ফের ক্রিকেটারদের কলতানে মুখরিত মিরপুর

আগের সংবাদ

নদীভাঙন রোধে করণীয়

পরের সংবাদ

শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানুষিক সুস্থতা জরুরি

মোমতাহিনা জান্নাত মায়া

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২০ , ৮:১২ অপরাহ্ণ

মরিতে চাহি না আমি এ সুন্দর ভুবনে; মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই। কবিগুরুর মতো সব মানুষই চাই সুন্দর পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে। কেউ চাই না মরণের আগেই তাকে কেউ হত্যা করুক। কিন্তু কেন এত আত্মহত্যা? এ প্রশ্নের জবাব দিতে হয়তো মনোবিজ্ঞানের জগতে ডুব দিতে হবে কিংবা জরিপ ও গবেষণায় চোখ বোলাতে হবে। গবেষকদের মতে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যা করে কিশোর ও তরুণরা। বিশেষ করে স্কুলপড়–য়া মেয়েদের মধ্যে এ হার সবচেয়ে বেশি। ২০২০ সালে আত্মহত্যার পরিমাণ আরো বাড়তে পারে। কোভিড-১৯-এর ঘরবন্দির দিনগুলোতে বাড়ছে তরুণদের হতাশা।

বেকারত্ব, পারিবারিক কলহ, প্রেমঘটিত সমস্যা ও হতাশা, ইভটিজিং ইত্যাদি নানা কারণে তরুণ সমাজে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েই চলছে। এ থেকে মুক্তির জন্য সমাজ ও দেশেরও কিছু দায়িত্ব আছে। সমাজ এ আত্মহত্যার দায় কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। আত্মহত্যার পেছনের কারণগুলো বের করে, সমাধানের পথে এগোতে হবে। আমরা কতটা গুরুত্ব দিচ্ছি আমাদের নিজেদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায়? বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কেই ক’জন জানে? বাংলাদেশের শিক্ষিত জনসমাজেও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি উদাসীনতা পরিলক্ষিত হয়। আত্মহত্যার প্রবণতা দেখার পরও আমরা কাউন্সেলিং নিয়ে ভাবি না। যার ফলস্বরূপ প্রতিদিন আত্মহত্যার জরিপে যুক্ত হচ্ছে আমাদের আপনজনদের নাম।

তাছাড়া ইন্টারনেটের যুগে আমাদের আচরণে এসেছে নিদারুণ পরিবর্তন। সম্পর্কগুলোকে আমরা যান্ত্রিক করে ফেলছি। সন্তানদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করছি। সন্তানদের সঙ্গে আমরা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়তে চাই না। তাদের মতামতের গুরুত্ব দিতে চাই না। ব্যস্ত জীবনে পরিবারের সঙ্গে সুন্দর সময় কাটাতেই ভুলে যাচ্ছি। জীবনে দুঃখ, হতাশা থাকবেই। এ হতাশাকে কাটিয়ে উঠতে পারলেই আমরা আবার নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারি। তাই হতাশায় পীড়িত মানুষগুলোর পাশে থাকা জরুরি। শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি নজর দিতে হবে আরো বেশি। আমাদের একটু সচেতনতাই পারে ঝরে যেতে চাওয়া কোনো ফুলকে সজীব করে তুলতে।

শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

[email protected]

এসআর