প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের প্রত্যাশা

আগের সংবাদ

গণপরিবহনগুলো মানছে না স্বাস্থ্যবিধি

পরের সংবাদ

দায়িত্ববানদের স্বেচ্ছাচারিতার বলি হচ্ছে জনসাধারণ

জুবায়ের আহমেদ

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ১২, ২০২০ , ১০:১২ অপরাহ্ণ

করোনা মহামারিতে সরকার নাগরিকদের অবস্থা বিবেচনায় ফেব্রুয়ারি ও মার্চের বিদ্যুৎ বিল না নিয়ে পরবর্তী সময়ে বিলম্ব ফি নেয়া ছাড়াই গ্রহণের ঘোষণা দেয়। এতে জনমনে স্বস্তি এলেও পরবর্তী সময়ে যখন বিল পাঠানো শুরু হয়, সে বিদ্যুৎ বিল দেখেই চমকে উঠতে হয়েছে গ্রাহকদের। নিয়মিত বিলের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি বিল আসে দেশব্যাপী। করোনাকালীন বিপর্যস্ততার সময়ে হয়তো ভুলবশত এমন বিল তৈরি হয়েছে ধারণা করা হলেও দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় দৈনিকের প্রতিবেদনে উঠে এলো চমক জাগানিয়া তথ্য। ভুলবশত নয়, ইচ্ছেকৃতভাবেই বিদ্যুৎ বিল বেশি দেয়া হয়েছে।
রাষ্ট্র তার নাগরিকদের কষ্ট লাঘবের জন্য বিদ্যুৎ বিল বিলম্বে নেয়ার ঘোষণা দিলেও বিদ্যুৎ বিতরণে দায়িত্ববানদের লোভ ও স্বেচ্ছাচারিতার বলি হয়েছে জনসাধারণ। করোনাকালে যেখানে খাদ্য ও চিকিৎসা নিয়ে মানুষের মধ্যে হাহাকার সেখানে ভ‚তুড়ে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে দিশাহারা মানুষ। দোষারোপ করছে সরকারকে। অথচ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন ‘এত বড় সিদ্ধান্ত ডিপিডিসি নিতে পারে না। এটি আইনবহিভর্‚ত কাজ’। শুধু যে করোনাকালে ভ‚তুড়ে বিল দোয়া হয়েছে তা নয়, বছরজুড়েই বহু জায়গায় হাজার টাকার বিলের জায়গায় লাখ টাকার বিল দেয়া হয়। এসব ভুল হিসেবে ধরে নিয়ে সংশোধন করা গেলেও নিয়মিত বিলের চেয়ে এক দেড়গুণ বেশি আসা বিলগুলোর বিষয়ে গ্রাহকদের মনে ক্ষোভ থাকলেও তাদের কিছুই করার থাকে না, কারণ বিল সংশোধন করতে গিয়ে আরো বেশি ঝামেলায় পড়তে হয়। তাই মুখ বুঝে বর্ধিত বিলসহ নীরবেই পরিশোধ করেন গ্রাহকরা। ধারণা করা যায় গ্রাহকদের নীরব ভ‚মিকা কিংবা বিল সংশোধনের জটিলতার কারণে গ্রাহকদের অনীহাকে কাজে লাগিয়েই দায়িত্ববানরা অদ্ভুত ভ‚তুড়ে বিল তৈরি করে সাহস পান।
শুধু বিদ্যুৎ বিভাগেই নয়, নাগরিক সেবা গ্রহণের বিষ জড়িত প্রতিটি মাধ্যমেই স্বেচ্ছাচারিতার শিকার হচ্ছেন নাগরিকরা। নীরবেই আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। দায়িত্ববানরাও যেন অর্থের নেশায় বেপরোয়া, নাগরিকদের চুপ থাকা কিংবা তাদের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারে মরিয়া হয়ে উঠেন। করোনা মহামারির মানবিক বিপর্যয়ের সময়েও তারা মানবিকতাকে বিসর্জন দিয়ে ব্যক্তিগত লোভ-লালসা চরিতার্থ করার খেলায় মেতে উঠেছে। এহেন পরিস্থিতিতে নাগরিকদের আরো সচেতন হওয়া, দায়িত্বশীলরা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা ও সরকারকে নাগরিক সংশ্লিষ্ট সব কাজের সুষ্ঠু তদারকি করার মাধ্যমে নাগরিকদের কষ্ট ও আর্থিক ক্ষতিরোধ করার বিকল্প নেই। সেই সঙ্গে অপরাধের সঙ্গে জড়িত সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানও জনপ্রত্যাশা।

শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব জার্নালিজম এন্ড ইলেকট্রনিক মিডিয়া (বিজেম)
কাঁটাবন, ঢাকা।
[email protected]