সিনহার পরিবারে সাবেক সেনা কর্মকর্তারা

আগের সংবাদ

বিয়ের দাবিতে প্রেমিকার অনশন, অতঃপর মামলা

পরের সংবাদ

বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় আলাউদ্দীন আলী

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ১০, ২০২০ , ৫:৩৯ অপরাহ্ণ

মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে দেয়া অসংখ্য কালজয়ী গানে সুরের সুরভী ঢেলে দিয়েছিলেন আলাউদ্দিন আলী। যে সুরভী ছড়িয়ে গিয়েছিল সবখানেই। যার হাত ধরে এদেশের চলচ্চিত্র বহু গান উপহার পেয়েছে। প্রায় সব শিল্পীই তার গান কণ্ঠে তুলে নিয়ে ঠোঁট মিলিয়েছেন। নিজেকে ঋদ্ধ করেছেন সংগীত ভুবনে। মৃত্যুর মধ্য দিয়ে যেন সব সংগীত গেল থেমে! নিথর দেহে তার প্রিয় প্রাঙ্গণ এফিডিসিতে তিনি যখন এলেন তখন মুখরতা যেন হয়ে গেল মূখ! করোনার ভয় কাটিয়েও দেখা গেল চলচ্চিত্রের নানা পেশার সঙ্গে জড়িত মানুষরা ভিড় জমিয়েছেন তাকে শেষ শ্রদ্ধার ফুলটি দিতে। বিএফডিসিতে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর পর গতকাল সোমবার রাজধানীর মিরপুরের বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বরেণ্য এই সুরের বরপুত্রকে।

রোববার (৯ আগস্ট) আয়েশা মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এর আগে প্রখ্যাত এই সুরকার, গীতিকার ও সঙ্গীত পরিচালকের মরদেহ রাজধানীর বারডেম হাসপাতাল থেকে নেয়া হয় বনশ্রীর বাসায়। শিল্পীর মরদেহ বিটিভির সহকর্মীবৃন্দ ও এলাকাবাসীর শ্রদ্ধা জানানোর জন্য রাখা হয় সকাল সাড়ে ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত। এরপর নেয়া হয় খিলগাঁওয়ে আলাউদ্দিন আলির আদি বাড়িতে। সেখানে তাকে শেষবারের মতো দেখেন শিল্পীর প্রথম স্ত্রী মনোয়ারা বেগম ও অন্য স্বজনরা। দুপুর দেড়টায় খিলগাঁও তালতলা মোড়ে নুর-এ-বাগ জামে মসজিদে জানাজা শেষে তাকে নেয়া হয় এফডিসিতে। এখানে তার দ্বিতীয় জানাজার নামাজ শেষ হয়। এ সময় আলাউদ্দিন আলীকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে হাজিন হন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি, চিত্রগ্রাহক সংস্থা, গীতিকবি সংঘ, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, সহকারী পরিচালক সমিতিসহ অনেকে। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন আলাউদ্দিন আলীর ছেলে শওকত আলী গানা ও মেয়ে আলিফ আলাউদ্দিন।

ব্যক্তি পর্যায়ে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন সংগীতশিল্পী পার্থ বড়ুয়া, এস আই টুটুল, চিত্রনায়ক ওমর সানী, গীতিকার কবির বকুল, জুলফিকার রাসেল, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার, মিউজিশিয়ান ফেডারেশনের সভাপতি গাজী আব্দুল হাকিম প্রমুখ। আলাউদ্দিন আলী এ পর্যন্ত ৮ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। এরমধ্যে ১৯৭৮ থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত টানা তিনবার পুরস্কৃত হয়ে সংগীত পরিচালক হিসেবে রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। যে রেকর্ড আজও কেউ ভাঙতে পারেনি। দেশ বরেণ্যে এই সংগীত পরিচালকের ২০১৫ সালের জুন মাসে ক্যানসার ধরা পড়ে। এরপর থেকে তিনি কয়েক দফায় বিদেশেও চিকিৎসা নিয়েছেন। কিন্তু আর উঠে দাঁড়াতে পারেননি। ফিরতে পারেনি জীবনে ও সংগীতে।

আলাউদ্দিন আলী ১৯৭৫ সাল থেকে সংগীত পরিচালনা করে বেশ প্রশংসিত হন। ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘সুন্দরী’, ‘কসাই’ এবং ‘যোগাযোগ’ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া ১৯৮৫ সালে তিনি শ্রেষ্ঠ গীতিকার হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া তিনি খ্যাতিমান পরিচালক গৌতম ঘোষ পরিচালিত ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনা করেছেন। তার সুর করা গানের সংখ্যা ৫ হাজারেরও বেশি। আলাউদ্দিন আলী বাংলা গান, বিশেষ করে বাংলা চলচ্চিত্রে অসংখ্য শ্রোতাপ্রিয় গান তৈরি করেছেন। আলাউদ্দিন আলী ১৯৫২ সালের ২৪ ডিসেম্বর মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বাঁশবাড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। বাবা ওস্তাদ জাদব আলী। মায়ের নাম জোহরা খাতুন।

দেড় বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে ঢাকার মতিঝিলের এজিবি কলোনিতে চলে আসেন আলাউদ্দিন আলী। তিন ভাই ও দুই বোনের সঙ্গে সেই কলোনিতেই বড় হন এই গুণী শিল্পী। তার সংগীতে প্রথম হাতেখড়ি ছোট চাচা সাদেক আলীর কাছে। পরে ১৯৬৮ সালে বাদ্যযন্ত্র শিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্র জগতে পা রাখেন। শুরুটা শহীদ আলতাফ মাহমুদের সহযোগী হিসেবে, পরে প্রখ্যাত সুরকার আনোয়ার পারভেজের সঙ্গে কাজ করেন দীর্ঘদিন। বর্ণাঢ্য এক সংগীতমুখর জীবন যাপন করেছিলেন তিনি। মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সব সংগীত থেমে গেল চিরতরে।

এসএইচ