তোমার শরীরের প্রতিটি ইঞ্চিই সুন্দর!

আগের সংবাদ

বিশ্বে প্রথম করোনার ভ্যাকসিন তৈরির দাবি পুতিনের

পরের সংবাদ

সিনহা হত্যাকাণ্ড নিয়ে সিফাতের ফোনালাপ

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ১১, ২০২০ , ৪:৩৮ অপরাহ্ণ

টেকনাফে পুলিশের গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যা রহস্যের জট খোলেনি এখনো। তবে ঘটনার পর পুলিশ ও গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে তার সহযোগী শিপ্রা দেবনাথ ও সাহেদুল ইসলাম সিফাত যে বক্তব্য দিয়েছেন তার একাধিক অডিও রেকর্ড হাতে পেয়েছে ভোরের কাগজ।

স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ শিক্ষার্থীর বক্তব্যের সঙ্গে পুলিশের দায়েরকৃত মামলায় যাদের সাক্ষী করা হয়েছে তাদের বর্ণনায়ও ঘটনার কারণ রহস্যঘেরা। ঘটনার পর কক্সবাজারের পুলিশ সুপার স্থানীয় সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেছেন। শিপ্রা ও সিফাত এখন সিনহা হত্যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

এদিকে ঘটনার পর পুলিশ কর্মকর্তরা হ্যান্ডকাফ পরিয়ে সিফাতকে বাহারছড়া ফাঁড়িতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি ঘটনার বর্ণনায় বলেন, ওইদিন বিকেল ৩টার দিকে তারা পাহাড়ে ওঠেন এবং রাত সাড়ে ৮টার দিকে নিচে নেমে আসেন। তখন অনেক লোকজন জড়ো দেখে সিনহা নিজের পরিচয় দেন। লোকজন সরে গেলে তারা ১০ মিনিট পায়ে হেঁটে গাড়িতে ওঠেন। সিনহা ছিলেন গাড়ির চালকের আসনে।

সিফাতের ভাষ্য মতে, পাহাড়ে ওঠা এবং চেকপোস্টে গাড়ি থেকে নামা পুরো সময়টাই সিনহার অস্ত্র গাড়িতে ছিল। পুলিশ কর্মকর্তারা সিফাতকে বারবার জিজ্ঞেস করেন গুলির আগে কোনো তর্ক বাদানুবাদ হয়েছে কিনা। সিফাত বলেন, লিয়াকত কয়েকবার কাম ডাউন বলার পরই গুলির শব্দ পান তিনি।

পুলিশের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাহারছড়া ফাঁড়িতে সিফাতকে যখন পুলিশ কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদ করছিলেন তখন ইন্সরেপক্টর লিয়াতক ও টেকনাফ থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপ কুমার দাশও ছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদের সময় সিফাতের একহাতের হ্যান্ডকাফ খুলে বোতলে পানি পান করতে দেয়া হয়। কয়েক দফায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

সিফাতের ভাষ্যমতে, ঘটনার সময় খুব কাছে লোকজন ছিল না, দূরে ছিল। গুলির শব্দে লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তাছাড়া হানিফসহ ৩ যুবককে পাহাড় থেকে সিনহা কীভাবে নেমেছেন সে ব্যাপারে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাতে দেখা যায় তারা বলছেন, পাহাড়ের উপরে লোকজন ও লাইট দেখে তারা ডাকাত সন্দেহ করেন।

প্রসঙ্গত, ৩১ জুলাই রাতে শ্যামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান। এ ঘটনায় শিপ্রা ও সিফাতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা জামিনে ছাড়া পেয়েছেন। পুরো ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি কাজ করছে। সিনহার বড় বোনের দায়েরকৃত হত্যা মামলার তদন্ত করছে র‌্যাব।

এনএম