কবে শিক্ষাঙ্গনে প্রাণ ফিরে আসবে

আগের সংবাদ

অনুশীলনে ফিরলেন সৌম্য সরকার

পরের সংবাদ

স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকা প্রকাশের উদ্যোগ

বিতর্কমুক্ত স্বচ্ছ তালিকা হোক

সম্পাদকীয়

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ১০, ২০২০ , ১০:৩৬ অপরাহ্ণ

এবার স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার, আলবদর, আলশামসের তালিকা তৈরি ও তা প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে সংসদীয় কমিটি। গত রবিবার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি শাজাহান খানকে আহ্বায়ক করে তালিকা তৈরির জন্য একটি সাব-কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা আশা করছি এই তালিকা প্রকাশের মধ্য দিয়ে একাত্তরের ঘাতকদের নতুন প্রজন্ম জানতে পারবে। তবে তালিকা যেন নির্ভুল থাকে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। এর আগে গত বছর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তথ্য নিয়ে স্বাধীনতাবিরোধীদের বিতর্কিত তালিকা প্রকাশের পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে তা বাতিল করে সরকার। দ্বিতীয়বার এই ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা আমরা দেখতে চাই না। জানা গেছে, সংসদীয় কমিটির তালিকা তৈরিতে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের মধ্যে যারা সংসদ সদস্য আছেন, তাদের সহযোগিতা নেয়া হবে। এই সাব-কমিটি যুদ্ধকালীন কমান্ডার এবং উপজেলা পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড থেকে রাজাকারদের তথ্য সংগ্রহ করবে। দীর্ঘ প্রায় অর্ধশতাব্দীকাল পর রাজাকারদের তালিকা তৈরির যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, তাকে সাধুবাদ জানাতে হবে। স্বাধীনতা লাভের পরপরই যুদ্ধাপরাধী, রাজাকারসহ এদের তালিকা চ‚ড়ান্ত করা যুক্তিযুক্ত ছিল। কিন্তু সেটি করতে না পারার ব্যর্থতায় বাঙালি জাতিকে এখনো মূল্য দিতে হচ্ছে নানাভাবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের আন্দোলন ও শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চ থেকেও উচ্চারিত হয়েছিল রাজাকারদের তালিকার দাবিটি। দেরিতে হলেও সে দাবি কিছুটা আলোর মুখ দেখছে। জানা গেছে, একাত্তরের মে মাসে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালি নিধনে পাকিস্তানি সেনাদের সহায়তা দিতে গঠিত হয় রাজাকার বাহিনী। খুলনায় খান জাহান আলী রোডের একটি আনসার ক্যাম্পে ৯৬ জন পাকিস্তানপন্থি কর্মী নিয়ে রাজাকার বাহিনী গঠন করা হয়। পরে দেশের অন্যান্য অংশেও গড়ে তোলা হয় এই বাহিনী। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ৭ সেপ্টেম্বর জারি করা এক অধ্যাদেশ বলে রাজাকার বাহিনীর সদস্যদের সেনাবাহিনীর সদস্যরূপে স্বীকৃতি দেয়। এর সংখ্যা ছিল অন্তত ৫০ হাজার। শাহ আজিজ, গোলাম আযম, সবুর খান, আয়েনউদ্দিনসহ ইসলামি দলগুলোর নেতারা রাজাকার বাহিনীর পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তবে সবকিছুর পেছনে পাকিস্তানের গোয়েন্দা বাহিনী এবং তাদের জেনারেলরা সরাসরি রাজাকার বাহিনী তৈরি করেছিল। রাজাকার ছাড়াও স্বাধীনতাবিরোধী আলবদর, আলশামস এবং শান্তি কমিটিসহ বিভিন্ন সংগঠন ছিল, বাকি সংগঠনগুলোর সদস্যদের তালিকাও পর্যায়ক্রমে প্রকাশের উদ্যোগ রয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। ২০১০ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরুর মাধ্যমে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করার যে প্রয়াস শুরু হয়, তার পূর্ণতা পেতে যাচ্ছে রাজাকারদের তালিকা তৈরির মাধ্যমে। অসংখ্য রাজাকার, আলবদর, আলশামস দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। তাদের তালিকা তৈরি করে প্রকাশ করলে এই জাতি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানতে পারবে স্বাধীনতাবিরোধী কারা। তালিকা তৈরির পর এদের সামাজিকভাবে প্রত্যাখ্যানের ডাক দিতে হবে। তবে সতর্কও থাকতে হবে রাজাকারদের তালিকা প্রকাশ যেন বিতর্কমুক্ত হয়। প্রকৃতই যারা পাকিস্তানিদের সহযোগিতা করেছে অথবা মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিল, তারাই যেন শুধু তালিকাভুক্ত হয়। ব্যক্তি বা গোষ্ঠীস্বার্থে কিংবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে যাতে তালিকা তৈরি না হয়, সে ব্যাপারে শতভাগ সততার পরিচয় দিতে হবে। রাজাকারের সন্তান, যারা তাদের বাবার মতো আজো মুক্তিযুদ্ধকে প্রশ্নবোধক রাখতে চায়, তাদেরই চিহ্নিত করতে হবে আজ।

ডিসি