কৃষি উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শিতা ও বর্তমান বাস্তবতা

আগের সংবাদ

বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

পরের সংবাদ

গর্ভপাত সংক্রান্ত ধারাগুলো কেন বেআইনি নয়

প্রকাশিত: আগস্ট ২৮, ২০২০ , ৯:২৮ অপরাহ্ণ আপডেট: আগস্ট ২৮, ২০২০ , ৯:২৮ অপরাহ্ণ

আমি মাঠ প্রশাসনে বহু বছর কাজ করেছি, প্রান্তিক এবং এমনকি ধনবান নারীরও গর্ভপাতজনিত মৃত্যু এবং দীর্ঘমেয়াদি যন্ত্রণার কথা, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের প্রাতিষ্ঠানিক ও বস্তুগত সীমাবদ্ধতার কথা আমি জানি। আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি না থাকায় অত্যাবশ্যকীয় এ কাজটি লুকোচুরির মধ্য দিয়ে চলছে এবং এটাকে সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করে সেবা প্রদানকারীরা (যোগ্যতা ও দক্ষতা থাকুক বা না-ই থাকুক) বিপদে পড়া গর্ভবতী নারীর নিকট থেকে কখনো কখনো অবিশ্বাস্য রকম অর্থও আদায় করছেন।

চলমান বিপজ্জনক করোনাকালে দণ্ডবিধির ৩১২ থেকে ৩১৬- এই পাঁচটি ধারা কেন বেআইনি নয়, তা জানতে চেয়ে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ রুল জারি করেছে। বিষয়টি আমলে নিয়ে আদালতের এই রুল জারিতে গর্ভপাত সংক্রান্ত ধারাগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আলোচনা রুলগ্রহীতা, বার ও বেঞ্চ সবার জন্যই সহায়ক হবে। ৫টি ধারা কেন অবৈধ হবে না, তা জানাতে পদ্ধতিগতভাবে প্রথমে সরকারকে আইনি নোটিস দেয়া হয়। সরকার সাড়া না দেয়ায় আদালতে রিট আবেদন করা হলে তা মঞ্জুর করে সরকারের ওপর রুল জারি করে সরকারকে কারণ জানাতে নির্দেশ হয়। সাড়া না দেয়ার ব্যাপারটি সরকারের, তা যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক, সহজাত স্বভাব, তবে উচ্চ আদালতের হুকুম জারি হলে সহজাত নির্লিপ্ততা থেকে বেরিয়ে আসতে হয়।
দণ্ডবিধির ৩১২ থেকে ৩১৬, এই ধারাগুলো সম্পর্কে অবহিত হওয়া দরকার।
৩১২ ধারা : গর্ভধারিণীর জীবন বাঁচানোর উদ্দেশ্য ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে গর্ভপাত করা বা করানোর অপরাধ। এ ক্ষেত্রে গর্ভধারিণী নারী নিজেও অপরাধী হতে পারে। অপরাধ প্রমাণিত হলে তিন বছর পর্যন্ত যে কোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়ই হতে পারে।
গর্ভের শিশু সচল হওয়ার পর যদি এই অপরাধকর্ম করা হয় তাহলে কারাদণ্ডের প্রকৃতি আগের মতো হলেও সর্বোচ্চ মেয়াদ সাত বছর পর্যন্ত হতে পারে।
৩১৩ ধারা : গর্ভধারিণীর সম্মতি ছাড়া গর্ভপাত ঘটানোর অপরাধ। এ ক্ষেত্রে অপরাধী গর্ভসঞ্চারকারী ব্যক্তিও হতে পারেন, অন্য কেউও হতে পারেন।
অপরাধ প্রমাণিত হলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা ১০ বছর মেয়াদ পর্যন্ত যে কোনো বর্ণনার কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড উভয়ই হতে পারে।
৩১৪ ধারা : গর্ভপাত ঘটানোর উদ্দেশ্যে কোনো কাজ সম্পাদিত করলে যদি গর্ভধারিণীর মৃত্যু হয়, এই অপরাধ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তির ১০ বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড দুই-ই হতে পারে।
আর এই কাজটি যদি গর্ভধারিণীর সম্মতি ছাড়া করা হয়ে থাকে এবং তাতে তার মৃত্যু ঘটে থাকে তাহলে তার যাবজ্জীবন বা উপরে বর্ণিত বর্ণনার দণ্ড হতে পারে।
৩১৫ ধারা : গর্ভস্থ শিশু ভ‚মিষ্ঠ হওয়ার আগে বা ভ‚মিষ্ঠ হওয়ার পর মারা যাওয়ার মতো অপরাধমূলক কাজ যদি কেউ করে থাকে, তাহলে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পর তার অনধিক ১০ বছর সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়ই হতে পারে।
৩১৬ ধারা : যেসব অপরাধমূলক কাজে নরহত্যা করা সম্ভব সে ধরনের কোনো অপরাধমূলক কাজের মাধ্যমে গর্ভের জীবন্ত অজাত, শিশুর মৃত্যু ঘটালে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পর তার অনধিক ১০ বছর সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড উভয়ই হতে পারে।
সব ধারাতেই সংশ্লিষ্ট ডাক্তার বা চিকিৎসা সেবাদানকারীর আসামি হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। অপরাধের প্রকৃতির ওপর জামিনপ্রাপ্তির যোগ্যতা এবং মীমাংসাযোগ্যতা আদালত নির্ধারণ করে থাকে। ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির বা ব্যক্তিসমূহের কিছু কিছু সুযোগ প্রাপ্তি এবং অপ্রাপ্তি আইনই সুনির্দিষ্ট করে থাকে। ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধি ৩১২ থেকে ৩১৬ ধারার অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ রাখেনি। জামিন প্রাপ্তির প্রশ্নে কেবল ৩১২ ধারাই জামিনযোগ্য, ৩১৩ থেকে ৩১৬ ধারার কোনোটাই জামিনযোগ্য নয়। তবে বিচারকের বিচারিক মন ও বিচারিক বিবেচনারও এ ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিরাজমান পরিস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা থাকবে।
হাইকোর্টে রিট আবেদনকারী আইনজীবী সৈয়দা নাসরিন বাস্তবিকই জনস্বার্থে এই মামলাটি দায়ের করেছেন। তিনি বলেছেন, মূলত ব্যক্তি স্বাধীনতা ও ব্যক্তির পছন্দ (চয়েস) নিশ্চিত করতে এই রিট দায়ের করেছি। বাস্তবতা বিবেচনা করলে মামলার ভয়ে অনেক ডাক্তার-নার্স গর্ভপাত করাতে চান না। তাই প্রতিষ্ঠিত ডাক্তার-নার্সদের দিয়ে গর্ভপাত করানো সম্ভব হয় না। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় ডাক্তার-নার্সদের বাসায় নিয়ে অন্তঃসত্ত্বা নারীর গর্ভপাত করান অনেকে। এর ফলে গর্ভপাতটি সঠিকভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয় না এবং পরবর্তীতে সেটি অন্যান্য জীবননাশক রোগের কারণ হয়ে ওঠে। এ কারণে নারীদের ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকিও বেশি থাকে। রিট আবেদনের পক্ষে আরো বলেন, গর্ভপাতের সুযোগ না থাকায় পথশিশু ও এতিমখানার শিশুদের হার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই ধারাগুলোতে ধর্ষণের শিকার নারীর গর্ভপাতের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ সুযোগ রাখা হয়নি। সংসার জীবনেও অনেকের অপ্রত্যাশিত সন্তানের জন্ম হচ্ছে। মূলত ওই সময়ে সন্তান নেয়ার জন্য প্রস্তুতি না থাকা সত্তে¡ও আইনের বাধার কারণে তাদের বাচ্চার জন্ম দিতে হচ্ছে। তাই আইনের ধারাগুলো চ্যালেঞ্জ করে এই রিট পিটিশন দায়ের করেছি। (ভোরের কাগজ, ১৯ আগস্ট ২০২০)
দণ্ডবিধি ৩১৩ ধারাটির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এই ধারাটি কি নারী স্বার্থের পরিপন্থি? এটিকে কেন বেআইনি ঘোষণা করতে হবে? গর্ভধারিণীর সম্মতি ছাড়া তার ওপর শক্তি প্রয়োগ করে কিংবা তাকে প্রতারণা করে যদিও গর্ভপাত করানো হয় কিংবা গর্ভপাত করানোর চেষ্টা করা হয় এ ক্ষেত্রে তো অপরাধীকে শাস্তি পেতেই হবে। সুতরাং গর্ভপাত সংক্রান্ত আইনের আওতায় থাকলেও ৩১৩ ধারাকে নারীবান্ধব বিবেচনা করে রুলবহিভর্‚ত রাখার জন্য পুনরায় একই আদালতে আবেদন করা সমীচীন হবে। অথবা আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিষয়টি পৃথকভাবে বিবেচনা করবে।
গর্ভপাতের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে নারীর স্বাস্থ্য ও তার ইচ্ছের ওপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত বলে মনে করা হলেও সামাজিক-রাজনৈতিক এবং সর্বোপরি ধর্মীয় বিধানসমূহ এর সঙ্গে জড়িয়ে যায়। ফলে এমনকি প্রগতিশীল হিসেবে চিহ্নিত দেশগুলোতেও অ্যাবরশনের ব্ল্যাক চেক দেয়া হয়নি। কিন্তু প্রয়োজনে নিরাপদ গর্ভপাতের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।
একটি বাস্তবতার দিকে মনোযোগ দেয়া দরকার। ধর্ষণ এবং কিছু প্রতারণামূলক সহবাস (এটি দণ্ডবিধির ৪৯৩ ধারায় বিবৃত, এ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হওয়া প্রয়োজন) ছাড়া আর প্রায় সব যৌন সম্পর্ক স্থাপনে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পুরুষ ও নারীর ব্যবহার্য জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী সুলভ এবং হাত বাড়ালেই পাওয়া যায়- এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার পর গর্ভপাতের হার অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে।
প্রতিবেশী ভারত অন্তত এ ধরনের মামলা আদালতে নিতে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে। বাংলাদেশের পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় রক্ষণশীলতার কারণে গর্ভপাতের অনুমোদন গ্রহণ করার জন্য কেউ আদালতের দ্বারস্ত হচ্ছেন না। ভারতে সবাই অনুমতি পাচ্ছেন এমন নয়। অনেক প্রত্যাখ্যানের নজিরও আছে। তবে অন্তত গর্ভধারিণীর স্বাস্থ্য বিবেচনায় এনে গর্ভপাতের ভিত্তি অনেকটাই সম্প্রসারিত হয়েছে।
বাংলাদেশেও দেদার ঘটছে অননুমোদিত গর্ভপাতের ঘটনা। অলিতে-গলিতে সাইনবোর্ড চোখে পড়বে- ‘এখানে এমআর ও ডিএন্ডসি করা হয়’। আমাদের চোখের সামনেই মেনস্ট্রুয়াল রেগুলেশন বা মাসিক নিয়মিতকরণের নামে গর্ভপাত চলছে- এর অধিকাংশই অস্বাস্থ্যকর উপায়ে, স্বল্প অভিজ্ঞ কিংবা অনভিজ্ঞ হাতে। এমনকি এমবিবিএস ডিগ্রিধারী, মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের সনদধারী ডাক্তার হলে এই বিশেষ কাজে যদি উত্তম প্রশিক্ষণ এবং অভিজ্ঞতা না থাকে তাহলে তিনিও কোনোভাবেই নির্ভরযোগ্য নন। হাতুড়ে গর্ভপাতকারীর হাতে নারীর মৃত্যু এখনো নিত্যকার ঘটনা; এই ঢাকা শহরের কেন্দ্রে এমবিবিএস ডিগ্রিধারী ডাক্তারের অনভিজ্ঞ হাতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে গর্ভধারিণীর মৃত্যু এবং চেম্বার গুটিয়ে রাতারাতি ডাক্তারের পালিয়ে যাওয়াও আমি দেখেছি। আমি মাঠ প্রশাসনে বহু বছর কাজ করেছি, প্রান্তিক এবং এমনকি ধনবান নারীরও গর্ভপাতজনিত মৃত্যু এবং দীর্ঘমেয়াদি যন্ত্রণার কথা, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের প্রাতিষ্ঠানিক ও বস্তুগত সীমাবদ্ধতার কথা আমি জানি।
বাংলাদেশের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় দণ্ডবিধিতে কেবল নারীর জীবন রক্ষার প্রয়োজন ছাড়া গর্ভপাত যে পরিস্থিতিতেই অনিবার্য হয়ে উঠুক না কেন তা অবৈধ এবং এ ধরনের গর্ভপাতে অংশগ্রহণকারী সবাই আইনত অপরাধী। তবে ১৯৭৯ সাল থেকে পরিবার-পরিকল্পনা কর্মসূচির অংশ হিসেবে এমআর-মাসিক নিয়মিতকরণের নামে গর্ভপাত (যদিও ১২ সপ্তাহর বেশি বয়সী ভ্রুণের বেলায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে) অব্যাহত আছে। আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি না থাকায় অত্যাবশ্যকীয় এ কাজটি লুকোচুরির মধ্য দিয়ে চলছে এবং এটাকে সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করে সেবা প্রদানকারীরা (যোগ্যতা ও দক্ষতা থাকুক বা না-ই থাকুক) বিপদে পড়া গর্ভবতী নারীর নিকট থেকে কখনো কখনো অবিশ্বাস্য রকম অর্থও আদায় করছেন। স্বাস্থ্যসেবার মান ও মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে হাজারটা প্রশ্ন তো রয়েছেই।
এডভোকেট সৈয়দ নাসরিনের রিট আবেদন হাইকোর্ট আমলে নিয়েছে বলেই রুল জারি করেছে। দণ্ডবিধির ধারা ক’টি কেন অবৈধ হবে না সরকারকেই তার জবাব দিতে হবে। জবাব প্রদানে ব্যর্থতা বা দীর্ঘসূত্রতা যে আদালত অবমাননার শামিল সরকারের তা অজ্ঞাত থাকার কথা নয়। সাধারণত সরকারের অবস্থানটি রক্ষণশীল হয়ে থাকে। হয়তো এই ধারাগুলোর যৌক্তিকীকরণ করেই জবাব প্রদান করবে; তাতে উপেক্ষিত থেকে যাবে নারীর অধিকার, প্রয়োজন ও পছন্দের বিষয়টি। সরকারের জবাবে ‘সেক্যুলার ডিসকাশন’ থাকার সম্ভাবনা কম। এই ধারাসমূহ কী কী মঙ্গল করছে তার শপিং লিস্টও জবাবে থাকতে পারে, কিন্তু কী কী অমঙ্গল সাধিত হচ্ছে তার বিবরণ এবং পরিসংখ্যানগত হিসাব না থাকারই কথা। একজন নাগরিক হিসেবে একজন চিকিৎসক স্ত্রীর স্বামী হিসেবে, একটি পুত্র ও একটি কন্যা সন্তানের জনক হিসেবে এবং মাঠ প্রশাসনের সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সাবেক কর্মী হিসেবে আমিও চাই সুনির্দিষ্ট, সুস্পষ্ট, রাজনীতি ও গোষ্ঠীতোষণবর্জিত জবাব হাইকোর্টে দাখিল হোক। আদালত বিচার-বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবে।
এই উদ্যোগটির জন্য বার ও বেঞ্চ উভয়েই সাধুবাদ পেতে পারে- অন্তত গর্ভপাতের বিধিবিধান নিয়ে চাকাটি তো ঘুরতে শুরু করেছে।
গর্ভপাত ভারতেও ‘ক্রিমিনালাইজড’ অবস্থায় ছিল (আইনের যথাযথ চর্চা না হওয়ায় এখনো ভারতের অনেক জায়গাতেই একই অবস্থায় রয়ে গেছে)। গর্ভপাতের বিষয় একটি অখণ্ড ও নিরপেক্ষ সমীক্ষার আওতায় আনার জন্য ১৯৬৪ সালে ভারত সরকার শান্তিলাল শাহর নেতৃত্বে যে কমিটি গঠন করে সে কমিটির সুপারিশ অনুসরণ করেই ১৯৭১-এর আগস্টে ভারতে পাস হয় মেডিকেল টার্মিনেশন অব প্রেগন্যান্সি অ্যাক্ট- তাতে গর্ভপাত মাত্রই ‘ক্রিমিনালাইজড’ হওয়া থেকে মুক্ত হয়েছে, গর্ভপাতের ভিত্তি অনেকটাই সম্প্রসারিত হয়েছে। সম্ভবত এই ইঙ্গিতটুকু হাইকোর্টের পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ করে দেবে।
(আগামী সপ্তাহে গর্ভপাত আইনের প্রয়োগ)

ড. এম এ মোমেন : সাবেক সরকারি চাকুরে, নন-ফিকশন ও কলাম লেখক।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়