স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না বাসের হেলপাররা

আগের সংবাদ

সাইদা খানমের প্রয়াণ

পরের সংবাদ

সিনহা হত্যার দায়ভার পুরো পুলিশ বাহিনী কেন নেবে

প্রকাশিত: আগস্ট ১৯, ২০২০ , ৭:৩০ অপরাহ্ণ আপডেট: আগস্ট ১৯, ২০২০ , ৭:৩০ অপরাহ্ণ

বর্তমানে করোনা মহামারিতে পুলিশের অবদান অনস্বীকার্য। যেখানে দেশের মানুষ আতঙ্কিত এবং চারদিকে মৃত্যুর মিছিল সেখানে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী সাহসিকতার সঙ্গে মানুষের সেবায় সারাক্ষণ নিয়োজিত আছে। কেউ করোনায় আক্রান্ত হলে পরিবারের বা আত্মীয়স্বজন কেউ পাশে থাকে না এবং দাফনের সময়ও কাউকে পাওয়া যায় না। সেখানে করোনায় আক্রান্ত মৃত্যুবরণকারীদের দাফনকার্য সমাপ্ত করে বাংলাদেশ পুলিশ। এই মহান আত্মত্যাগের জন্য করোনায় আক্রান্ত হয়ে অনেক পুলিশ সদস্য মৃত্যুবরণ করেন। এই মহৎ ত্যাগ স্বীকার করার জন্য জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান পুলিশ বাহিনীকে অন্তরের অন্তস্তল থেকে সালাম এবং সম্মান প্রদর্শন করি।
অতিসম্প্রতি কক্সবাজারে একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা পুলিশের হাতে অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে নিহত হন। কিন্তু ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সাংবাদিক ভাইদের কল্যাণে বিভিন্ন প্রিন্ট এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় যেভাবে প্রকাশিত হচ্ছে তাতে বিশেষ করে সমগ্র পুলিশ বাহিনীকে দায়ী করা হচ্ছে। পুলিশকে জনগণের অনাস্থার জায়গায় ঠেলে দেয়া হচ্ছে। আসলে কক্সবাজারের ঘটনাটি পুলিশের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক ও কলঙ্কময়। যারা কক্সবাজারের ঘটনাকে নিয়ে সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীকে হেয় করতে চান, বাংলাদেশ পুলিশের কর্মপরিধিকে ছোট করতে চান, দেশের সাধারণ মানুষকে পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলার চেষ্টা করছেন এবং বাংলাদেশের স্বনামধন্য আরেকটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলার চেষ্টা করছেন, আসলে তাদের মুখ্য উদ্দেশ্যটা কি?
বেনজীর আহমেদ বিপিএম (বার), পুলিশপ্রধান হিসেবে যোগদান দেয়ার পর পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক দুর্নীতি বন্ধ করা এবং বাংলাদেশকে আরো জনমুখী করার পদক্ষেপ নিয়েছেন। সেই সঙ্গে বাংলাদেশকে মাদকমুক্ত করার একটি বড় চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন। বাংলাদেশের সব পুলিশ কর্মকর্তা মাদকমুক্ত চ্যালেঞ্জের কার্যক্রম শুরু করেন। এমতাবস্থায় কক্সবাজারের দুর্ভাগ্যজনক ঘটনাটি বাংলাদেশের পুলিশের জন্য খুব বড় একটি ধাক্কা। তবে এ ঘটনাকে নিয়ে যারা দেশের অভ্যন্তরীণ সম্প্রতি নষ্ট করার চেষ্টা করছেন। প্রকৃতপক্ষে, তারা কি পক্ষান্তরে মাদক ব্যবসায়ী, চোরাকারবারি, অসাধু ব্যক্তি, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের উসকানি দিচ্ছে?
পুলিশ হলো আস্থা ও জনতার প্রতীক। পুলিশ ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে এক নিবিড় ও অন্তরঙ্গ সম্পর্ক। জনসাধারণ সর্বক্ষেত্রেই পুলিশের সহয়তা পান। বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, চোর, ডাকাত, মাদক ব্যবসায়ী, চোরাকারবারি, অসাধু ও চাঁদাবাজদের কঠিনভাবে দমন করেন এবং নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেন।
করোনাকালীন বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী যে আত্মত্যাগ স্বীকার করেছে তা বাংলাদেশের মানুষ কোনো দিন ভুলবে না। আজীবন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। বিশেষ করে কক্সবাজারের ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক একটি ঘটনা। অবশ্যই প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত বিচক্ষণ তিনি অপরাধীর সঠিক বিচার কার্যক্রম করবেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে (মুজিববর্ষ), ‘মুজিববর্ষের অঙ্গীকার পুলিশ হবে জনতার’ এই শপথে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী মাদকমুক্ত দেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়েছে। অতএব যারা দেশের সার্বভৌম অভ্যন্তরীণ সম্প্রতি নষ্ট করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ পুলিশ ও জনতার মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে চায়, তাদের মুখ্য উদ্দেশ্য কখনো ইতিবাচক হতে পারে?

শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ।
[email protected]

এসএইচ

মন্তব্য করুন

যে মন্তব্যগুলো খবরের বিষয়বস্তুর সাথে মিল আছে এবং আপত্তিজনক হবে না সেই মন্তব্যগুলোই দেখানো হবে। প্রকাশিত মন্তগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত। পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য ভোরের কাগজ লাইভ কোন দায়ভার গ্রহণ করবে না।

জনপ্রিয়