প্রথমদিনেই ১০০ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন অর্ডার

আগের সংবাদ

আমি মাইরা দিছি স্যার

পরের সংবাদ

বড় রাজস্ব ঘাটতি নিয়ে শুরু নতুন অর্থবছর

আলী ইব্রাহিম

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ১২, ২০২০ , ৯:১৩ পূর্বাহ্ণ

প্রথম মাসেই ঘাটতি ৭ হাজার কোটি টাকা

ভ্যাটেই ঘাটতি প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা

বড় ধরনের রাজস্ব ঘাটতি নিয়ে শুরু হয়েছে ২০২০-২১ অর্থবছর। দেশের অর্থের জোগানদাতা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) অর্থবছরের প্রথম মাসে ৭ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতির মুখে পড়েছে। করোনাকালীন ব্যবসায়িক মন্দা, সক্ষমতা বিবেচনায় না নিয়ে অবাস্তব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ, মনিটরিংয়ের অভাবসহ নানা কারণে রাজস্ব ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, গত অর্থবছরে বড় ঘাটতি থাকার পরও ২০২০-২১ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। সেই হিসেবে প্রতিমাসে এনবিআরকে আদায় করতে হবে ১৯ হাজার ৩৭৮ কোটি টাকা। ইতোমধ্যে অর্থবছরের প্রথম মাস শেষ হয়েছে। আলোচ্য সময়ে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১২ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রথম মাসেই রাজস্ব ঘাটতি ৭ হাজার ৪৪ কোটি টাকা। আর রাজস্ব প্রবৃদ্ধিও প্রায় তলানিতে। একমাত্র এনবিআরের কাস্টমস ছাড়া রাজস্ব প্রবৃদ্ধি-৩ এর কোটায়। জুলাই মাসে রাজস্ব আদায়ের গড় প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৩.৭৪ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, করোনাকালীন সময়ে বৈশ্বিক মন্দা বিরাজ করছে। পৃথিবীর শক্তিশালী অর্থনীতির দেশগুলো পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কোনো কিছু বিবেচনায় না নিয়ে অবাস্তব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করায় প্রথম মাসেই বড় ঘাটতির মুখে পড়েছে এনবিআর। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকায় বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন ভোরের কাগজকে বলেন, রাজস্ব আদায়ের চিত্র যা হওয়ার কথা

ছিল তাই হয়েছে। করোনার বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে অবাস্তব একটা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার কারণে প্রথম মাসেই ঘাটতির মুখে পড়েছে এনবিআর। আর এনবিআরের সক্ষমতা বিবেচনায় না নিয়ে প্রতিবছর একটা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়া হয়। আর বছর শেষে কাটছাঁট করেও ঘাটতি মেটানো যায় না। এ ছাড়া রাজস্ব প্রশাসনে সংস্কার এনে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। আর করোনাকালীন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে রাজস্ব ফাঁকির পথ বন্ধ করতে হবে বলে অভিমত এই অর্থনীতিবিদের।

এনবিআর সূত্র জানায়, নতুন অর্থবছরের প্রথম মাস অর্থাৎ জুলাই মাসে এনবিআরে ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ হাজার ৭৩২ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে ভ্যাট আদায় হয়েছে, ৩ হাজার ৭৩৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ ভ্যাটে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯৯৭ কোটি টাকা। ভ্যাটে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ২.৯০ শতাংশ। আয়করে প্রথম মাসের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার ২১৯ কোটি টাকা, আদায় হয়েছে ৩ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রথম মাসেই আয়করে ঘাটতি ৫৪৯ কোটি টাকা। আয়করে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ৩.৪৮ শতাংশ। একটু ভালো কাস্টমসে এই খাতে জুলাই মাসের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ হাজার ৪২৭ কোটি টাকা, আদায় হয়েছে ৪ হাজার ৯২৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ শুল্ক খাতে প্রথম মাসে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা।

এনবিআর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থমন্ত্রণালয় প্রতিবছর একটা নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়। সক্ষমতা বিবেচনায় না নিয়েই প্রতিবছর বাড়িয়ে বাড়িয়ে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ভোরের কাগজকে বলেন, রাজস্ব আদায়ে বিশেষ করে ভ্যাট ও কাস্টমসে রাজস্ব আদায়ে মনিটরিংয়ের চরম ঘাটতি রয়েছে। যারা রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার প্রবণতা রয়েছে অথবা যারা করোনার সুযোগে রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছেন তাদের চিহ্নিত করে সরকারের রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করতে হবে বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা।

পিআর