সবাইকে নিয়েই ভালো থাকতে হয়

আগের সংবাদ

লেবানন থেকে ফিরলেন ৭১ বাংলাদেশি

পরের সংবাদ

ইভিএমে ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিড়ম্বনা

করোনা কেটে গেলে শুরু হবে আপডেট কার্যক্রম

এন রায় রাজা

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ১২, ২০২০ , ১০:২১ পূর্বাহ্ণ

গত ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে উত্তরা ৫ নম্বর সেক্টরের আইইএস মডেল স্কুল ভোটকেন্দ্রে ফিঙ্গারপ্রিন্ট না মেলায় গলদঘর্ম হতে হয় রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ নির্বাচনী কর্মকর্তাদের। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে ভোট দেয়ার চেষ্টা চালিয়েছেন স্বয়ং প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। কিন্তু কোনোভাবেই ইভিএম মেশিন ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেয়নি। একবার টিস্যু পানিতে ভিজিয়ে আঙুল মোছার চেষ্টা তো আরেকবার মেশিন রিস্টার্ট করা। এভাবে প্রায় ৪০-৪৫ মিনিট অতিবাহিত করার পরে অবশেষে ইভিএম বাদ দিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে ভোট দেন সিইসি।

তিনি বলেন, অনেকদিন আগে ফিঙ্গার দিয়ে এনআইডি করা, তাই মেশিন হয়তো আঙুলের ছাপ ভুলে গেছে। তাই ফিঙ্গারপ্রিন্ট আপডেট করা প্রয়োজন।

শুধু সিইসি নন, ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইস্পাহানি কেন্দ্রে একই অবস্থা হয় আরেক সিনিয়র নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের। অগত্যা এনআইডি দিয়ে ভোট দেন তিনি। ইভিএমে আরো যাদের ফিঙ্গার না মেলায় বিভ্রান্তিতে পড়েন তাদের মধ্যে ছিলেন গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ড. জাফরউল্লাহ চৌধুরীও।
বিধি অনুযায়ী, কারো আঙুলের ছাপ না মিললে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারদের ১ শতাংশ ভোট দেয়ার ক্ষমতা রয়েছে। আর যান্ত্রিক ত্রুটির বিষয়ে ইসির পক্ষ থেকেও নেই কোনো দিকনির্দেশনা।

আবার ২১ মার্চ সবচেয়ে সমস্যায় পড়ের ঢাকা-১০ উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের এমপি প্রার্থী নৌকা মার্কার শফিউল ইসলাম। ওই দিন তিনি সকাল ৯টা ৫৩ মিনিটে ভোট দিতে যান রাজধানীর কলাবাগান লেক সার্কাস স্কুল ভোটকেন্দ্রে। কিন্তু আঙুলের ছাপ না মেলায় তিনি ভোট দিতে পারেননি। তার জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বরও মেলেনি। সার্ভারে নৌকার প্রার্থীর নামও ছিল না। পরে ভোট শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে বিকাল ৩টা নাগাদ তিনি ভোট দিতে সমর্থ হন।

এছাড়া ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েন বয়স্ক ও শ্রমজীবী ভোটাররা। ইভিএম মেশিনে ফিঙ্গারপ্রিন্ট না মেলা, মেশিন বন্ধ হয়ে যাওয়াসহ বেশ কিছু সমস্যা পড়েন তারা। যারা হাতের বা আঙুলের কাজ বেশি করেন তাদের আঙুলের চাপ পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর ফিঙ্গার না মেলায় তাদের অনেকেই ভোট না দিয়েই ফিরে যান। ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচনে এসব কারণে মাত্র সাড়ে ৫ শতাংশের মতো ভোট পড়ে।

এর পরপরই ইসির এনআইডি অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, দীর্ঘদিন আগে ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে এনআইডি করা হয়, যার পরিবর্তন ঘটে, মেশিন এডজাস্ট করতে পারে না। সে কারণে ইভিএম ফিঙ্গার না চিনলে ভোট দেয়ার সমস্যা হয়।

ওই সময় এনআইডি অনুবিভাগের ডিজি ফিঙ্গার আপডেট করার ঘোষণা দিয়ে বলেন, আমরা দুয়েক মাসের মধ্যে প্রতিটি ভোটারের ফিঙ্গার আপডেটের কার্যক্রম চালাব। প্রতিটি উপজেলা নির্বাচনী অফিসার পুরনো ও বেশিদিন আগের ভোটারদের ফিঙ্গার আপডেটের জন্য মাঠে কাজ করবেন। তাছাড়া আমরা বিভিন্ন জেলা-উপজেলা নির্বাচনী কার্যালয়ে সারা বছরজুড়ে ফিঙ্গার আপডেটের কার্যক্রম অব্যাহত রাখব। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে এটি চট্টগ্রাম থেকে শুরুর ঘোষণা দেন তিনি।

কিন্তু তারপরে করোনা মহামারির কারণে ফিঙ্গার আপডেট কার্যক্রম চালান সম্ভব হয়নি বলে জানান এনআইডি অনুবিভাগের মহাপরিচালক। তিনি বলেন, আমাদের যে সাড়ে দশ কোটির মতো ভোটার রয়েছে তাদের মধ্যে যারা বয়স্কও যাদের এনআইডি বেশি পুরনো তাদের ফিঙ্গার আপডেট আমরা শুরু করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে এটি স্থগিত করতে বাধ্য হয় ইসি। কারণ এ সময় ফিঙ্গার নেয়া বা দেয়ার বিষয়টি রিক্স ছিল। ফলে এখনো এ কার্যক্রমটি চালান সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, তবে এর মধ্যে যেসব নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হয়েছে সেখানে ফিঙ্গার মুছে পরিষ্কার করে মেলানোর জন্য আমরা টিস্যু পেপার ও ডিটারজেন্ট দিয়েছিলাম। তাতে কিছুটা কাজও হয়। তবে বেশি বয়স্ক ও বেশিদিন যাদের এনআইডির বয়স তাদের ফিঙ্গার পূর্ণ আপডেটের কাজ করোনা মহামারি কেটে গেলে শুরু করা হবে বলে জানান তিনি।

তবে ইসির এনআইডি অনুবিভাগের কর্মকর্তা জানান, ডিজি স্যার বয়স্ক ভোটারদের ফিঙ্গার আপডেটের প্রস্তুতি নিলেও তার পরে করোনা মহামারি এসে পড়ে। যার ফলে ফিঙ্গার মেলানোসহ এ ধরনের সব কার্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য হয় ইসি। যার ফলে ফিঙ্গার মেলানোর বিষয়টি আপাতত স্থগিত রয়েছে। করোনা মহামারি কেটে গেলে বিষয়টি নিয়ে আবার চিন্তাভাবনা করা হবে।

পিআর