অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে লাগাম দরকার

আগের সংবাদ

পানি নিষ্কাশন সঠিকভাবে না হওয়ায় রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে

পরের সংবাদ

করোনা-পরবর্তী শিক্ষা খাতের চ্যালেঞ্জ

মো. তাসনিম হাসান আবির

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২০ , ৭:৫৪ অপরাহ্ণ

দীর্ঘ প্রায় ৬ মাস ধরে বাংলাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে করোনা ভাইরাসের কারণে। বৈশ্বিক এই মহামারির কারণে বাংলাদেশের সব সেক্টর ধীরে ধীরে খুলে দিলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে। এবং সব থেকে বেশি প্রভাব পড়ছে শিক্ষা খাতে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কবে খোলা হবে সে বিষয়টা এখনো অনিশ্চিত। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে বলা হচ্ছে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ একদম সর্বনিম্ন পর্যায়ে না আসা পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন আসে, তাহলে করোনা-পরবর্তী শিক্ষা খাতের সামনে কি কি চ্যালেঞ্জ আসবে। সহজেই অনুমান করা যায় যে করোনা-পরবর্তী সময়ে শিক্ষা খাতকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। ইতোমধ্যেই প্রাইমারি ও মাধ্যমিক পর্যায়ে কিছু নীতিমালা তৈরি হয়েছে যে কীভাবে সংকট মোকাবিলা করা যায়। সেখানে অক্টোবরে খুললে একরকম সিলেবাস তৈরি করেছেন এবং নভেম্বরে খুললে আরেকরকম সিলেবাস তৈরি করেছেন। আর এ বছরে যদি খোলা সম্ভব না হয় তবে অটোমেশন ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। পিইসি, জেএসসি পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। এসএসসি নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো দূর হয়নি। কিন্তু দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষা পর্যায় এবং শিক্ষা-পরবর্তী চাকরি বাজারের কি হবে সে বিষয়টা নিয়ে সব থেকে বেশি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। প্রথমত সেশনজটের প্রবল সম্ভাবনা আছে। কারণ দীর্ঘ ৬ মাস ধরে বন্ধ আছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। বছরের একটি সেমিস্টারও নেয়া সম্ভব হয়নি। এখন সেপ্টেম্বর মাস চলছে। সামনে এ বছরের আর মাত্র ৩ মাস বাকি আছে। এই ৩ মাসে খুলবে কিনা সেটাও নিশ্চিত নয়। আবার অক্টোবরে খুললেও দুই সেমিস্টার নেয়া সম্ভব নয়। তাই কয়েক মাসের সেশনজট হয়তো অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠছে। আর শিক্ষার্থীরা সেশনজটে পড়লে সবক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন হবে। দ্বিতীয়ত, চাকরির বয়স প্রসঙ্গ। সরকারি চাকরির বয়স ৩০ বছর পর্যন্ত।

সেক্ষেত্রে আমরা দেখছি ইতোমধ্যেই প্রায় ১ বছর সময় নষ্ট হয়ে গেল প্রত্যেকের জীবন থেকে। বিশেষ করে যারা গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে চাকরিপ্রত্যাশী ছিল তাদের জন্য এটা অনেক বড় ক্ষতি। আমরা সবাই জানি সরকারি চাকরিপ্রাপ্তি বা নিয়োগ অনেকটা সময়ের ব্যাপার পুরো প্রসেস শেষ হতে। তাই যাদের বয়স ২৮, ২৯ ছিল বা হয়তো আর কয়েক মাস বাকি ছিল চাকরির বয়স শেষ হতে তারা সমস্যায় পড়ে যাবে। এক্ষেত্রে ইতোমধ্যেই সরকারি চাকরির বয়স ৩২ বা ৩৫ করার দাবি উঠেছে। এবং পরিকল্পনামন্ত্রীর কথাতেও একটা আশা জেগেছে যে হয়তো করোনা-পরবর্তী সময়ে চাকরির বয়স বৃদ্ধি করা হবে। এটা করা উচিত। অন্তত যেসব ব্যাচের গ্র্যাজুয়েশন শেষ হয়েছে তাদের জন্য হলেও। তৃতীয়ত, করোনা-পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে। কারণ যদি প্রাইমারি বা মাধ্যমিক লেভেলে অটোমেশন করা হয় তবুও পরবর্তী ক্লাসে তাদের সিলেবাসে পূর্ববর্তী ক্লাসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এ বিষয়টা ইতোমধ্যেই অনেক বিশেষজ্ঞরা বলেছে। তখন চলমান ক্লাসের সিলেবাস+ পূর্ববর্তী বিষয় শেষ করা শিক্ষার্থীদের বাড়তি চাপ হয়ে যাবে। আবার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও দুটো সেমিস্টার শেষ করার তাড়া থাকবে। তখন তাদেরও বাড়তি চাপ সামলাতে হবে। চতুর্থত, বাংলাদেশে গবেষণায় বিরূপ প্রভাব পড়বে। কারণ বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে সঙ্গে গবেষণাও বন্ধ আছে। গবেষকরা বেশিরভাগ ঘরে অবস্থান করছেন। তারা গবেষণার জন্য বাইরের কোনো দেশে আপাতত যেতে পারছে না। প্রতি বছরই অনেক গবেষক বাইরে থেকে পিএইচডি ডিগ্রি নিয়ে আসে এবং অনেক গবেষক গবেষণার জন্য বাইরে যায়। এখন এসব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

এখন আমাদের সামনে সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ হলো কীভাবে শিক্ষা খাতের এই ক্ষতিকে পুষিয়ে নেয়া যায়। শিক্ষার্থীদের যাতে অতিরিক্ত কোনো চাপ না দেয়া হয় সে বিষয়টা খেয়াল রাখতে হবে। আর যথোপযুক্ত বাস্তববাদী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। শিক্ষা খাতকে কোনোভাবেই অবহেলা করা যাবে না। কারণ একটি জাতির ভবিষ্যৎ এখান থেকেই বের হয় এবং ভবিষ্যৎ নির্ধারণও হয় শিক্ষা খাতের সফলতা, ব্যর্থতার ওপর। করোনা একদিন চলে যাবে, কিন্তু যে শিক্ষাটা আমাদের দিয়ে যাচ্ছে সেটা যেন আমরা সবাই বিবেচনায় রাখি। করোনা-পরবর্তী সময়ে সবাই মিলে শিক্ষা খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

[email protected]

এসআর