লক্ষ্মীপুরে সেফটিক ট্যাংকে নেমে দুই নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু

আগের সংবাদ

কুড়িগ্রাম-রমনা রেললাইনের ৪'শ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

পরের সংবাদ

দুরবস্থায় মধ্যবিত্ত মানুষেরা

অলোক আচার্য

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২০ , ৮:৪০ অপরাহ্ণ

করোনা ভাইরাসের প্রভাব হবে দীর্ঘমেয়াদি। বিশ্ব অর্থনীতির মূল ধাক্কাটা যাবে কর্মী ছাঁটাইয়ের মধ্য দিয়ে মনে করা হচ্ছে। এর মধ্যেও রয়েছে মধ্যবিত্ত শ্রেণি। যেখান থেকে দুটো পথ থাকে। এক. ধনী হওয়ার পথ। দুই. দরিদ্রের কাতারে নাম লেখানোর পথ। অনেকেই করোনার ধাক্কায় চাকরি হারিয়েছে অথবা বেতন কমে গেছে। অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের বেঁচে থাকার জন্য নানা পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ঋণ সুবিধা প্রদান। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো করোনা পরিস্থিতি উন্নত করা। এখন রাস্তাঘাটে মানুষ যেভাবে চলাফেরা করছে তাতে স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা খুব কম জনই করছে। এতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরো দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। ভ্যাকসিন আসা পর্যন্ত আমাদের অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি আবশ্যিকভাবে মানতে হবে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) তথ্য মতে, দেশের ১৬ কোটি মানুষের ৪ কোটি পরিবারের মধ্যে নিম্নবিত্ত ২০ শতাংশ, উচ্চবিত্ত ২০ শতাংশ আর বাকি ৬০ শতাংশ নিম্ন, মধ্য ও উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবার। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) জরিপ বলছে, ফরমাল সেক্টরে কাজ করা ১৩ শতাংশ মানুষ চাকরি হারিয়েছে। ১১ হাজার টাকার কম আয়ের ৫৬ দশমিক ৮৯ শতাংশ পরিবারের আয় বন্ধ হয়ে গেছে এবং ৩২ শতাংশ মানুষের আয় কমে গেছে। ১৫ হাজার টাকা আয়কারী ২৩ দশমিক ২ শতাংশের আয় পুরো বন্ধ হয়ে গেছে এবং ৪৭ দশমিক ২৬ শতাংশের আয় কমে গেছে। ৩০ হাজার টাকার বেশি আয়কারী ৩৯ দশমিক ৪ শতাংশের কমেছে এবং ৬ দশমিক ৪৬ শতাংশের আয় বন্ধ হয়ে গেছে।

বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের এক জরিপে দেখা গেছে, করোনার প্রভাবে ৩৬ মানুষ চাকরি হারিয়েছেন। ৩ শতাংশের চাকরি থাকলেও বেতন পান না। এদের বড় অংশই মধ্যবিত্ত। এছাড়া করোনার প্রভাবে দেশে নিম্নবিত্তের আয় ৭৫ ভাগ কমেছে। আগের তুলনায় চরম দারিদ্র্যের সংখ্যা বেড়েছে ৬০ ভাগ। বৈশি^ক প্রবৃদ্ধির অন্যতম নিয়ামক চীন, আমেরিকা ও ইউরোপজুড়ে বিভিন্ন দেশে এই ভাইরাস অর্থনীতিতে ধস নামিয়েছে। দোকানপাট, বিমান চলাচল সব বন্ধ থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। যেখানে নিরাপত্তাই মুখ্য সেখানে এর থেকে ভালো উপায় হয় না। এর ফলে আর্থিক বিশ^মন্দার বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে বলে সতর্ক করেছেন অর্থনীতিবিদরা। বোঝাই যাচ্ছে করোনার প্রভাব যখন স্থিমিত হওয়া শুরু করবে তখন দেশ এক নতুন চ্যালেঞ্জে পড়বে। সেই চ্যালেঞ্জ দারিদ্র্য মোকাবিলা করে অর্থনীতি পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জ। আপাতত চ্যালেঞ্জ হলো নিজেদের নিরাপদ দূরত্বে রেখে করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা করা। এজন্য ঘরে থাকতেই হবে। কিন্তু ঘরে থাকার দিনগুলোতে দিনমজুর, মুটে, ক্ষুদ্র পেশাজীবী যারা দিন আনে দিন খায় তাদের সংসার চালানোর পথ তৈরি করতে হবে। এর প্রধান পথই হলো সহায়তা করা। সরকার তাই করছে। বিত্তবানরা এগিয়ে এসেছে। কিন্তু এসব মানুষের সংখ্যা নেহায়েত অল্প নয় যে তা রাতারাতি সবাইকে করা সম্ভব হবে। এর সঙ্গে মধ্যবিত্তদের বাঁচানোর জন্যও পরিকল্পনা করা প্রয়োজন।

পাবনা।

[email protected]

এসআর