স্বাস্থ্য বিভাগ কি আজো গভীর ষড়যন্ত্রে?

আগের সংবাদ

বাবাকে নিয়ে ফেরা হলো না রাশেদের

পরের সংবাদ

বন্যার ক্ষয়ক্ষতি

কৃষকদের সহায়তায় গুরুত্ব আগে দিন

সম্পাদকীয়

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ১১, ২০২০ , ৮:৩৪ অপরাহ্ণ

দেশের বিভিন্ন স্থানে নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করলেও বানভাসিদের দুর্ভোগ কমেনি। এখনো অনেক স্থানে বসতবাড়ি ডুবে আছে। কোথাও আবার স্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে নদীভাঙন। বেড়েছে পানিবাহিত রোগ। করোনা সংকটের মধ্যে এ বন্যা যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে আবিভর্‚ত হয়েছে। এবারের বন্যায় দেশের প্রায় ৩০টি জেলা কমবেশি প্লাবিত হয়েছে। বন্যায় বড় প্রভাব পড়েছে দেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায়। এমনিতেই দেশের সড়ক-মহাসড়কগুলোর একটি বড় অংশের অবস্থা খুবই খারাপ। ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বে আউশ-আমনের আবাদ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত বন্যায় ৩৮টি জেলার ১ লাখ ৫৫ হাজার হেক্টর জমির ১৪টি ফসল আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে আউশ ও আমন ধানের পরিমাণই সবচেয়ে বেশি। রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, সিলেট, সুনামগঞ্জ, জামালপুর, নেত্রকোনা, রাজশাহী, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, টাঙ্গাইল জেলায় ১১টি ফসলের প্রায় ৭৬ হাজার ২১০ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৪১ হাজার ৯১৮ হেক্টর জমি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টাকার অঙ্কে এই ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৪৯ কোটি টাকা। মোট ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা ৩ লাখ ৪৪ হাজার জন। তবে কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দ্বিতীয় ধাপে ৩৮টি জেলার বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা না হলেও ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়বে। বন্যা অবশ্যই নতুন কিছু নয়। বৃষ্টি-অতিবৃষ্টি প্রাকৃতিক। পানি বাড়লে নদ-নদীতে পানি বাড়বে, কোথাও কোথাও লোকালয় প্লাবিত হবে, আবার পানি নেমে যাবে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু বন্যার গতি-প্রকৃতি, স্থায়িত্ব, ক্ষয়ক্ষতির বাস্তবতা এখন কি স্বাভাবিক? প্রতি বছর ছোট-বড় বন্যায় আমাদের ক্ষয়ক্ষতি বিবেচনায় নিয়ে এর প্রকোপ কমিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। এজন্য নদ-নদীগুলোর নাব্য বাড়াতে হবে সর্বাগ্রে। আমাদের অবিবেচনাপ্রসূত কর্মকাণ্ড ও অদূরদর্শিতায় একসময়ের খরস্রোতা তা নদীগুলো আজ জীর্ণ-শীর্ণ অথবা মরণাপন্ন অবস্থায় উপনীত হয়েছে। নদ-নদীগুলোকে অবশ্যই মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। যে কোনো দুর্যোগে সবার আগে মানবিক বিপর্যয়ের দিকগুলোর প্রতি গুরুত্ব দেয়া জরুরি। এজন্য বন্যাকবলিত এলাকাগুলোয় অসহায় মানুষ যাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে খাদ্য ও পানীয় পায়, এ ব্যাপারে বিশেষ যত্নবান হওয়ার পাশাপাশি তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়েও নজর দেয়া উচিত। মানবসৃষ্ট যেসব কারণ এ বন্যার জন্য দায়ী, সেগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। যেসব গ্রামীণ সড়ক চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে সেগুলো দ্ ‍ুত সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় সরকারের বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণা করতে হবে।

ডিসি