প্রধানমন্ত্রীর দেয়া টাকায় জমি কিনেছেন রিজিয়ার সন্তানরা

আগের সংবাদ

শিপ্রার ২৯ সামগ্রী র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর

পরের সংবাদ

ফিরে দেখা ২১ আগস্ট

বিচারের রায় কার্যকরের দাবি হতাহত পরিবারের

প্রকাশিত: আগস্ট ২১, ২০২০ , ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ আপডেট: আগস্ট ২১, ২০২০ , ৪:৪৮ অপরাহ্ণ

ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে অনুষ্ঠিত শেখ হাসিনার সমাবেশে বর্বরোচিতো গ্রেনেড হামলায় মাদারীপুরের নিহত ৪ পরিবারসহ আহত ৩ পরিবারের সদস্যরা ভালো নেই। একই ঘটনায় আহতরা পঙ্গুত্ব নিয়ে দুঃসহ জীবনযাপন করছেন।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় মাদারীপুরের নিহত ৪ জন হলেন রাজৈর উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের চানপট্টি গ্রামের যুবলীগ নেতা লিটন মুন্সি, একই উপজেলার কদমবাড়ী ইউনিয়নের মহিষমারি গ্রামের সুফিয়া বেগম, কালকিনি উপজেলার কয়ারিয়া ইউনিয়নের রামারপোল গ্রামের নাছির উদ্দিন ও ক্রোকিরচর গ্রামের যুবলীগ নেতা মোস্তাক আহাম্মেদ ওরফে কালা সেন্টু। আহতরা হলেন কালকিনি পৌরসভার বিভাগদী গ্রামের হালান হাওলাদার, কৃষ্ণনগর গ্রামের কবির হোসেন, ঝাউতলা গ্রামের সাইদুল হক সরদার।

খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, রাজৈর উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের চানপট্টি গ্রামের যুবলীগ নেতা নিহত লিটন মুন্সির মা আছিয়া বেগম ও বাবা আইয়ুব আলী মুন্সি তাদের একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে দিন কাটান বহু কষ্টে।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, লিটন মুন্সির মেয়ে মিথিলা প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা করে ভাতা পাচ্ছেন। এছাড়া ঢাকার মিরপুরে একটি ফ্ল্যাট বাসা ও ২০১৮ সালের রোজার সময় ৫ লাখ টাকা সরকারিভাবে পেয়েছে। তাই সরকারের কাছে তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে দ্রুত বিচারের দাবি করেছেন।

নাছিরের বড় ছেলে মাহাবুব হোসেন (২২) বলেন, বাবার উপার্জনেই চলতো সংসার। বাবার মৃত্যুর পর টাকার অভাবে আমাদের লেখাপড়া প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী আমাদের ১০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র দিয়েছেন। এখন সেই টাকার লভ্যাংশ দিয়ে আমার মা, আমি আর আমার ভাই নাজমুলকে নিয়ে কোনোরকম বেঁচে আছি। এছাড়া আমাদের খবর আর কেউ রাখেনি।

গ্রেনেড হামালায় নিহত যুবলীগ নেতা মোস্তাক আহাম্মেদ ওরফে কালা সেন্টুর স্ত্রী আইরিন সুলতানা ঢাকার মার্কেন্টাইল ব্যাংকে চাকরি করেন। এক মেয়ে আফসানা আহমেদ রীদিকে নিয়ে ঢাকায় থাকেন। তিনি বলেন, এমন দুঃখজনক স্মৃতি কি ভোলা যায়, না মুছে যায়। মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় থাকি। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকার অনুদান পেয়েছিলাম। সে সম্বল আর চাকরি থেকে যা পাই, তা দিয়েই মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভাবছি।

আহত হালান হাওলাদার বলেন, শরীরের বিভিন্ন স্থানে প্রচুর স্প্লিন্টার রয়েছে। এগুলোর জ্বালা-যন্ত্রণা অসহ্য লাগে মাঝে মাঝে। হাটা-চলা করতে খুব কষ্ট হয়। সে কারণে তেমন কাজ করতে পারি না। তারপরও সংসারের খরচ মেটানোর জন্য ফেরি করে মুরগি বিক্রি করি। করোনার কারণে এখন তা বন্ধ আছে। আমরা যারা আহত আছি প্রধানমন্ত্রী যদি আমাদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতেন তাহলে ভালো হতো। আহত অনেকে বঙ্গবন্ধু ট্রাস্ট থেকে প্রতি মাসে ভাতা পায়। আমি ভাতা পাই না।

পিআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়