ভ্যাকসিন ট্রায়াল নিয়ে বিতর্ক

আগের সংবাদ

ইভ্যালির অনিয়মের সত্যতা মিলেছে

পরের সংবাদ

বাংলাদেশে করোনা

বেড়েছে চিকিৎসা সুবিধা, কমেছে জনসচেতনতা

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২০ , ৯:২৭ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২০ , ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ

বিশ্বের করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমিত দেশগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পর সর্বোচ্চ সংক্রমণ পর্যায়ে (পিক লেভেল) পৌঁছাতে সময় লেগেছে আড়াই থেকে তিন মাস। কিন্তু ব্যতিক্রমী ছিল বাংলাদেশে। ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত ব্যক্তি শনাক্ত হয়। এরপর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে রোগীর সংখ্যা। কিন্তু শুরুতে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি আছে- এমন দাবি করলেও কিছু দিনের মধ্যে স্পষ্ট হয় যে, সেগুলোর অধিকাংশই ছিল ফাঁকা বুলি। এ কারণে স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি, চিকিৎসা সরঞ্জামসহ চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ানের ঘাটতির কারণে করোনা আক্রান্তদের ভুগতে হয়েছে নানা দুর্ভোগে। কিন্তু করোনা সংক্রমণের ছয় মাসে পরিস্থিতি বদলেছে অনেক। বাংলাদেশে করোনা চিকিৎসার সুযোগ-সুবিধা বেড়েছে। অন্যদিকে কমেছে করোনাবিষয়ক স্বাস্থ্য সচেতনতা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনায় শুধু বাংলাদেশেরই নয়, বিশে^র বিভিন্ন উন্নত দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থারও করুণ চিত্র সামনে এনেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ যথেষ্ট সময় পেলেও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে। পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকার পরও স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে প্রস্তুতির কোনো কমতি নেই। দেয়া হয়েছে ভুল ব্যাখ্যা। এছাড়া শুরুর দিকে সচেতনতারও অভাব ছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নতি হয়েছে। এই ছয় মাসে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে চিকিৎসা সরঞ্জামের সংখ্যা বেড়েছে। বাড়ানো হয়েছে জনবল, নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষায় ল্যাব এবং রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতালের সংখ্যা।

এপ্রিল মাসে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশে পরিপূর্ণ নিবিড় পর্যবেক্ষণ ইউনিট (আইসিইউ) রয়েছে মাত্র ১১২টি। এখানে পরিপূর্ণ আইসিইউ বলতে বিশেষ ধরনের শয্যা, কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য ভেন্টিলেটর, টিউব, পাম্প, হার্টরেট, রক্তচাপসহ অন্যান্য শারীরিক পরিস্থিতির তাৎক্ষণিক চিত্র পাওয়ার মনিটরসহ নানা আধুনিক মেডিকেল সরঞ্জাম সম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবাকে বোঝানো হয়েছে। এই সংখ্যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫০টিতে। সাধারণ বেডের সংখ্যা এখন ১৪ হাজার ৪৪৯। যদিও এ সংখ্যা ১৫ হাজারো ছাড়িয়েছিল। পরে তা কমানো হয়। এখন সরকারি ও বেসরকারি করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত করা হয়েছে ২৮টি হাসপাতাল। অক্সিজেন সিলিন্ডারের সংখ্যা ১৩ হাজার ১১টি, এক সময় হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা প্রায় ছিলই না বলা যায়। যা এখন রয়েছে ৪৯০টি আর অক্সিজেন কনসেনট্রেটর সংখ্যা হয়েছে ১৭ টি।

করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. শহীদুল্লাহ মনে করেন, চিকিৎসা ও সুরক্ষা সরঞ্জামের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। এক এক করে সমস্যার সমাধান হচ্ছে। জরুরি চিকিৎসার জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার, অক্সিজেন কনসেনট্রেটর, হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলাসহ অন্যান্য সরঞ্জামাদিও বাড়ছে।

জাতীয় পরামর্শক কমিটির সদস্য ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম ভোরের কাগজকে বলেন, দেশে করোনা সংক্রমণ শুরুর পর রোগীদের চিকিৎসায় যে পরিস্থিতি ছিল এখন তার যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। তবে আইসিইউসহ এই বিশেষ পরিস্থিতিতে যারা করোনার জন্য নির্ধারিত হাসপাতালে সেবা দিয়েছেন তাদের আরেকটুু আন্তরিক হওয়া দরকার বলে আমি মনে করি।

জনস্বাস্থ্যবিদ অধ্যাপক ডা. চিন্ময় দাস ভোরের কাগজকে বলেন, করোনা চিকিৎসা এখন অনেকটাই শৃঙ্খলার মধ্যে এসেছে। তবে এখনো অনেকের মধ্যে হাসপাতাল বিমুখ মনোভাব দেখা যায়। এর পেছনে অবশ্য বেশ কিছু কারণ রয়েছে। সংক্রমণের শুরুর দিকে যখন প্রস্তুতিও ঘাটতি ছিল তখন বলা হলো সবার হাসপাতালে যাওয়ার দরকার নেই। কিন্তু এখন দেখা গেছে শনাক্তের হার কমলেও মৃত্যু হার ঊর্ধ্বমুখী। এর বেশির ভাগ মৃত্যু হচ্ছে হাসপাতালে দেরিতে আসায়। এখন আবার বলা হচ্ছে ঘরে বসে না থেকে হাসপাতালে যাওয়ার জন্য। তবে এখন হাসপাতালে চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কমিটির অপর এক সদস্য ভোরের কাগজকে বলেন, সরকার শুরুতে করোনা নিয়ে তথ্য লুকিয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী পর্যাপ্ত আছে, আইসিইউ বেড তৈরি আছে। তিনি এমনভাবে কথা বলতেন মনে হয়, সব কিছুর প্রস্তুতিই ছিল। কিন্তু এসব যে মিথ্যাচার ছিল তা পরে প্রকাশিত হয়েছে। এই মিথ্যাচারের কারণে জনগণের দুর্ভোগ বেড়েছে।

এমআই/পিআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়