লেবাননের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ

আগের সংবাদ

দুঃসময়ে সুসংবাদ : রেমিট্যান্স প্রসঙ্গ

পরের সংবাদ

শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী ও তাঁর অমর বার্তা

গোপেশচন্দ্র সূত্রধর

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ১০, ২০২০ , ১০:২৯ অপরাহ্ণ

আজ হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম উৎসব জন্মাষ্টমী। করোনা ভাইরাস মহামারিকালে এবারের উৎসব সীমিত পরিসরে পালিত হবে। পূজার অনুষ্ঠানমালা শুধু ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে পূজা-অর্চনার মাধ্যমে মন্দির প্রাঙ্গণেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। কোনো প্রকার সমাবেশ, শোভাযাত্রা ও মিছিল করা হবে না। ভগবান জন্ম ও কর্মের অতীত হলেও মানব কল্যাণের জন্য তিনি বারবার মানব শরীরে মর্ত্যধামে নেমে আসেন। ভগবানের এই নেমে আসাকেই বলা হয় ‘অবতার’। এভাবে অবতার হয়ে ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে রোহিনী নক্ষত্রে গভীর রাতের আঁধারে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আবিভর্‚ত হয়েছিলেন। শ্রীকৃষ্ণের এই আবির্ভাব তিথিই হলো শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী। আর এই তিথিটি ঘুরেফিরে প্রতি বছরই আসে আমাদের কাছে। আর এই তিথিটিকে ঘিরে আমরা প্রতি বছরই আমাদের মনের মাধুরী মিশিয়ে ভগবানের জন্মতিথি পালন করে থাকি।
আবতাররা দৈত্য, অসুর কর্তৃক নিপীড়িত জগৎকে রক্ষা করার জন্য যুগে যুগে অবতীর্ণ হন। দুষ্টের বিনাসের জন্য, এই পাপ-পঙ্কিল পৃথিবীকে শুচিস্নাত করার জন্য ভগবান আবিভর্‚ত হন। শ্রীকৃষ্ণের জন্মের সময়ও পৃথিবী ছিল অশান্ত, পৃথিবী ডুবেছিল ভয়াবহ পাপীর শত-সহস্র পঙ্কিলতায়। অন্ধকারময় ঘনকালো এক রাতের আঁধারে, ভীষণ দুর্যোগময় সময়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এই মর্ত্যধামে এসেছিলেন। তখন মানুষের জীবন হিংসা, বিদ্বেষ, হানাহানি আর কুটিলতায় ও পঙ্কিলতায় পরিপূর্ণ ছিল। বিবেকের কণ্ঠস্বর ছিল রুদ্ধ। মানুষ ন্যায় ও ধর্মের পথে পথ চলতে পারত না, ওই সব পাপী আর অসুরের অত্যাচারে মানুষের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছিল। বিবেকবান মানুষ ছিলেন এই পাপময় অন্ধকারের প্রকোষ্ঠে আবদ্ধ। জগতের সর্বত্রই বিরাজ করছিল ঘুষ, দুর্নীতি, ত্রাস আর সন্ত্রাস। আমাদের বিবেককে ভগবানের আলোয় আলোকিত করার জন্য সব হিংসা, বিদ্বেষ ও পাপচারণকে দূর করে অসীমের সন্ধান করা। সব কলুষতা ও সন্দেহকে দূর করে আত্মবলে বলীয়ান হওয়া। কিন্তু আমরা কামনা-বাসনার কবলে পড়ে জন্মাষ্টমীর এই তাৎপর্যের সঙ্গে আমাদের হৃদয়কে সম্পৃক্ত করতে পারিনি যার ফলে আমাদের জীবনে নেমে আসে নানা প্রকার দুঃখ-কষ্ট আর দুর্ভোগ। আমাদের পদে পদে ঘটে পদস্খলন। আমরা এসবকে অতিক্রান্ত করতে পারিনি বলেই আমাদের স্বরূপকে জানতে পারিনি, আর আমাদের স্বরূপকে জানতে পারিনি বলেই আমরা অসীমের পথে অগ্রসর হতে পারিনি। কারণ সব সময়ই আমাদের মন পৃথিবীর এই জড় বস্তুর কামনা-বাসনার দিকে ধাবিত হতে থাকে। এই কামনা-বাসনার কারণে কোনো সময়েই ভগবানের আবির্ভাব আমাদের মনে আলোড়ন সৃষ্টি করে না। ভগবানের জন্য আমাদের মন ব্যাকুলিত হয় না, ভগবানকে পাওয়ার জন্য আমাদের দুই চোখ থেকে দু-এক ফোঁটা অশ্রæও বিসর্জন হয় না। ভগবানের ভালোবাসায় মন দ্রবীভ‚ত না হলে সীমার মাঝে যে অসীম বিরাজ করছেন তা আমরা কখনো অনুভব করতে পারব না। আমাদের অনুভ‚তির জাগরণ হয়নি বিধায়ই তো আমরা ভগবানকে চিনতে পারিনি, জানতে পারিনি, উপলব্ধি করতে পারিনি। সেজন্য ভগবানের সঙ্গে মিলিত হওয়ার জন্য আমাদের মনে কোনো ব্যাকুলতা আসেনি।
যেদিন আমাদের সেই বোধগম্যতা হবে, যেদিন আমাদের চেতনাকে ভগবানের আলোয় প্রোজ্জ্বল করে তুলতে পারব সেই দিনই ভগবানের জন্মদিন জন্মাষ্টমী পালন করা আমাদের সার্থক হবে। তাই আসুন, আমরা এই দিনটির অমর বার্তায় অভিস্নাত হয়ে নিজেদের জীবনকে উজ্জীবিত করে সবাই শুচিস্নাত হই জন্মাষ্টমীর পবিত্র পরশে।

কলাম লেখক।

ডিসি