আর কতদিন উত্তরবঙ্গ অবহেলিত থাকবে!

আগের সংবাদ

বন্ধ হয়ে যাবে স্টার সিনেপ্লেক্স!

পরের সংবাদ

আবার শুরু হোক নতুন উদ্যমে

শামীম শিকদার

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ১২, ২০২০ , ১০:২১ অপরাহ্ণ

করোনায় থমকে দাঁড়িয়েছে সময়ের কাঁটা। বদলে গেছে নাগরিক জীবনের গতিপ্রকৃতি। পরিবর্তন হয়েছে মানুষের সামাজিকতার ধরন। জনশূন্য হাহাকার পথঘাট যেন পরিণত হয়েছে ভ‚তুড়ে নগরীতে। ঢাকার চিরাচরিত চিত্র গ্রাস করেছে করোনা ভাইরাস। ট্রাফিক জ্যাম, গাড়ির অনবরত হর্ন, কিংবা প্রতিদিন সকালে স্কুলে যাওয়ার অভ্যাস সবই বদলে গেছে। খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া পথেঘাটে মানুষ নেই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ, তাই শিক্ষার্থীদেরও আনাগোনা কম। রাস্তায় গাড়ির সংখ্যাও কম। গণপরিবহনে যাত্রীও কম। সবকিছু মিলিয়ে নাগরিক জীবন পাল্টে গেছে। তবে মানুষ নতুন উদ্ভ‚ত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। অনেকটা স্বাভাবিক হয়েছে সবকিছু। করোনা মহামারিতে যে লোকসান হয়েছে তা কোনোভাবে পুষিয়ে নেয়া সম্ভব নয়। তবুও নতুন উদ্যমে শুরু হচ্ছে বদলে যাওয়া জীবন।
মহামারির কারণে এরই মধ্যে বাসায় বসে অফিসের কাজ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। উন্নত বিশ্বে আগেও এর চল ছিল। কিন্তু করোনার পর এই ধরনকেই স্থায়ী করার কথা ভাবছেন অনেক উদ্যোক্তা। আগামী ২০২১ সাল পর্যন্ত তাদের সিংহভাগ কর্মী বাড়িতে বসেই অফিসের কাজ সম্পাদন করতে পারবেন বলে জানান গুগুল। টুইটারের সিইও জ্যাক ডরসি করোনাকাল চলে যাওয়ার পরও এভাবেই কাজ করার আগ্রহ পোষণ করেন। বিশ্বের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তাদের ওপর চালানো এক জরিপে দেখা গেছে, তারা চাইছেন, মোট কর্মশক্তির ২০ শতাংশকে বাড়িতে বসে কাজ করাতে। যুক্তরাষ্ট্রের জনশুমারি থেকে জানা যায়, এই প্রবণতা কয়েক বছর ধরেই বাড়ছে। ২০০০ সালে দেশটিতে মাত্র ৩ শতাংশ কর্মী ঘরে বসে কাজ করতেন। ২০১৭ সালে তা ছিল ৫ শতাংশ। ২০১৮ সালেই ঘরে বসে কাজ করার সুযোগ পাওয়া কর্মীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ২৯ শতাংশে। অর্থাৎ করোনায় বাসায় বসে অফিসের কাজ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
এক গবেষণায় একটি হিসাব দেখিয়ে বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাসের পরিস্থিতিতে দেশে নতুন ও পুরনো মিলিয়ে মোট জনগোষ্ঠীর ৪৩ শতাংশ মানুষ এখন দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। এর মধ্যে গ্রামে চার কোটি ২৯ লাখ ৯৪ হাজার ১২৭ জন। আর শহরে ২ কোটি ৭০ লাখ ২৮ হাজার ৭১৯ জন বাস করে। গ্রামের গরিব মানুষকে প্রতি মাসে ১ হাজার ৪৫০ টাকা করে নগদ সহায়তা দিলে লাগবে ৬ হাজার ২৩২ কোটি টাকা। আর শহরের মানুষকে মাসে ১ হাজার ৭৪৫ টাকা করে দিলে লাগবে ৪ হাজার ৭১৬ কোটি টাকা। গবেষণায় আরো বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় এপ্রিলে দেশে গরিব মানুষের আয়ের ৭৫ শতাংশ, অতি গরিবের আয় ৭৩ শতাংশ, গরিব হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা মানুষের আয় ৬৭ শতাংশ এবং গরিব নয় এমন মানুষের আয় ৬৫ শতাংশ কমে গেছে।
এখন সামাজিক-সাংস্কৃতিকসহ সব কর্মকাণ্ডই বন্ধ। কোনো আচার-অনুষ্ঠান নেই বললেই চলে। প্রায় প্রতিদিনই মরছে মানুষ। কিন্তু এই মৃত্যুবৃষ্টি কবে থামবে, আমরা এখনো তা জানি না। আবার কবে মানুষ উদ্বেগহীনভাবে আনন্দে অপরকে জড়িয়ে ধরবে, কবে মুখোশ খুলে মুক্ত বাতাসে শ্বাস নেবে, তাও অনুমান করা দুঃসাধ্য। এটা হতে পারে কয়েক মাস; বছরও। তবে নিশ্চিত যে মানুষ আবারো উঠে দাঁড়াবে। নতুন অভিজ্ঞতায়, নতুনভাবে।
কাপাসিয়া, গাজীপুর।
[email protected]

ডিসি