মুজিব কিল্লা নির্মাণে ধীরগতি, সংসদীয় কমিটির ক্ষোভ

আগের সংবাদ

জেলে বসেই ফেসবুক চালাচ্ছেন লিয়াকত!

পরের সংবাদ

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও আজকের বাংলাদেশ

মো. জাফর আলী

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ১২, ২০২০ , ৬:০৯ অপরাহ্ণ

শেখ মুজিবুর রহমান; দক্ষিণ এশিয়ার প্রভাবশালী একজন রাজনীতিবিদ। যিনি তদানীন্তন ব্রিটিশ ভারত থেকে ভারতের বিভাজন ও পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণের নাগপাশ থেকে বাংলাদেশ নামক স্বাধীন ভূখণ্ড প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব প্রদান করেছিলেন।
কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ট্রো বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব, ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, ধৈর্য ও অবিচলতার ব্যাপারে গর্ব করে বলেছিলেন যে, ‘আমি হিমালয় দেখিনি, শেখ মুজিবকে দেখেছি।’ পর্বততুল্য ব্যক্তিত্ব ও সাহসিকতা সম্পন্ন বঙ্গবন্ধু দেশ ও জাতিকে অনেক বেশি ভালোবেসেছিলেন। ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড ফ্রস্ট এক সাক্ষাৎকারে বঙ্গবন্ধুকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, ‘আপনার শক্তি কোথায়?’ তিনি উত্তরে বলেছিলেন, ‘আমি আমার জনগণকে ভালোবাসি।’ আবার তার দুর্বল দিকের কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি আমার জনগণকে খুব বেশি ভালোবাসি।’ জীবনের পুরোটা সময় এদেশের মাটি ও মানুষের জন্য ব্যয় করা এই মানুষটির বাংলাদেশকে নিয়ে ছিল দুঃসাহসিক স্বপ্ন। সর্বদা তাকে নির্যাতিত, দরিদ্র ও পরিশ্রমী মানুষদের নিয়ে ভাবতে দেখা গেছে। মানুষের মৌলিক অধিকার যেমন, খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা ইত্যাদি নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে মানুষের অভাব-অনটন, দারিদ্র্য ও বেকারত্ব দূরীকরণ এবং উন্নত জীবনের লক্ষ্যে তিনি ছিলেন বদ্ধপরিকর ও অগ্রগামী ব্যক্তিত্ব।
কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়ন ও খাদ্যঘাটতি দূরীকরণে সৃজনশীল বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেছিলেন তার সরকার। এজন্যই ব্যাপক জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও আবাদি জমি নষ্ট হওয়ার পরও আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের কৃষিকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। এভাবে তিনি একটি ধ্বংসস্তূপকে প্রত্যেকটি সেক্টরের উন্নয়ন সাধন করার মাধ্যমে একটি ফুল বাগানে রূপান্তর করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বিপথগামী কিছু সেনাসদস্যের বর্বরোচিত হামলায় প্রাণ বিসর্জন দিয়ে, স্বপ্নগুলোকে তার নিজ হাতে বাস্তবায়ন করার সুযোগ তিনি পাননি।
কিন্তু আজকের বাংলাদেশ থেমে নেই। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে, প্রতিনিয়ত তার দেখানো পথকে ব্যবহার করে, তারই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার মধ্য দিয়ে এদেশের গণমানুষের মুখে হাসি ফোটানোর সর্বাত্মক প্রচেষ্টার সংগ্রাম পরিলক্ষিত হচ্ছে।
মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ সূচক ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা, এই তিন সূচকের মানদণ্ডে আজকের বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে অবস্থান করছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এর মাথাপিছু আয় ২০৭৯ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সামনে এগোচ্ছে।
৫০ বছর আগেও যে বাংলাদেশের অস্তিত্বই ছিল না সেই বাংলাদেশ এখন একটি স্যাটেলাইটের মালিক। এছাড়া আরো কয়েকটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণসহ মঙ্গল অভিযানের স্বপ্নও দেখে এদেশ। এক সময় যে বাংলাদেশকে কেউ চিনতই না সেই বাংলাদেশ, পোশাক শিল্প, ওষুধ শিল্প, চামড়া শিল্প ও কৃষিসহ বিভিন্ন রপ্তানিপণ্য, জাতিসংঘের শান্তি মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাফল্য, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিভিন্ন জ্ঞানী-গুণীদের বিশ্বব্যাপী পদচারণা, ক্রিকেট, অন্যান্য খেলাধুলা ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন শিল্প-সংস্কৃতির জন্য পুরো পৃথিবীতে আজ বাংলাদেশের সুপরিচিতি রয়েছে।
ছোট্ট ও জনবহুল একটি দেশ হয়েও প্রাকৃতিক দুর্যোগের দক্ষ ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা, ক্ষুদ্রঋণের ব্যবহারের মাধ্যমে দারিদ্র্যদূরীকরণ, বৃক্ষরোপণ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সূচকে ইতিবাচক সফলতায় এক দৃষ্টান্তের নাম বাংলাদেশ।
শিক্ষা খাত, স্বাস্থ্য খাত, নারী ও শিশুর উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, ডিজিটালাইজেশন, কৃষি ও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা, প্রবাসী শ্রমিক উন্নয়ন, বিদ্যুৎ শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতের উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি, দক্ষভ‚মি ব্যবস্থাপনা ও অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলায় দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ একটি উদাহরণ।
অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বাংলাদেশে এত উন্নয়নের পাশাপাশি কিছু জাতীয় অসামঞ্জস্যতারও ব্যাপক বৃদ্ধি লক্ষ করা যাচ্ছে। তন্মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে দুর্নীতি, ধর্ষণ ও খুন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। পত্র-পত্রিকা খুললেই প্রতিনিয়ত এই এসব খবর আমরা দেখতে পাই। যেটি জাতি হিসেবে আমাদের জন্য খুবই লজ্জাজনক এবং যা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় মোটেও মেনে নেয়ার মতো ব্যাপার নয়।
এই গর্হিত কর্মকাণ্ডগুলো বর্জন করে, বঙ্গবন্ধুর আত্মা প্রশান্তি পাবে এমন কাজ করে দল-মত ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমাদের সবার এ দেশকে আরো এগিয়ে নেয়ার দৃঢ় প্রত্যয় গ্রহণ করতে হবে, সবসময় এটাই কামনা।

শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
[email protected]

ডিসি