জেগে উঠুক পর্যটন শিল্প

আগের সংবাদ

শিক্ষা খাতে প্রযুক্তি ও চ্যালেঞ্জ

পরের সংবাদ

করোনাকালে সামাজিক অবক্ষয়

প্রকাশিত: আগস্ট ১৯, ২০২০ , ৭:২৪ অপরাহ্ণ আপডেট: আগস্ট ১৯, ২০২০ , ৭:২৪ অপরাহ্ণ

করোনা ভাইরাস বিশ্বে কতটা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে তা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। বিশ্বের অন্য দেশের মতো আমরাও এর ভুক্তভোগ। শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে চলছে করোনা প্রতিরোধের চেষ্টা। বর্তমান জ্ঞান-বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তির যুগে ও মানুষ গৃহবন্দি অসহায়ের মতো তাকিয়ে গোটা বিশ্ব। অদৃশ্য এক ভাইরাস আমাদের মধ্যে জাগিয়ে তুলেছে ভীতি। অনেকে ধর্মচর্চার মাধ্যমে স্রষ্টার কাছে প্রার্থনায় ব্যস্ত করোনামুক্ত পৃথিবীর জন্য। থেমে আছে গৃহবন্দি মানুষে জীবিকা। বিভিন্ন ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন, সরকার বিভিন্নভাবে মানুষে পাশে দাঁড়িয়ে দুহাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। কিন্তু থেমে নেই দুর্নীতিবাজ চেয়ারম্যান, সরকারি আমলাসহ বিভিন্ন মহলের দুর্নীতির অশুভ হিংস্র থাবা। দুর্নীতিবাজদের ধর্মই যেন দুর্নীতি করা তাই প্রমাণ করল করোনাকালে। কর্মহীন মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত তেল, চাল সবই হাতিয়ে নিয়ে নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত। যেখানে আজ মানুষের বেঁচে থাকা অনিশ্চিত সেখানে জনগণের অধিকার কেড়ে পরিবারের সদস্যদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিতকরণে ব্যস্ত স্থানীয় প্রতিনিধিরা। যা বিকলাঙ্গ সমাজব্যবস্থায় অসুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন মানুষের কাজ। এই দুর্নীতিগ্রস্ত ও বিকলাঙ্গ সমাজব্যবস্থা মোকাবিলায় কার্যকর ভ‚মিকা রাখতে পারে যুবসমাজ। জনসংখ্যায় জর্জরিত দেশ সঙ্গে দুর্নীতিতে জর্জরিত বিভিন্ন মহল। এ দেশকে দারিদ্র্যসীমা আর দুর্নীতির তলদেশ থেকে উঠিয়ে আনার জন্য গড়ে তুলতে হবে যুবসমাজকে। আর সমাজ গঠনের কারিগর শিক্ষা। শিক্ষা একটি দেশকে সভ্য করে গড়ে তুলতে পারে, পারে অন্ধকারে আচ্ছন্ন একটি ভ‚খণ্ডতে সভ্যতার আলো জ্বালতে। সেই শিক্ষাব্যবস্থা নিয়েই রয়েছে আমাদের হাজারো প্রশ্ন। এ দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ত্রুটিপূর্ণতায় ঘেরা। মুখস্তনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থায় অসুস্থতার প্রতিচ্ছবিতে ঘেরা। শিশুদের মস্তিষ্কের চিন্তা শক্তির প্রসারতাকে বাধাগ্রস্ত করে তোতাপাখির মতো প্রশ্ন মুখস্ত করানো হয় পরীক্ষার জন্য। যার ফলে মানবিক বা মূল্যবোধ তৈরিতে বাধাগ্রস্ত হয় যার প্রভাব পড়ে জাতীয় জীবনে, দেশকে ভুলে গিয়ে যুক্ত হয় দুর্নীতির সঙ্গে। স্বাধীনতার এত দিন পরও আমরা গ্রাম এবং শহরের শিক্ষাব্যবস্থা ও সামাজিক কাঠামো একই আনতে পারিনি। ফলে হাজার হাজার গ্রামে রয়ে গেছে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাব। যদিও সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে প্রশংসনীয় অনেক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এই পিছিয়ে পড়া গ্রামগুলোকে এগিয়ে নিতে। তবে মাত্রাতিরিক্ত দুর্নীতি আর স্কুল, কলেজ এর গণ্ডি পার না হওয়া স্থানীয় প্রতিনিধিদের বিকলাঙ্গ মস্তিষ্কের কাছে পর্যবসিত হচ্ছে এসব প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এজন্য প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা। এ দেশের মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ যুবক যুবতী/তরুণ সম্প্রদায়। নেই যথেষ্ট কর্মসংস্থান। রাষ্ট্রীয় পদগুলোর আজ বেশিরভাগ স্বজনপ্রীতিতে পরিপূর্ণ। যা মাত্রাতিরিক্ত দুর্নীতির কারণ। শুধু রাষ্ট্রীয়ভাবে এই বিশাল বেকারত্ব ঘোচানো সম্ভব নয় প্রয়োজন সামাজিকভাবে সম্মিলিত প্রচেষ্টা। যে তরুণ প্রজন্ম সামনের দিনে দেশের নেতৃত্ব দেয়ার কথা তারা আজ জড়িয়ে পড়ছে নানান অসামাজিক কর্মকাণ্ডে। এই দায় শুধু সরকারের একার নয় সমাজব্যবস্থা এবং পরিবারেরও। আজ সমস্যা হলে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে সেই সমস্যার সমাধান খুঁজি। তবে সমস্যার সমাধান খোঁজা যতটা জরুরি তার চেয়ে সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার কারণ খোঁজাটাও জরুরি। সমস্যার উৎপত্তি স্থলটা যদি বন্ধ করা যায় তাহলে দেশ ও সমাজ নিরাপদ থাকে। তাই তাৎক্ষণিক সমস্যার সমাধানের চেয়ে সমস্যার উৎপত্তি স্থলে সমস্যা রোধ করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। এসব থেকে আমাদের যত দ্রুত সম্ভব বেরিয়ে আসতে হবে, নতুবা আমরা একদিন সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ব। বিশ্ববুকে আমাদের যে সুনামটুকু অবশিষ্ট তা অতি শিগগিরই মুছে যাবে।

শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
[email protected]

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়