গর্ভপাত সংক্রান্ত ধারাগুলো কেন বেআইনি নয়

আগের সংবাদ

চলে গেলেন কথাসাহিত্যিক সাংবাদিক রাহাত খান

পরের সংবাদ

বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

প্রকাশিত: আগস্ট ২৮, ২০২০ , ৯:৩৪ অপরাহ্ণ আপডেট: আগস্ট ২৮, ২০২০ , ৯:৩৪ অপরাহ্ণ

বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ বেশি হয় বলে সরকার এখনো ভর্তুকি দিচ্ছে। বিদ্যুৎ ব্যবহারে গ্রাহকরা যেন সচেতন হয়, বিদ্যুতের অপচয় যেন না করে- এমন আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত বৃহস্পতিবার গণভবন থেকে বিদ্যুতায়ন কার্যক্রম উদ্বোধন করে তিনি এই আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানকে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে। এক্ষেত্রে শুধু গ্রাহক পর্যায়ে সাশ্রয় প্রচেষ্টার পাশাপাশি গুরুত্ব দিতে হবে বিতরণ পর্যায়ে অপচয় রোধেরও। বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধিতে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের দৃশ্যমান সাফল্য রয়েছে, তার জন্য নিশ্চয়ই তারা প্রশংসার দাবিদার। ২০২১ সালের মধ্যে সবার জন্য বিদ্যুৎ নিশ্চিত করার রোডম্যাপ রয়েছে সরকারের। ২০২১ সালে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে দেশে শতভাগ বিদ্যুতায়ন লক্ষ্য। পর্যায়ক্রমে ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা তৈরি হবে বলেও জানান সরকারপ্রধান। তবে এখনো দেশের ৪০ শতাংশেরও বেশি মানুষ বিদ্যুতের ন্যূনতম সেবা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত। বঞ্চিত গ্রামীণ এলাকাকে বিদ্যুতের আওতায় আনতে গেলে আরো বিদ্যুতের জোগান প্রয়োজন, প্রয়োজন বিদ্যুৎ বিতরণ লাইনের সম্প্রসারণ। এ খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎপাদন বৃদ্ধির সমানতালে বিতরণ ও সঞ্চালন অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনার উন্নতি না হওয়ার কারণে উৎপাদন বৃদ্ধির সুফল কাক্সিক্ষত মাত্রায় পাওয়া যাচ্ছে না। জরাজীর্ণ ও দুর্বল সঞ্চালন ও বিতরণ লাইনের কারণে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা, বিদ্যুৎ বিভ্রাট। স্থানীয় বিতরণ ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে অনেক জায়গায় গ্রাহককে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অন্যদিকে ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার কারণে ঠেকানো যাচ্ছে না চুরি, অপচয়। দেশে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সঠিকভাবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সব গ্রাহক সাশ্রয়ী হলে বিদ্যুতের দুর্ভোগ অনেকটা লাঘব হতো। বিদ্যুতের অপচয় রোধ ও সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহারে জনসচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু গ্রাহক পর্যায়ে সাশ্রয় প্রচেষ্টার পাশাপাশি গুরুত্ব দিতে হবে বিতরণ পর্যায়ে অপচয় রোধেরও। আধুনিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে এ খাতের ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম-দুর্নীতি দূর করতে হবে। এতে গ্রাহকসেবার মান বাড়বে, অর্থনৈতিক উন্নয়নও হবে ত্বরান্বিত। আরেকটি বিষয় যা উল্লেখ না করলেই নয়, তা হলো সেবা খাতে লাভ-লোকসানের অঙ্ক কষার চেয়ে ভোক্তাদের সেবা নিশ্চিত করাই অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা। বিদ্যুৎ খাত দেশের একটি অন্যতম সেবা খাত হিসেবে বিবেচিত। এ খাতে লোকসান কমানোর কথা বলে বারবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হচ্ছে, যদিও লোকসান কাটিয়ে ওঠা যাচ্ছে না। এখানেও চিন্তায় রাখা দরকার, গ্রাহকের ওপর চাপ না বাড়িয়ে সাশ্রয়ী জোগান নিশ্চিত করে, অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনাকে উন্নত করে চুরি, অপচয়-দুর্নীতি কমিয়ে এই লোকসানকে কীভাবে সামাল দেয়া যায়।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়