দেড় লাখ ছাড়ালো সুস্থতার সংখ্যা

আগের সংবাদ

কাজী ফিরোজ রশীদের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

পরের সংবাদ

মিথ্যে সংসার

শফিক শাহরিয়ার

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ১০, ২০২০ , ২:৩৭ অপরাহ্ণ

 

স্বর্ণলতা, তোমাকে চিঠি লেখার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। কারণ আমি যে তোমার মতো সাজিয়ে-গুছিয়ে মিথ্যা কথা বলতে পারি না! কিছু কথা বলার দুঃসাহস নিয়ে শ্রাবণ রাতে কলমটা হাতে নিলাম। নদীর এই পাড়ে আমি। আমার গন্তব্য অজানা কোনো এক তীরে। আর ওই পাড়ে তুমি। তোমার গন্তব্য শান্তি-সুখের নীড়ে। মাঝখানে তুমিহীন দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেছি। এমনকি মুঠোফোনে বা ফেসবুকেও যোগাযোগ নেই। কিছুই বলার ইচ্ছে ছিল না। কিন্তু আজ কিছু কথা খুবই মনে পড়ছে। তুমি না শুনলেও বাতাসের কানে কানে বলব। না বলা কথাগুলো পাখিরা শুনবে। বলেছিলে তোমাকে নিয়ে কিছু লিখলে অসহ্য লাগে। তোমার কথামতো এড়িয়ে চলেছি বলেই তুমি ভীষণ খুশি। আসলে আমি নিজেকেই চিনতে পারলাম না। তোমাকে ভেবে ভেবে জীবনের হাজারো স্বপ্ন সাজালাম। একমুঠো স্বপ্ন সত্যি হলো না। তুমি এত কঠিন ললনা? বুঝলাম, পৃথিবীতে আমার মতো সহজ মানুষগুলো নিরপরাধে অশ্রু ঝরায়।

তোমাকে না বুঝে ভালোবাসার স্বপ্ন বুনেছি। একতরফা ভালোবেসে অবিনাশী গান শিখেছি। কতকাল থেকে সময়মতো দাড়ি শেভ করি না। আমার খবরাখবর আমিই রাখি না। সেদিন দাড়ি শেভ করতে গিয়ে বৃদ্ধাঙুল অজান্তেই কেটে গেল। কাটা দাগ পরোক্ষভাবে তোমার হয়ে কোনো সত্য সাক্ষী দিচ্ছে। নিজেকে ফিটফাট রাখার প্রয়োজন মনে করি না। তোমাকে জানিয়ে আমার কোনো লাভ নেই। জানলেও হেসে হেসে বলবে, এসব বড্ড পাগলামি। আজ কিছু কথা বলার সময় এসেছে। শুনতে না চাইলেও বলব। নইলে নিজের সঙ্গে বড় বেইমানি করা হবে। নিজের সঙ্গে বেইমানি করেছি বলেই ভালোবাসার ভুল মানুষটা চিনেছি। আমাকে মিথ্যে সান্ত¡না দিয়ে প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছো। বলেছিলে তুমি কারো সঙ্গে সম্পর্ক করবে না। গতকাল সোমবার ছিল। কারণবশত সেদিন বিয়ের কথা পাকাপাকি হয়নি। আজ মঙ্গলবার। তোমার বিয়ে মিটমাট হবে। জেনেছি, ছেলেটার বাড়ি তোমার পাশের গ্রামে। পাশের গ্রামই জানান দিচ্ছে, তুমি গভীর জলের মাছ। তুমি সংগোপনে প্রেমের মায়াজাল পেতেছো। আচ্ছা, সে কথা স্বীকার করলে আমি কি তোমাকে শূলে চড়াতাম?

আমাকে অবহেলার মাসুল একদিন দিতে হবে। সেদিন নিশ্চয়ই তুমি কারো অবহেলার শিকার হবে। তোমার চোখের ভারী অশ্রুগুলো বিষাদের কবিতা লিখবে। তুমি না বললেও আমি বুঝতে পারব। কারণ, আমি স্মৃতি দিয়ে তোমাকে ঘেঁষে থাকব। তুমি শত চেষ্টা করেও আমার মন ছুঁতে পারবে না। তখন আমি গোটা পৃথিবীর বুকে বেদনার চিহ্ন এঁকে যাব। আমি যেখানেই থাকি, পাখিদের সকরুণ সুরে শুনতে পাব তোমার বিষের বাঁশি। তোমাকে উপাধি দিলাম ‘রং’। প্রতিটি মুহূর্তেই তোমার রং বদলায়। তোমাকে চেনা সহজ নয়। রংধনু চেনা সহজ। তার পরিচয় সাতটি রঙে। তুমি চলো তারও অধিক ঢঙে। কিন্তু তোমাকে চিনতে গেলে সাত যুগ পেরিয়ে যাবে। সত্যের পৃথিবীতে মিথ্যের রাজত্ব করতে চাও? তোমার রাজত্ব কয়দিন টিকবে? সেটা দেখার অপেক্ষায় রইলাম! অথচ সত্য বলে আমাকে ফিরিয়ে দিতে পারতে। তোমাকে কখনো কোনোদিন অভিশাপ দিব না। শুধু জেনে রেখো, মিথ্যের সংসার খুব বেশি দিন টিকে না।
– কনইল, নওগাঁ

পিআর