চিরনিদ্রায় তারিক আলী

আগের সংবাদ

মইনুলকে ধমকের পাল্টা প্রতিশোধ ওয়াহিদাকে হত্যাচেষ্টা

পরের সংবাদ

করোনা হাসপাতালের কী হবে

সেবিকা দেবনাথ

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২০ , ৯:২০ পূর্বাহ্ণ

আড়াই মাস ধরে রোগী ভর্তি কম
১২টি হাসপাতাল বন্ধের সুপারিশ
তাড়াহুড়া নয় : বিশেষজ্ঞদের মত

জুনের মাঝামাঝি সময়েই করোনা চিকিৎসায় নির্ধারিত হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা কমতে থাকে। কয়েকটি হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা নেমে আসে প্রায় শূন্যতে। নির্ধারিত ওই হাসপাতালগুলোতে গড়ে সাড়ে ১০ হাজারেরও বেশি বেড ফাঁকা থাকছে। শুধু সাধারণ বেডই নয়; ফাঁকা থাকছে আইসিইউ বেডও। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রোগী কম ভর্তি হয় এমন হাসপাতালগুলোকে নন-কোভিড হাসপাতাল হিসেবে ঘোষণা করার কথা জানিয়ে আসছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

বিষয়টি নজরে আসার পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সারাদেশের করোনা রোগীদের জন্য নির্ধারিত হাসপাতালের আইসিইউসহ বেড সংখ্যা, রোগী ভর্তির তথ্যসহ বিস্তারিত তথ্য জানতে চাওয়া হয়। গত ২৬ আগস্ট রোগী কমে গেছে এমন ১২টি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল বন্ধের সুপারিশ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে তালিকা দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে ঢাকায় ৯টি, চট্টগ্রামে ২টি ও সিলেটে একটি। ওই হাসপাতালগুলো হলো ঢাকার লালকুঠি মা ও শিশু হাসপাতাল, মহানগর জেনারেল হাসপাতাল, সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল, রেলওয়ে হাসপাতাল, সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল, হলি ফ্যামিলি রেডক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রামের হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম রেলওয়ে হাসপাতাল, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

২ সেপ্টেম্বর হলি ফ্যামিলি রেডক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কোভিড চিকিৎসা বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তবে কবে থেকে হাসপাতালে করোনা রোগীদের সেবা দেয়া বন্ধ হবে তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। এর আগে দীর্ঘ দিন ধরে রোগী ভর্তি না থাকায় কমলাপুর রেলওয়ে হাসপাতালে সংযুক্তিতে পদায়নকৃত সব চিকিৎসক-নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর সংযুক্তির আদেশ বাতিল করে ২২ জুলাই এক প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি করোনা হাসপাতালের সংখ্যা ২৮টি। এর মধ্যে ১৯টি সরকারি ও ৯টি বেসরকারি হাসপাতাল। বিভাগ অনুযায়ী হাসপাতালের সংখ্যা ঢাকা মহানগরীতে ১৬টি, চট্টগ্রামে ৮টি, ঢাকা জেলায় একটি, নারায়ণগঞ্জে দুটি আর গাজীপুরে একটি। করোনা রোগীদের জন্য নির্ধারিত হাসপাতালে ১৪ হাজার ৪৭৪টি সাধারণ বেড আর আইসিইউ বেড আছে ৫৫০টি। গতকাল সোমবার সাধারণ বেড ফাঁকা ছিল ১০ হাজার ৯১১টি। আর আইসিইউ বেড ফাঁকা ছিল ২৪৩টি।

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. ফরিদ হোসেন মিঞা ভোরের কাগজকে জানান, করোনার জন্য নির্ধারিত কোনো কোনো হাসপাতাল বন্ধ করা যায় এর তালিকা চাওয়া হয় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। সেই নির্দেশ অনুযায়ী রোগী কমে গেছে এমন

১২টি হাসপাতালের তালিকা পাঠানো হয়। ওইসব হাসপাতাল পর্যায়ক্রমে বন্ধ হলে সেখান থেকে লোকবল ফিরিয়ে এনে যেসব হাসপাতালে সংকট আছে, তাদের সেখানে দেয়া হবে। তিনি বলেন, বেসরকারি হাসপাতালে ব্যয় বেশি। রোগীও কম। এজন্যই বেসরকারি হাসপাতাল বন্ধ করা হচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে বেশ কিছু বিষয় বিবেচনা করতে হচ্ছে। যেমন ওই হাসপাতালে সাধারণ বেড ও আইসিইউতে রোগী আছে, সরকারের সঙ্গে তাদের চুক্তি হয়েছে। আর্থিক বিষয়গুলোও জড়িত। সব দিক বিবেচনা করেই কোভিড হাসপাতাল নন-কোভিড করা হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ভোরের কাগজকে বলেন, জুন মাসের শেষের দিক থেকেই হাসপাতালগুলোতে করোনা রোগী ভর্তির সংখ্যা কমতে থাকে। রোগী কম থাকলেও সেখানে চিকিৎসক ও নার্সসহ অন্যান্য স্টাফ নিয়োগের ফলে জনবল সংকটে অন্য রোগের চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে ২৮ আগস্ট কোভিড-১৯ জনস্বাস্থ্যবিষয়ক জাতীয় কমিটির সদস্যদের সঙ্গে অনলাইনে সভা করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। সেখানে মহাপরিচালক বলেন, অনেক হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগী ভর্তির সংখ্যা কমে গিয়েছে। সেক্ষেত্রে যেসব হাসপাতাল মাল্টিডিসিপ্লিনারি সেগুলোকে আমরা নন কোভিড হিসেবে ঘোষণা করতে পারি কিনা বা সীমিত আকারে কোভিড রেখে নন কোভিড সার্ভিস চালু করতে পারি কীনা।

কমিটির সদস্যরা বলেন, আমাদের কোভিড ও নন-কোভিড সার্ভিস, টেস্ট অ্যাসিম্পটোমেটিক কেস বিবেচনা করে পরিকল্পনা করতে হবে। ট্রায়াজ ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে হবে। সার্ভিলেন্সের জন্য বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করতে হবে। সেই অনুযায়ী সংক্রমণের চতুর্থ থেকে তৃতীয় ধাপে আসতে আমাদের তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে এবং একই হাসপাতালে কোভিড ও নন কোভিড সার্ভিস চালু করতে হবে।

এখনই করোনার জন্য নির্ধারিত হাসপাতাল বন্ধ করা ঠিক হবে না বলে মনে করেন করোনা মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম। তিনি ভোরের কাগজকে বলেন, এসব হাসপাতাল একেবার বন্ধ করার সময় এখনো হয়নি। মানুষের মনে করোনা ভাইরাস নিয়ে এক ধরনের উদাসীন ভাব চলে এসেছে। মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা তাদের মধ্যে নেই বললেই চলে। হাসপাতাল বন্ধ হলে তারা ভাববে দেশ থেকে করোনা উধাও হয়ে গেছে। যারা স্বাস্থ্যবিধি মানছেন তারাও নিরুৎসাহিত হবে। এছাড়া আমরা জানি, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনা রোগীর সংখ্যা কমে এলেও সেই দেশগুলোতে দ্বিতীয়বারের মতো করোনা হানা দিয়েছে। আমাদের দেশে যদি তেমনটা হয় তবে পরিস্থিতি হবে ভয়াবহ। কোনো প্রকার ঢিলেমির সুযোগ নেই।

করোনা মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভোরের কাগজকে বলেন, দেশে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে কারিগরি পরামর্শক কমিটির সুপারিশ সরকার বরাবরই উপেক্ষা করে আসছে। হাসপাতাল বন্ধের বিষয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। আমাদের মতামত জানতে চাওয়া হয়নি। তবে আমি বলব এখনই কোভিড হাসপাতালগুলো বন্ধ না করে আমাদের আরো কিছুদিন পর্যবেক্ষণ করা উচিত। করোনার সঠিক বিজ্ঞানভিত্তিক সার্ভিলেন্স করে আগামীতে করোনা ভাইরাসের গতিপ্রকৃতি বুঝে সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যদি এখন বন্ধও করা হয় রোগী বাড়লে যাতে তা পুনরায় সহজেই কোভিড হাসপাতাল হিসেবে চালু করা যায় সেই দিকটি বিবেচনায় নিতে হবে।

পিআর