণে সবসময় এমন দূষণমুক্ত নগরী আকাক্সক্ষা করেছিল! নগরের আশপাশের দূষণকারী ইটভাটা, অপরিকল্পিত নির্মাণকাজ ও ফিটনেসবিহীন যান চলাচল শুরু করাই নগরবাসীর সে আশায় গুড়েবালি। শান্ত প্রকৃতি-পরিবেশের ওপর আবারো সেই বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে! বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে যত আলোচনা বা কথা হয় সে পরিমাণ কাজ হয় না! পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, শুষ্ক মৌসুমে বায়ুদূষণ, সামান্য বর্ষায় কাদা আর পুরো বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা যেন রাজধানীবাসীর অমোঘ নিয়তি! ধুলাদূষণ শুধু নাগরিক জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলছে না, ঢাকার বাতাসে ভেসে বেড়ানো ভারী ধাতু মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

সাম্প্রতিককালে একাধিক গবেষণায় উঠে এসেছে ঢাকার বিভিন্ন রাস্তার ধুলাবালিতে সর্বোচ্চ মাত্রায় সিসা, নিকেল, ক্রোমিয়াম, ক্যাডমিয়াম, দস্তা, আর্সেনিক, কপার ও ম্যাঙ্গানিজের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। নিত্যদিনের চলাচলে এসব সূ² ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বস্তুকণা খুব সহজেই ত্বকের সংস্পর্শে আসে এবং শ্বাস-প্রশ্বাসসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তা মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। ঢাকার বাতাসে ভারী ধাতুর উপস্থিতি পৃথিবীর অন্যান্য দেশের শহর থেকে অনেকগুণ বেশি। ঢাকা শহরে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণ কাজ, তীব্র যানজটের ফলে নির্গত ধোঁয়া, ঢাকার আশপাশের ইটভাটার দূষণ, মেয়াদোত্তীর্ণ মোটরযান ও শিল্পকারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত ভারী ধাতু ধুলার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। পুরনো যানবাহনের আধিক্য, ধাতু গলানোর কারখানার দূষণ ও ব্যাটারিচালিত যানবাহন চলাচল ভারী ধাতুর অন্যতম উৎস।

ট্যানারি ও ডাইং শিল্পসহ মাটি থেকে সীমিত পরিমাণ ভারী ধাতুও ধুলার সঙ্গে মিশে বাতাসকে দূষিত করে তুলছে। রাস্তাঘাট ও ঘরের বাইরে তো বটেই; বাড়িঘরের মধ্যে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষে ও খেলার মাঠে ছড়িয়ে পড়ছে এসব ভারী ধাতুর দূষণ। বিশেষ করে শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছে। দূষণের কারণে নগরবাসীর মধ্যে শ্বাসকষ্ট থেকে শুরু করে দীর্ঘদিন ধরে দূষণের শিকার হতে হতে শরীরে বাসা বাঁধছে ক্যানসারসহ নানা ধরনের রোগবালাই। দূষণ নিয়ন্ত্রণে রাজধানীর রাস্তাসহ নির্মাণাধীন জায়গা ঘিরে দেয়াসহ ধুলামাখা স্থানে দুবেলা পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করতে হবে। পরিবেশ সুরক্ষা আইনের যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে। দূষণকারী কর্তৃপক্ষ যত শক্তিশালী হোক না কেন কোনো ছাড় দেয়া যাবে না। বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের সঙ্গে জড়িত কর্তৃপক্ষকেও পরিবেশ সুরক্ষা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। শুধু পরিবেশ অধিদপ্তরের একার পক্ষে পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব নয়। সরকারের অন্য সংস্থাগুলোর কাজের সমন্বয় ও সতর্কতা থাকলে পরিবেশ রক্ষায় সুফল আসবে বলে মনে করি।

৫/এ নারিন্দা রোড, নারিন্দা,
সূত্রাপুর, ঢাকা।

[email protected]

এসআর