বিমানের টিকেট ভোগান্তিতে অভিবাসী শ্রমিক

আগের সংবাদ

করোনাকালে সামাজিক অবক্ষয়

পরের সংবাদ

জেগে উঠুক পর্যটন শিল্প

খায়রুজ্জামান খান

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ১৯, ২০২০ , ৭:২২ অপরাহ্ণ

সরকার কর্তৃক বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এগিয়ে আসতে হবে ক্ষতি পুষিয়ে আনতে। ছোট-বড় সব খাতেই স্বল্প মুনাফায় লোনের ব্যবস্থা করতে হবে। সাহসিকতার সঙ্গে এবং সতর্কতার সঙ্গে সব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি না মানা হলে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

কোভিড-১৯-এর কারণে ভ্রমণ ও পর্যটন শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সর্বাধিক। যেখানে যুক্ত রয়েছে প্রতিটি সেক্টর। যানবাহন থেকে শুরু করে খাবার-দাবার পর্যন্ত। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে, কোভিড-১৯ মোকাবিলায় পর্যটন শিল্পের যেন দুরবস্থা। পর্যটন স্থানগুলোতে যেমন নেই ভ্রমণপিপাসুদের আনাগোনা তেমন নেই অর্থনীতির উন্নয়নের ধারা। নেই মানুষের আয়-রোজগারের ব্যবস্থা। ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্সি, হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, গেস্ট হাউস, রেস্তোরাঁ, এয়ারলাইন্স, ট্যুরিস্ট কোচ, ট্যুরিস্টশিপ এজেন্সি, ট্যুরিস্ট গাইডিং এজেন্সি, স্ট্রিট ফুড, কমিউনিটি বেইজড ট্যুরিজমের হোম-স্টে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশের ৪০ লাখ মানুষ জড়িত। আজ তারা কর্মহীনতা ভুগছে। ১ কোটি ৫০ লাখ মানুষ নির্ভরশীল ভ্রমণ ও পর্যটন শিল্পের ওপর। ধারণা করা হচ্ছে, এশিয়ার দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ২০২০ সালে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের সংখ্যা ২০-৩০ শতাংশ কমে যাবে। ক্ষতিগ্রস্ত হবে ৩০০-৪৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
বাংলাদেশ পর্যটকদের মন কেড়েছে বহুকাল আগে থেকে। ভ্রমণপিপাসুদের মনের খোরাক মেটায়। মানসিক অবসাদ দূর করে। অবসর সময়ে সুন্দর মনোরম পরিবেশ উপভোগ করতে ছুটে যায় শহরের যানজট থেকে দূরে। যেমন সাজেক ভ্যালি, বান্দরবান, কক্সবাজার, কুয়াকাটা, সিলেট, সেন্টমার্টিন, সুন্দরবন পর্যটকদের সারাবছর আনাগোনা লেগে থাকে। নিকলীর হাওর বর্তমানে সবার মন মুগ্ধকর ভ্রমণ স্থান হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে পর্যটকদের আনাগোনা নেই। আর্থিক অসচ্ছলতা দেখা দিয়েছে সেখানকার মানুষের। কর্মহীনতায় ভুগছে। ট্যুর অপারেটরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশে ক্ষতির পরিমাণ ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা দেখানো হয়েছে। প্যাসিফিক এশিয়া ট্রাভেল এসোসিয়েশনের (পাটা) বাংলাদেশ চ্যাপ্টার অনুযায়ী জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৯ হাজার ৭০৫ কোটি টার্নওভার থাকবে।
দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে পর্যটন শিল্পের বিকল্প নেই। ক্ষুদ্র থেকে বৃহত্তর সেক্টর যেন সক্রিয় হয়ে উঠবে। মানুষের আয়-রোজগারের ব্যবস্থার সৃষ্টি হবে। পর্যটন এলাকায় অনেক সময় ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি এমনই খুনের ঘটনাও ঘটে থাকে। যা ভ্রমণপিপাসুদের স্মৃতির পাতায় এক অন্ধকারাচ্ছন্ন অধ্যায় হয়ে রয়। বর্তমানে মানুষের আনাগোনা কম রয়েছে পর্যটন এলাকায়। পর্যটকদের শতভাগ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো যেন কর্মী হ্রাস না করে, কর্মস্থলে কাজের সময় কমিয়ে কর্মী ভাগ করে ক্ষতির পরিমাণ হ্রাস করতে হবে।
সরকার কর্তৃক বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এগিয়ে আসতে হবে ক্ষতি পুষিয়ে আনতে। ছোট-বড় সব খাতেই স্বল্প মুনাফায় লোনের ব্যবস্থা করতে হবে। সাহসিকতার সঙ্গে এবং সতর্কতার সঙ্গে সব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি না মানা হলে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। সর্বোপরি আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে ভ্রমণ ও পর্যটন শিল্পে জোর দিতে হবে, লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান ফিরিয়ে আনতে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে।

শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।
[email protected]

এসএইচ