পতাকা উত্তোলন না করেই বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে পুষ্পমাল্য অর্পণ

আগের সংবাদ

গর্ভাবস্থায় ঘরোয়া উপায়ে নিন চুলের যত্ন

পরের সংবাদ

সংশোধন কেন্দ্র না নির্যাতন কেন্দ্র?

প্রকাশিত: আগস্ট ১৫, ২০২০ , ৭:১৮ অপরাহ্ণ আপডেট: আগস্ট ১৫, ২০২০ , ৭:১৮ অপরাহ্ণ

যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে সংঘর্ষ নয়, বরং কর্মকর্তা ও আনসার সদস্যদের বেধড়ক পিটুনিতে ৩ কিশোর নিহত এবং ১৪ জন আহত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় কেন্দ্রের ১০ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। শিশু সংশোধন কেন্দ্রে নির্যাতনে প্রাণহানির মতো ঘটনা মর্মান্তিক ও অনাকাক্সিক্ষত। শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে সাধারণত শিশুদের নিয়ন্ত্রণে রাখা হয় শৃঙ্খলিত বা সংশোধন করার উদ্দেশ্যে। কিন্তু একটি নিয়ন্ত্রিত স্থানে কীভাবে নির্যাতন-হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটে, তা সুষ্ঠু তদন্তের বিষয়। জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আনসার সদস্য ও তাদের নির্দেশে কয়েক কিশোর ১৮ জনকে বেধড়ক মারধর করে। নির্যাতনের একপর্যায়ে তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের সেখানেই ফেলে রাখা হয়। কয়েকজন অচেতন হয়ে পড়ে থাকলে নির্যাতনকারীরা মনে করেছিল তারা অজ্ঞান হয়ে গেছে। পরে যখন বুঝতে পারে তিনজন মারা গেছে, তখনই তড়িঘড়ি করে লাশ হাসপাতালে নিয়ে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়। কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানায়, বন্দি কিশোরদের দুই গ্রুপের মধ্যে মাদক নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এরই জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আমাদের প্রশ্ন মাদক নিয়ে যদি ঘটনার সূত্রপাত হয়, তাহলে সেখানে মাদক গেল কীভাবে? নিশ্চয় কেন্দ্রের লোকজন জড়িত রয়েছে। দেশে শিশু আইন ২০১৩ অনুযায়ী অপরাধে জড়িয়ে পড়া শিশু ও কিশোরদের সংশোধন, উন্নয়ন ও স্বাভাবিক জীবনে একীভ‚ত করার লক্ষ্যে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র পরিচারিত হচ্ছে দুটি। যার একটি যশোর শহরতলী পুলেরহাটে। অপরটি গাজীপুরের টঙ্গীতে। সমাজসেবা অধিদপ্তর এই কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রক। যশোর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে প্রায়ই অঘটন ঘটে থাকে বলে গণমাধ্যমে খবর আসে। লাশ উদ্ধার, মারধরের ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। চার দেয়ালের মধ্যে বন্দি শিশু ও কিশোরদের ঠিকমতো খাবার না দেয়া ও নির্যাতনেরও অভিযোগ রয়েছে। সঙ্গত কারণেই পর্যবেক্ষক মহলে প্রশ্ন উঠেছে এটি সংশোধন কেন্দ্র না নির্যাতন কেন্দ্র। এর আগেও ২০১১ সালের ২৯ আগস্ট আকাশ (১২) নামে এক শিশুকে টিনের টুকরো দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। ২০১৯ সালের ৩০ জুন নূর ইসলাম (১৫) নামে এক শিশু আত্মহত্যা করে। ২০১৪ সালে ৫ মে কেন্দ্রে বন্দিদের সঙ্গে আনসার বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় নির্যাতিত কিশোররা কেন্দ্রে ভাঙচুর ও ভাঙা কাচ দিয়ে শরীর কেটে প্রতিবাদ জানায়। সব ঘটনারই তদন্ত কমিটি হয়। পরে তা ধামাচাপা পড়ে যায়। একের পর এক ঘটনায় সেই প্রশ্ন বদ্ধমূল হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বে অবহেলা, দুর্নীতির কারণে প্রতিষ্ঠানটিতে অনিয়ম জেঁকে বসেছে। একটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে চালানোর জন্য একগুচ্ছ সুপারিশও করেছিল। সেগুলোর একটিও বাস্তবায়ন হয়নি। বৃহস্পতিবারের ঘটনায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সমাজসেবা অধিদপ্তর পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আমরাও চাই ঘটনায় সঙ্গে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের প্রস্তাবিত সুপারিশগুলো বাস্তবায়নেরও উদ্যোগ নিতে হবে।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়