বেড়েছে চিকিৎসা সুবিধা, কমেছে জনসচেতনতা

আগের সংবাদ

অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনে একজন অসুস্থ, ট্রায়াল স্থগিত

পরের সংবাদ

ইভ্যালির অনিয়মের সত্যতা মিলেছে

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২০ , ৯:৩৩ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২০ , ৯:৩৪ পূর্বাহ্ণ

অধিক তদন্তে কাজ করছে সাত সংস্থা

কোনো ধরনের অভিযোগ প্রমাণ হবে না- ডিজিটাল বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেল এমন আশাবাদ ব্যক্ত করলেও প্রাথমিক তদন্তে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে অনিয়মের সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। এজন্য ইভ্যালির পুরো কার্যক্রম অধিকতর খতিয়ে দেখতে সরকারের সাত সংস্থাকে চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে ইভ্যালির এমডি বলেছিলেন, আমরা দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে ফিরে আসবো। আমরা আশা করছি ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার আগেই ইভ্যালির সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দেয়া হবে। ফলে আমরা সেই অবধি অপেক্ষা করব। কেউ হয়তো কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়ে থাকতে পারে। আমরা বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছি। ব্যাংক হিসাব বন্ধ করার ৫ দিনের মধ্যে সব কাগজপত্র আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিয়েছি।
ডিজিটাল বাণিজ্যিক

প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ ওঠায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম নিয়ে ইতোমধ্যেই তদন্ত করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। প্রাথমিক তদন্তে ইভ্যালির কার্যক্রমে প্রতারণা, জালিয়াতি এবং সময়মতো পণ্য সরবরাহ না করাসহ নানা অনিয়মের সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। এবার ইভ্যালির পুরো কার্যক্রম অধিকতর খতিয়ে দেখতে সরকারের সাত সংস্থাকে চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে- দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ইভ্যালির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ ওঠায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম খতিয়ে দেখতে গত ২৫ আগস্ট এফটিএ অনুবিভাগের যুগ্মসচিব মো. আবদুস সামাদ আল আজাদকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এ কমিটি তাদের তদন্ত প্রতিবেদন গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য সচিব ড. জাফর উদ্দীনের কাছে হস্তান্তর করেছে। তদন্ত কমিটি ইভ্যালির কার্যক্রমে প্রতারণা, জালিয়াতি এবং সময়মতো পণ্য সরবরাহ না করাসহ নানা অভযোগের সত্যতা পেয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অধিকতর তদন্তের জন্য গত রবিবার চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে বাণিজ্য সচিব ড. জাফর উদ্দীন বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে ইভ্যালির কার্যক্রম আরো বেশি খতিয়ে দেখতে সরকারের বিভিন্ন সংস্থাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এসব সংস্থার তদন্ত প্রতিবেদনে যদি অনিয়ম প্রমাণিত হয় তাহলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ইভ্যালির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সূত্র জানায়, দেশে ইবাণিজ্যের প্রসার ঘটাতে চাচ্ছে সরকার। তবে সম্প্রতি ডিজিটাল বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। তাই ইভ্যালিসহ ইবাণিজ্যকে নিয়মের মধ্যে আনতে ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে গত ২৭ আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ইবাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মের মধ্যে থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করতে বাধ্য করার তাগিদ দেন। ইবাণিজ্যের প্রসার ঘটাতে গিয়ে যেন কোনো ভোক্তা প্রতারিত না হন, সেদিকে কঠোরভাবে নজরদারি করতে বলা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে নিয়মের মধ্যে থেকে ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এমআই

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়