গণপরিবহনগুলো মানছে না স্বাস্থ্যবিধি

আগের সংবাদ

আবার শুরু হোক নতুন উদ্যমে

পরের সংবাদ

আর কতদিন উত্তরবঙ্গ অবহেলিত থাকবে!

সাজ্জাদ হোসেন

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ১২, ২০২০ , ১০:১৮ অপরাহ্ণ

বিবিএসের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী দেশের সবচেয়ে দারিদ্র্যপ্রবণ অঞ্চল উত্তরবঙ্গ। সব থেকে বেশি গরিব মানুষ থাকে রংপুর বিভাগে। এ পরিসংখ্যানে দেশের সর্বোচ্চ দারিদ্র্য ১০টি জেলার নাম প্রকাশ করেছে। এমন ১০ জেলার মধ্যে ৫টিই রংপুর বিভাগে। কুড়িগ্রাম ছাড়া এই তালিকায় রয়েছে রংপুর, দিনাজপুর, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাট। কুড়িগ্রাম জেলায় গরিব মানুষের সংখ্যাটা সর্বাধিক। এই জেলার দারিদ্র্যের হার ৭০.৮ শতাংশ। জেলার কোথাও কোথাও ৭৭ দশমিক ছাড়িয়ে গেছে। তবে কোথাও ৬৪ শতাংশের নিচে নেই। এখানকার ১০০ জন লোকের মাঝে প্রায় ৭০ জন গরিব। দারিদ্র্যের হার দিনাজপুরে প্রায় ৬৪ শতাংশ, গাইবান্ধায় ৪৬ শতাংশ, রংপুরে ৪৩ ও লালমনিরহাট ৪২ শতাংশ। এখানকার বেশিরভাগ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করে। তাছাড়া আমাদের কৃষি উৎপাদনের একটা বড় অংশ আসে রংপুর অঞ্চল থেকে। সোনালি আঁশ পাট থেকে শুরু করে ধান, তামাক ও বাদাম উৎপাদনে এর কদর সর্বত্র। কিন্তু সেসব খেটেখাওয়া মানুষগুলো কখনোই তাদের ন্যায্য প্রাপ্য পায় না।
মন্ত্রিত্ব আসে, সরকার পরিবর্তন হয়; কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের আভাস বিন্দুমাত্র নেই। এবারের সংসদ নির্বাচনের পর শুধু রংপুর বিভাগ থেকে পাঁচজন মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন অথচ জনসাধারণের জীবনের মানোন্নয়ন কেবল তিনবেলা আহারের জাঁতাকলেই পড়ে রয়েছে। যেখানে খাবার জোগান দিতেই হিমশিম খেতে হয়, সেখানে অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণ সাধারণের কাছে কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়! মুঘল আমলে প্রতি বছর এক বিশাল অঙ্কের খাজনা আদায় করত সম্রাটরা উত্তরাঞ্চল থেকে। এখনো সেসব শ্রমজীবী মানুষের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো অনেকটা দাঁড়িয়ে থাকলেও, তারা সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে দাঁড়াতে পারছেন না। এ মানুষগুলোর প্রতিপ্রকৃতি যেমন বিরুদ্ধ আচরণ করে তেমনি আমরাও!
এ বছর স্বাভাবিক বৃষ্টির চেয়ে তিনগুণ বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণে অনেক গ্রামে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়। বন্যার ফলে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টিও রংপুর বিভাগের জনগণের জন্য পুরনো। কেউ কেউ জমি হারায়, কেউবা বাড়িঘর, গবাদিপশু। সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তাও আসে। কতটুকু আসে সেটি পরবর্তী সময়ে ভাবার বিষয়। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা আগেই গ্রহণ করলে এ ক্ষতির পরিমাণ বহুলাংশে কমে আনা যায়। তথাপি নেই এক নদীর সঙ্গে আরেক নদীর সংযোগ বা যথাযথ পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা।
বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। অনেক কাজ আমরা আধুনিক যন্ত্র ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে দ্রুত সম্পাদন করতে পারছি, কিন্তু এই পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কার্যকর ক্রমবিকাশ তেমন হচ্ছে না। গত বছরেও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ অতিক্রম করেছে। এটি যেমন বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে, তেমনি একমাত্র অবহেলিত এই বঙ্গ : দেশের সচেতন সমাজকে ভাবাচ্ছে। যেখানকার অধিবাসী বঞ্চিত মুখ্য শিল্পকারখানাগুলো থেকে। তেমন কোনো প্রধান শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নেই। যে কয়েকটি আছে তার অনেক বন্ধ হয়ে গেছে।
সরকারকে অতি সত্বর এ ব্যাপারে সুদৃষ্টি কাম্য। স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ বপনের আজ কয়েক দশক পেরিয়েছে। এখন মানোন্নয়ন না হলে আমাদেরই ব্যর্থতা। উত্তরবঙ্গের জন্য সুদূরপ্রসারী সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও বরাদ্দের একান্ত প্রয়োজন। দরকারে কর্মের সুযোগ সৃষ্টি, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তা বৃদ্ধিতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। সঠিক জায়গায় প্রজেক্টের বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা তার স্বচ্ছ জবাবদিহি বাড়াতে হবে।

২৭/১ নাহার মঞ্জিল
গোরস্তান পাড়া, কুষ্টিয়া।
[email protected]

ডিসি