সভাপতি সেজে স্কুল বিক্রির কার্যক্রম স্থগিত

আগের সংবাদ

নিরুদ্বেগ শরণার্থী জীবন!

পরের সংবাদ

রোহিঙ্গা সংকটের ৩ বছর

কাটেনি জটিলতা শুরু হয়নি প্রত্যাবাসন

সোহেল রানা

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ২৫, ২০২০ , ১:৩৭ পূর্বাহ্ণ

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার ৩৪টি ক্যাম্পে অবস্থান করা প্রায় ১১ লাখ ১৮ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী মারাত্মক সংকট সৃষ্টি করেছে। গেল তিন বছরেও শুরু করা যায়নি তাদের স্বদেশ প্রত্যাবাসন কার্যক্রম। কূটনৈতিক জটিলতা আর কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে রোহিঙ্গাদের স্বদেশ প্রত্যাবাসন শুরু করার বিষয়টি হয়ে পড়েছে অনিশ্চিত।

ইতোমধ্যে দু’দফা তারিখ দিয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের চেষ্টা চালিয়েও তাদের অনড় মনোভাবের কারণে প্রত্যাবাসন সম্ভব হয়নি। রোহিঙ্গাদের দাবি, তাদের অধিকার ফিরিয়ে না দিলে মিয়ানমারে ফিরে যাবে না তারা। রোহিঙ্গাদের সাফ কথা, তারা মিয়ানমারের পূর্ণ নাগরিকত্ব ও জীবনের নিরাপত্তা চায়। নিজ দেশে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে চায়। সন্তানদের শিক্ষায় শিক্ষিত করতে চায়। এসব সুবিধা নিশ্চিত করলেই কেবল তারা দ্রুত মিয়ানমারে ফিরে যাবো, না হয় বাংলাদেশেই জীবন দিয়ে দেবে।

বাংলাদেশ সরকার এবং ‘ইউএনএইচসিআর’-এর তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এসব রোহিঙ্গাকে খাদ্য, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন অফিস শরণার্থী শিবিরে প্রশাসনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

কক্সবাজারে কর্মরত ৫০টি স্থানীয় ও জাতীয় এনজিওর ফোরাম-সিসিএনএফ বলছে, ১৯৯২ সালে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনে লেগেছিল ১০ বছর। এ মুহূর্তে রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রত্যাবাসন শুরু হলেও তা সম্পন্ন হতে এক দশকের বেশি লাগবে। তাই এ বিশাল জনগোষ্ঠীকে অলস অবস্থায় রাখা উচিত নয়, মানবিক মর্যাদার সুবিধার্থে তাদের জন্য সহজে বহন ও স্থানান্তরযোগ্য ঘর, শিক্ষা ও উপার্জনমূলক প্রশিক্ষণ দেয়া উচিত।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা-ইউএনএইচসিআরের বিবৃতি বলছে, তিন বছর পর আজও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ আছে ও নতুন অনেক চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী কভিড-১৯ মহামারী পরিস্থিতিকে করেছে আরও জটিল। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘রোহিঙ্গাদের হিসাবে তাদের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ আজ মিয়ানমারের বাইরে আছে। ইউএনএইচসিআর ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ নিবন্ধন অনুযায়ী কক্সবাজারে অবস্থান করছে প্রায় ৮ লাখ ৬০ হাজার রোহিঙ্গা।

এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিবন্ধিত প্রতি ১০ জন রোহিঙ্গার মধ্যে নয়জন বাস করে বাংলাদেশে। এ মহানুভবতার প্রতিদান হিসেবে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় বাংলাদেশি জনগণের জন্য নিরন্তর সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। ইউএনএইচসিআর জানায়, রোহিঙ্গা সংকটের পরিপূর্ণ সমাধান আছে মিয়ানমারে। রাখাইন রাজ্যবিষয়ক পরামর্শক কমিশনের সব সুপারিশ পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমেই এটি সম্ভব।

মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলার অভিযোগ এনে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইনের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর শুরু করে গণহত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ এবং অগ্নিসংযোগ। তাদের বর্বর অত্যাচার ও নির্যাতনের মুখে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয় নিতে শুরু করে হাজার হাজার রোহিঙ্গা। পর্যায়ক্রমে উখিয়া টেকনাফের প্রায় ১০ হাজার একর গভীর বনাঞ্চলে ৩৪টি ক্যাম্পে বর্তমানে ১১ লাখ ১৮ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছেন।

গেল তিন বছর ধরে উখিয়া ও টেকনাফে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা বসবাসের কারণে পরিবেশ ও প্রতিবেশগত নানা সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যেও সামাজিক অর্থনৈতিক কারণে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হচ্ছে। তাই যত দ্রুত সম্ভব রোহিঙ্গারা স্বদেশে ফিরে যাক, এটাই কামনা স্থানীয়দের।

এনএম