দেশে গরিব মানুষরা ক্ষুধার জ্বালায় হাহাকার করছে

আগের সংবাদ

পাপিয়ার মতো কেউ যেন সংগঠনে প্রবেশ করতে না পারে

পরের সংবাদ

নিম্নাঞ্চল প্লাবিত,পানিবন্দী কয়েক হাজার পরিবার

প্রকাশিত: আগস্ট ২০, ২০২০ , ৬:৫৪ অপরাহ্ণ আপডেট: আগস্ট ২০, ২০২০ , ১০:৩৬ অপরাহ্ণ

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় অমাবস্যার প্রভাবে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলার পৌর শহরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ঘর-বাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় মানুষ উচুঁ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। ক্ষতির শিকার হয়েছে ওয়াপদা বেড়িবাঁধের বাইরে বসবাসরত কয়েক হাজার পরিবার, মৎস্য ব্যবসায়ীসহ অন্যান্য ব্যবসায়ীরা।

জানা গেছে, অমবস্যার প্রভাবে বুধবার থেকে স্বাভাবিক জোয়ারের তুলনায় ৬ থেকে ৭ ফুট পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার লালুয়া ও মহিপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ ঘর বন্দি হয়ে পরেছে। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় অচল হয়ে পড়েছে গোটা উপজেলার মানুষ। লালুয়া ইউনিয়নের চাড়িপাড়া, নাওয়াপাড়া, পশরবুনিয়া, চান্দুপাড়া, চড় চান্দুপাড়া, ধঞ্জুপাড়া, কলাউপাড়া, মুন্সিপাড়া, নয়াকাটা, চৌধুরীপাড়া, চড়পাড়া, ছোনখোলা, ১১ নং হাওলা, ছোট ৫নং ও বড় ৫ নং গ্রামগুলো সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। মহিপুর থানার মহিপুর ইউনিয়নের নজিবপুর, কমরপুর, সুধিরপুর, ইউছুফপুর, পুরান মহিপুর, নিজামপুর, মনোহরপুর, লতিফপুর, মোয়াজ্জেমপুর ও বিবিনপুর গ্রামগুলোও পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এছাড়াও পৌর শহরের মাছ বাজার, সবজি বাজারসহ উপজেলার ওয়াপদা বেড়িবাঁধের বাইরে পানি ঢুকে পড়ায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে অসহায় পরিবারগুলো।

ছবি: প্রতিনিধি

অনেক পরিবারের দুপুরের উনুন পর্যন্ত জ্বলেনি। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মানুষদের আশে পাশের বাড়ি-ঘরে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে। জলবায়ু পরিবর্তন গত কারণে নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের তুলনায় অতিরিক্ত পানি ও দিন-রাত ভারি বর্ষণের কারণে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে এলাকার অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন।

উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের চারিপাড়া গ্রামের পানিবন্দী হাসি বেগম জানায়, দিন-রাত বৃষ্টি আর সেই সঙ্গে নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় আমাগো ঘর বাড়িতে পানি উঠে গেছে। নদীতে পানি বাড়লে আমাগো খাওয়া ঘুম হারাম হইয়া যায়। এ সময় আমাগো বিপদের কোনো শেষ থাকে না। রান্না চুলাটা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় রান্না করতে পারছি না। সকাল হতে এখন পর্যন্ত বাচ্চদের নিয়ে না খেয়ে আছি।

এছাড়া নদীর পানির সঙ্গে বৃষ্টির পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গো-খাদ্যের সংকটও দেখা দিচ্ছে। ফলে অনেক স্থানে মানুষ গোয়াল ঘর থেকে গরু কিংবা ছাগল বের করতে না পেরে বিপাকে পড়েছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় অভিজ্ঞ মহলের ধারণা, জলবায়ু পরিবর্তন গত কারণে আবহাওয়ায় পরিবর্তন হয়েছে। এতে নদীতে পানির স্তর আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে ।

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এস.এম রাকিবুল আহসান বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও স্বাভাবিক জোয়ারের তুলনায় নদীর পানি অতিরিক্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার বেড়িবাঁধ সংলগ্ন পরিবারগুলো এ মূহুর্তে অত্যন্ত মানবেতর অবস্থায় রয়েছে। কৃষি জমি তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের ক্ষতির সম্ভাবনাও রয়েছে। আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছি। তারা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছে বলে আমাদের জানিয়েছে।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়