যে লেখা সময়োচিত নয় কেবল, জরুরিও

আগের সংবাদ

তাহিরপুর সীমান্তে ভারতীয় কয়লা আটক

পরের সংবাদ

মহাখালী করোনা হাসপাতাল দ্রুত চালুর উদ্যোগ নিন

সম্পাদকীয়

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ৯, ২০২০ , ৭:১৫ অপরাহ্ণ

করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোর প্রস্তুতি নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। প্রস্তুতির ঘাটতি নিয়ে গণমাধ্যমে নানা খবর দেখতে হয়েছে। গতকাল ভোরের কাগজে প্রধান প্রতিবেদনে মহাখালীতে নির্মিতব্য করোনা হাসপাতাল নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ১৪১ কোটি ২৭ লাখ ৭৮ হাজার টাকা খরচে নির্মিতব্য মহাখালী করোনা হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা কখন শুরু হবে? হাসপাতালটির ৪০ ভাগ কাজ এখনো বাকি রয়েছে। গত এপ্রিল থেকে শুরু করে এখনো পর্যন্ত ভেন্টিলেটরসহ আইসিইউ সরঞ্জাম কেনার ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এসব সরঞ্জাম কেনার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে স্বাস্থ্য খাতের প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা। এমন পরিস্থিতিতে সব কাজ শেষ হতে আরো তিন থেকে চার মাসও লেগে যেতে পারে। ফলে করোনা রোগীরা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। হাসপাতালটি চালুকরণে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে। এই সংকটে দেশের কাজকর্মে স্বাভাবিকতা থাকলেও করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মৃত্যুর হারও কম নয়। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ব্রিফিংয়ে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ৪৮৭ জনের করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। একই সময় করোনায় মারা গেছেন ৩৪ জন। এ নিয়ে দেশে ২ লাখ ৫৭ হাজার ৬০০ জনের করোনা শনাক্ত হলো। দেশে করোনায় সংক্রমিত হয়ে মোট মারা গেছেন ৩ হাজার ৩৯৯ জন। সার্বিক চিত্রটি ভয়াবহ। এমতাবস্থায় আমরা গা ছেড়ে দিলে সামনে হয়তো আরো খারাপ পরিস্থিতি দেখতে হবে। বিশ্ব পরিস্থিতি বিবেচনায় করোনা সংক্রমণের সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে যখন বাংলাদেশ, তখন প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে আক্রান্তদের জন্য বিশেষ আইসোলেশন ইউনিট স্থাপনের কথা বলে আসছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ উপেক্ষিত হয়ে আসছে। এই নিয়ে তুঘলকি কাণ্ডও কম ঘটেনি। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা দিতে ঢাকা ও এর আশপাশের ১২টি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালকে বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছিল। বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল, শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, রেলওয়ে জেনারেল হাসপাতাল, মহানগর জেনারেল হাসপাতাল এবং মিরপুর লালকুঠি মাতৃ ও শিশু হাসপাতালকে নির্বাচন করে সরকার। এসব হাসপাতালে নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্সসহ প্রয়োজনীয় জনবল। তেমনি অভাব আছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামেরও। সবকটিতে আইসিইউ সেবা নেই। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে পর্যায়ক্রমে সবকিছু স্বাভাবিক হবে। এই হাসপাতালগুলোর সঙ্গে পরে ঢাকা মেডিকেল সেবা কার্যক্রম শুরু করে। এরপর বড় পরিসরে মহাখালীতে করোনা হাসপাতাল নির্মাণকাজ শুরু করে সরকার। নির্মাণাধীন এই হাসপাতালের সরকারি অর্থায়নে হচ্ছে এক হাজার শয্যার হাসপাতাল। অন্যদিকে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে হচ্ছে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল। একই ভবনে নির্মিত দুটি হাসপাতালে যন্ত্রপাতি ক্রয়সহ ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪১ কোটি ২৭ লাখ ৭৮ হাজার ৩৩২ টাকা। কিন্তু এপ্রিলে নির্মাণকাজ শুরু হলেও আজো শেষ করতে পারিনি। এবং যথাসময়ে শেষ করতে না পারলে ব্যয়বহুল এই হাসপাতালটি জনগণের সেবায় স্থায়ী রূপ দেয়ার প্রস্তাব করেছেন মেয়র আতিকুর রহমান। মেয়রের এমন প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য বলে মনে করি। এটা বাস্তবায়ন হলে সাধারণ রোগীরা উপকৃত হবেন।

ডিসি