বঙ্গবন্ধুর দর্শন ধারণ করে শোষণ ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়তে হবে

আগের সংবাদ

সম্পর্কে বোন হলেও রানি ও কাজলের রসায়ন নিয়ে প্রশ্ন

পরের সংবাদ

জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের

মারামারি, প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজের ঘরে অগ্নিসংযোগ

প্রকাশিত: আগস্ট ১৭, ২০২০ , ৩:৪৫ অপরাহ্ণ আপডেট: আগস্ট ১৭, ২০২০ , ৩:৫০ অপরাহ্ণ

জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ২ নারীকে মারধর করে আহত করার পর প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজের ঘরে অগ্নিসংযোগ দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার সদর ইউনিয়নের গোবিন্দল উত্তরপাড়া গ্রামে (সরকার মহল্লায়) এ ঘটনা ঘটে। এতে ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।

রবিবার (১৬ আগস্ট) স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই এলাকার আব্দুর রহমানের পুত্র মো. ফারুক (৩২) ও প্রতিবেশী মৃত নান্দু বেপারীর পুত্র সোরহাবের (৫৫) পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবত জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। ইতোপূর্বেও বসতবাড়ির বিরোধপূর্ণ সীমানা নিয়ে কয়েকবার মারধরের ঘটনা ঘটে।

এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ বিচারে আপস মীমাংসাও হয়েছে। থানা পুলিশ মীমাংসা কার্যকর করতে মুচলেকাও নিয়েছেন। তারপরও বিরোধ বেড়েই চলছে। গত বৃহস্পতিবার গৃহকর্তা সোরহাব তার লোকজন নিয়ে ফারুকের বাড়িতে ঢুকে তাদের ফলজ গাছ কেটে ফেলে। এতে ফারুকের ছোট বোন কাঞ্চনমালা (২৪) বাঁধা দিলে তাকে বেধড়ক মারধর করে। ওই সময় বড় বোন ফুলমালা (৩৮) এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করা হয়।

স্থানীয়রা আহত অবস্থায় দু‘বোনকে সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বড় বোন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও ছোট বোন কাঞ্চনমালা এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় মো. ফারুক বাদি হয়ে সোরহাবসহ ৬ জনকে আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করেন।

ঘটনার দিবাগত রাতেই সোরহাব ও তার লোকজন ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজ ঘরে আগুন দিয়ে থানায় খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মূল রহস্য উদঘাটন করেন।

ভুক্তভোগী মো. ফারুক বলেন, ব্যবসায়িক কাজে বেশিরভাগ সময় আমি বাড়িতে না থাকার সুযোগে সোরহাব ও তার পরিবারের লোকজন আমার বোনদের ওপর মাঝে-মধ্যে জুলুম-অত্যাচার করে।

অভিযুক্ত সোরহাব ও তার ছেলে রবিউলের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কেউ ফোন রিসিভ করেননি।

স্থানীয় ইউপি মেম্বার দেওয়ান মো. নিবুর বলেন, চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় দু‘পরিবারের মধ্যে সীমানা সংক্রান্ত সমস্যাটি একাধিকবার মীমাংসা করে দেয়া হলেও সোরহাব তা মানেনি। ফারুকের বাড়িতে পুরুষ লোক না থাকায় মহিলারা এগিয়ে গেলে প্রতিপক্ষের মারধরের শিকার হন। তারপরও স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।

এ ব্যাপারে অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা সিংগাইর থানার এসআই মো. মনোহর বলেন, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। দিনে ২ নারীকে মারধরের ঘটনা সত্য। কিন্তু রাতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা সাজানো। উভয় পরিবারই পরস্পর আত্মীয় ও প্রতিবেশী হওয়ায় স্থানীয়রা মীমাংসার উদ্যোগ নিয়েছেন। সমাধান না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়