শিক্ষা নিতে হবে সবাইকে

আগের সংবাদ

মহাখালী করোনা হাসপাতাল দ্রুত চালুর উদ্যোগ নিন

পরের সংবাদ

যে লেখা সময়োচিত নয় কেবল, জরুরিও

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ৯, ২০২০ , ৭:১২ অপরাহ্ণ

লেখা প্রকাশ করার কথা খবরের কাগজের। তারা সেটা ঠিকমতো করতে পারে না। যা লিখতে চায় তা লিখতে পারে না। নিষেধগুলো দণ্ডায়মান থাকে পাহারায়। যে জন্য ইদানীং দেখা যাচ্ছে পত্রিকার পাঠক কমে যাচ্ছে। অন্য কারণও আছে, তবে সবচেয়ে বড় কারণ স্বাধীনভাবে লিখতে না পারা। সংবাদপত্রের স্বাধীনতার সাক্ষী সংবাদই, যে সংবাদ উঁকি দেয়, কিন্তু যাকে চাপা দিতে হয়। আরেক সাক্ষী পত্রিকার সম্পাদকীয়। দেখা যাবে পত্রিকার সম্পাদকীয়ই হচ্ছে সবচেয়ে কম আকর্ষণীয়। কারণ সেগুলো দায়সারা গোছের, অধিকাংশ সময়েই খালি জায়গাটা ভরতে হয় তাই বুঝি লিখতে হয়। সেটা যারা লেখেন তারা জানেন, যারা পড়েন তারা টের পান একেবারে প্রথম বাক্যটি পড়েই, কখনো-বা এমনকি শিরোনামটি দেখেই। অথচ সম্পাদকীয়র হওয়া চাই স্বাধীন ও নির্ভীক কণ্ঠস্বর। হায়রে, দেখতে পাচ্ছি কণ্ঠ আছে তবে কণ্ঠের স্বর বড়ই ক্ষীণ।
সবচেয়ে জবর খবর হওয়ার কথা রাজনীতির। কারণ তাতে মানুষের আগ্রহ থাকে। রাজনীতির মূল জায়গাটা হচ্ছে রাষ্ট্রক্ষমতা। প্রাণ ভোমরাই বলা চলে। সেই ক্ষমতা যাদের হাতে থাকে আমজনতার সমষ্টিগত ভাগ্যও তাদের হাতেই ন্যস্ত। ব্যক্তিগত ভাগ্যগুলো রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রণের বাইরে নয়। দেশে রাজনীতি অবশ্যই আছে, কিন্তু জনসাধারণের জন্য রাজনীতির কোনো খবর নেই। খবর তৈরি হতে পারত যদি বিরোধী দল মাঠে থাকত। তারা মাঠে নেই অর্থাৎ কিনা মাঠে থাকার মতো অবস্থা তাদের নেই। একচ্ছত্র দল একতরফা দৌড়াদৌড়ি করে যতই গোল দিক না কেন, তাতে দর্শকদের কোনো কৌত‚হল থাকে না। তারা মাঠে যেতেও চায় না, যার প্রমাণ সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোতে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে না চাওয়া। তা দেশে সব ধরনের নির্বাচনের ব্যবস্থাটাই এখন মোটামুটি ধরাশায়ী অবস্থার কাছাকাছি গিয়ে পৌঁছেছে। এমনকি নির্বাচনে কোনো মতে জিতলেও বিপদ-আপদ পিছু ছাড়ে না। যেমনটা ডাকসুর বর্তমান ভিপি টের পাচ্ছে। তাকে বারবার বহুবার প্রহার তো করা হয়েছেই, এখন নাকি প্রাণনাশের হুমকিও সে পাচ্ছে। জাতীয় সংসদের কয়েকটি উপনির্বাচন হয়ে গেল। একটি কেন্দ্র থেকে ‘সুখবর’ পাওয়া গিয়েছিল। শোনা গিয়েছিল সরকারি দলের ছাড়া অন্যসব দলের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রই বাতিল হয়ে গেছে। সুখবর এই জন্য যে, তাতে সরকারি দলের পক্ষে মাঠে না গিয়েই জেতার সম্ভাবনা সুনিশ্চিত ছিল, তাতে করে অর্থ ও শ্রমের অপব্যয় থেকে দেশ ও জাতি কিঞ্চিৎ পরিমাণে হলেও পরিত্রাণ পেত। পরে জানা গেল আপিলে বিএনপি প্রার্থীর আবেদন না টিকলেও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরটা টিকেছে। নির্ভেজাল ‘সুখবর’ পাওয়াটা এখন দেখা যাচ্ছে আমাদের জন্য সত্যিই কঠিন হয়ে পড়েছে।
যেমন শামীমা নূর পাপিয়ার ঘটনা। পাপিয়ার ডাকনাম নাকি পিউ। নরসিংদীর একটি মেয়ে। কে আর তার খবর রাখত? তার নামটা অবশ্য বেশ কাব্যিক। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম পাপিয়া নামটিকে স্মরণীয় করে রেখে গেছেন। গানের পাখি পাপিয়াকে নিয়ে তার একাধিক গান আছে। যেমন পিউ পিউ বিরহী পাপিয়া বোলে, পিউ পিউ বোলে, পিয়া পিয়া পাপিয়া পুকারে। আবার একটা গান আছে পিউ নয় পিও নিয়ে। ‘পিও পিও হে প্রিয় শরাব পিও’, এই মর্মে। গানটির ভেতরকার ছবিটা বেশ রোমঞ্চকর। ‘পিও পিও হে প্রিয় শরাব পিও/ চোখে রঙের নেশা লেগে সব অবসাদ হোক রমণীয়’, ইত্যাদি।
তা কবিদের কল্পনা অনেক দূর যায়, কিন্তু নজরুলের অসাধারণ কল্পনাও হার মেনেছে বাংলাদেশের এক মেয়ের অসাধারণ এক পাপিয়া হয়ে ওঠার কাছে। বাস্তবতা পরাভ‚ত করেছে কল্পনাকে। পাপিয়া তার রংমহলের অতিথিদের শরাব পান করানোর জন্য দেশ থেকে তো অবশ্যই, বিদেশ থেকেও মেয়েদের চালান আনত বলে জানা যাচ্ছে। জন বারোকে নাকি এনেছিল সুদূর রাশিয়া থেকে। রাশিয়াতে সমাজতন্ত্রের পতনে যে বুর্জোয়ারা অত্যন্ত উৎফুল্ল হয়েছিলেন ‘মানবমুক্তি’র শুভোদয়ের লক্ষণ দৃশ্যমান হচ্ছে মনে করে, বর্তমানে সে দেশের মেয়েদের এই হাল দেখে তারা হাততালি দেবেন কিনা জানি না, দিলে কাকে যে দেবেন তাও জানি না, মানুষের পতনকে নাকি ‘ব্যক্তিস্বাধীনতার মুক্তি’কে? তবে বাস্তবতা এই যে রুশ দেশের মেয়েরা এখন বাংলাদেশের মতো গরিব দেশে এসে ভাড়া খাটে। উন্নতির তাড়া এতটাই দুর্দান্ত।
তা পাপিয়ার উত্থানের রহস্যটা কী? নিশ্চয়ই তার ‘মেধা’ ছিল, যে মেধাকে সে কাজে লাগিয়েছে। তার মেধাই তাকে বাতলে দিয়েছে উঠতে হলে কোন সিঁড়িটা ধরা চাই। সিঁড়িটা রাজনীতির। বলাই বাহুল্য, সরকারদলীয় রাজনীতির। পাপিয়া নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিল। তার আগে সে ছিল ছাত্রলীগের একজন সাধারণ কর্মী। পাপিয়ার পদটা ছোট, কিন্তু ওই পদকে ব্যবহার করবার মতো বড় মেধা পাপিয়ার ছিল। সেটা সে ব্যবহার করেছে এবং তরতর করে ওপরে উঠে গেছে। না, বড় নেতা হয়নি। সেটা হওয়া তার লক্ষ্য ছিল না। মোটা টাকা করেছে, টাকার জোরে এবং রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে সে ভীষণ ক্ষমতাবান হয়ে উঠেছে। সেটাই ছিল তার লক্ষ্য। তার নিজস্ব একটি বাহিনী ছিল। নাম কেএমসি, খাজা মাঈনুদ্দীন চিশতির নামে নাম। কর্মোদ্ধারে আমাদের দেশের রাজনীতিকরা ধর্মকে ব্যবহারে কার্পণ্য করেন না, কার্পণ্য পাপিয়াও করেনি। তবে তার ক্ষেত্রে ধর্মের ব্যবহারটা বেশ অসাম্প্রদায়িক। তার আলয়ে নাকি কেবল ইসলাম ধর্মের নয় হিন্দু ও খ্রিস্টান ধর্মের প্রতীকও পাওয়া গেছে।
পাপিয়া টাকা করেছে এবং টাকা খরচও করেছে, যাতে আরো টাকা করা যায়। ব্যবসার নিয়ম এটাই। টাকা খাটাতে হয়, টাকাই টাকা ধরে নিয়ে আসে। শোনা যাচ্ছে ওই যে ছোট্ট একটা পদ, নরসিংদী জেলার যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক, ওই পদ পাওয়ার জন্য তার বিনিয়োগ ছিল গুনে গুনে ৪ কোটি টাকার। তারপরে এমপি হওয়ার জন্য আরো বড় বিনিয়োগ সে করেছিল। সেটা ১০ কোটির। এক্ষেত্রে অবশ্য ফল পায়নি, টাকাটা মার গেছে। বেইমানি করা হয়েছে তার সঙ্গে। এমপি হলে তার ক্ষমতা যে বহুগুণে ফুলে-ফেঁপে উঠত তা অনুমান করা যায়। তবে অতটা হয়তো সে উঠতে পারত না যতটা লক্ষ্মীপুর এলাকার এক এমপি সাহেব উঠেছেন। তিনি চৌদ্দশ কোটি টাকা পাচারের দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন। টাকাটা এসেছে মূলত নারী পাচার থেকে। তার স্ত্রীও নাকি একজন এমপি, সংরক্ষিত মহিলা আসনে। দুয়ে মিলে করি কাজ। নরসিংদীর পাপিয়ার আশা ছিল, ভরসাও ছিল। ভরসাটা হলো রাজনৈতিক। অনৈতিক কাজে রাজনৈতিক ভরসা। মন্ত্রী-এমপিদের সঙ্গে তার ওঠাবসা ছিল, সে কারণে অন্যরা তাকে সমীহ করত। তদুপরি পুলিশ ও প্রশাসনের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কেউ কেউ নাকি তার আসরে পদধূলি দিতেন। সে ঘটনাও তাকে ক্ষমতা দিয়েছিল। কিন্তু ধরা পড়ল কেন? সেটা আমরা জানি না। সে রহস্য পরিষ্কার হওয়ার সম্ভাবনা কম। হতে পারে পাপিয়ার কাজ এত বড় হয়ে উঠেছিল যে আবরণ দিয়ে তাকে আর ঢেকে রাখা সম্ভব হচ্ছিল না। আবার এমনো সম্ভব যে ঈর্ষাকাতর কেউ বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। অপরাধ জগতে তুমি কার, কেই-বা তোমার।
সড়ক ও সেতুমন্ত্রী, যিনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকও, বলেছেন যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই পাপিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তার বক্তব্যে ‘ই’ প্রত্যয়ের ব্যবহারটি লক্ষ করবার মতো। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই হয়েছে, বুঝলাম; কিন্তু এমন একটি অপরাধের ব্যাপারে তার নির্দেশ প্রয়োজন হলো কেন? পুলিশের গোয়েন্দা ও দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তকারীরা কি উদাসীন ছিলেন? কর্তব্যে অবহেলা? জিজ্ঞাসা আরো একটা থাকে। ঘটনা নিশ্চয়ই একদিনের নয়, এবং এমন ঘটনা হয়তো আরো ঘটছে, কিন্তু সেগুলোর রহস্য উন্মোচনও কি অপেক্ষায় আছে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত নির্দেশের?
পাপিয়া অবশ্য একটা হুঁশিয়ারি দিয়েছে। বেশি চাপাচাপি করলে সে সব কিছু ফাঁস করে দেবে। তাতে তার সহযোগীদের হৃদকম্প সৃষ্টি হতে পারে। তবে এমনো শঙ্কা যে হুঁশিয়ারিপ্রাপ্তরা তৎপর হবেন আত্মরক্ষার জন্য। ব্যস্ত হয়ে পড়বেন তারা পাপিয়ার মুখ চাপা দিতে।
যুব মহিলা লীগ এবার খবরে এলো, যুব পুরুষ লীগ এসেছিল এর আগে। ওই যুবলীগের ‘সম্রাট’রা নানা পন্থায়, বিশেষ করে আধুনিক জুয়া খেলার অর্থাৎ ক্যাসিনোর আয়োজনের মধ্য দিয়ে যে অকল্পনীয় পরিমাণের অর্থসম্পদের মালিক হয়েছে তা কাগজে এসেছে। র‌্যাব ও পুলিশ এগিয়ে গেছে। তারাও যে সম্রাটের হুমকির মুখে পড়েনি এমন নয়, পড়েছিল। বয়সে সত্তরোর্ধ্ব যুবলীগের সভাপতিও যুৎসই একটা ধমক দিয়েছিলেন, কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী তাতে দমেনি। কারণ নিশ্চয়ই এই যে ঊর্ধ্বতন মহলের সবুজ সংকেত পাওয়া গেয়েছিল। সে সংকেত পেলে নিতান্ত অচল গাড়িও সচল হয়।
ওই বড় কাজটি থেকে মূল রাজনৈতিক দলের লোকরাও যে বিরত থাকেন তা নিশ্চয়ই নয়। আবারো স্মরণ করতে হয় যে রাজনীতির মূল কথাটাই ক্ষমতা। ক্ষমতা থাকলে টাকা আসে, টাকা থাকলে ক্ষমতা বাড়ে। পুরান ঢাকার গেণ্ডারিয়ার ছোট্ট গলিতে ছোট্ট এক টিনশেড বাড়িতে থাকত তারা দুই ভাই, এনু ও রুপন; যন্ত্রপাতি মেরামতের একটা দোকান ছিল তাদের। কিন্তু ওই যে কথা মেধা। সেটা ছিল দুই ভাইয়ের এবং অসন্তুষ্ট ছিল তারা নিজেদের ভাগ্য নিয়ে। তারা বড়লোক হতে চেয়েছে এবং পাপিয়ার মতোই নিজস্ব মেধার গুণে বুঝে ফেলেছে যে দ্রুত ও অনেক বড় হতে হলে দলবাজির পথটাই ধরতে হবে। দুই ভাই প্রথমে যুবলীগে গেছে। সেখান থেকে আওয়ামী লীগে। না, বড় কোনো পদ পায়নি। এক ভাই পেয়েছে গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতির পদ, অন্যজন যুগ্ম সম্পাদকের পদ। সামান্য? হতে পারে সামান্য, কিন্তু পদ তো! পদ হচ্ছে পায়ের মতো। থাকলে মনে হয় সামান্য, না থাকলে বোঝা যায় মজা। থানা (জেলা নয়) আওয়ামী লীগের ছোট পদকে মেধা খাটিয়ে তারা দুই ভাই কাজে লাগিয়েছে ওপরে ওঠার জন্য, নইলে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে বড়জোর নিজেদের ওই মেরামতের দোকানটাকে এক দরজার জায়গাতে দুই দরজার করতে পারত এবং জীবন চলত চার পায়ে, হামাগুড়ি দিয়ে। পদকে ব্যবহার করে দুই ভাই টাকা করেছে।
তা টাকা জিনিসটা ভারি চঞ্চল। সর্বদাই উড়ু উড়ু করে। উড়বে, উড়ে হয়তো যেখানে-সেখানে গিয়ে পড়বে, অপচয় ঘটাবে; নয়তো উড়ে চলে যাবে বিদেশে। এনু-রুপন টাকার এই চঞ্চল স্বভাবের ব্যাপারে অজ্ঞ ছিল না। টাকাকে তারা কিছুটা বশ করেছে দালানকোঠা কিনে। কিন্তু কিনবার মতো কত আর দালানকোঠা পাওয়া যায় পুরান ওই ঢাকা শহরে? টাকা নিয়ে এখন তারা কি করে? ভরেছে সিন্দুকে, ট্রাংকে, ছালাতে, পুঁতেছে মাটির তলে। নিশ্চয়ই সুযোগ খুঁজছিল বিদেশে পাচার করবার। নসিব খারাপ, হঠাৎ করেই ধরা খেয়ে গেল। ঠিক যেভাবে পাপিয়া পিউ ধরা পড়েছে।
পত্রিকা লিখেছে যে এসব খবর নিয়ে আওয়ামী লীগ মোটেই গা করছে না। আমাদেরও কিন্তু ওসব গা-সওয়া হয়ে যাচ্ছে। বিরোধী দলের দু’একজন দেখলাম ভয়ে ভয়ে বলতে চেষ্টা করেছেন যে এসব ঢাকনা-তোলা সরকারি দলেরই কারসাজি; দেশে যে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট চলছে তার থেকে লোকের দৃষ্টি সরিয়ে রাখার ফন্দি। তবে যে যাই বলুন, খবরগুলো বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং তাতে যে শাসক দলের সম্মান বৃদ্ধি পেয়েছে এমনটা মোটেই নয়।

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী : ইমেরিটাস অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

ডিসি