‘ম্যানেজ’ মাস্টার ওসি প্রদীপ দাশ

আগের সংবাদ

শ্রীমঙ্গলে চা শ্রমিক দম্পতির মৃত দেহ উদ্ধার

পরের সংবাদ

বড় ঘাটতি নিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জে এনবিআর

আলী ইব্রাহিম

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ৯, ২০২০ , ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ

সদ্য বিদায়ী ২০১৯-২০ অর্থবছরে বড় ধরনের রাজস্ব ঘাটতির মুখে পড়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। করোনার আঘাতে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে রাজস্ব আদায়ে। আয়কর ও ভ্যাট আদায়ে চরম বিপর্যয় লক্ষ্য করা গেছে। সব মিলিয়ে লক্ষ্যমাত্রা সংশোধন করার পরও বিদায়ী অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮২ হাজার কোটি টাকা। আর নতুন ২০২০-২১ অর্থবছরে আরো বাড়িয়ে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তাই রাজস্ব আদায়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে এনবিআর। এনবিআর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, সদ্য বিদায়ী ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২৫ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৩ লাখ ৫শ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৪০৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ বিদায়ী অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮২ হাজার ৯৩ কোটি টাকা। বিদায়ী অর্থবছরের রাজস্ব আহরণের প্রবৃদ্ধিও ছিল নেতিবাচক বা মাইনাস (-) ২.২৬ শতাংশ। করোনার সবচেয়ে বড় আঘাত এসেছে আয়কর ও ভ্রমণ খাতে। এই খাতে বিদায়ী অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৬ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকা, আদায় হয়েছে ৭৩ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ আয়করে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা।

বিদায়ী বছরে ঘাটতি ৮২ হাজার কোটি টাকা
আয়করেই ঘাটতি ৩৩ হাজার কোটি টাকা
নতুন বছরে লক্ষ্যমাত্রা আরো বেড়েছে

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাজেট প্রণয়নের সময় এনবিআরের বাস্তবতা, দক্ষতা ও সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা উচিত। এ ছাড়া সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা যখন নির্ধারণ করা হয় তখনো বাস্তবসম্মতভাবে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা উচিত। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম ভোরের কাগজকে বলেন, প্রতিবছরই এনবিআরের সক্ষমতা, দক্ষতা বিবেচনায় না নিয়ে এক ধরনের অবাস্তব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়া হয়। এতে এনবিআরের কার্যক্রমে এক ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। আর বর্তমান এনবিআর চেয়ারম্যানও এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয় বলে চিঠি দিয়ে এনবিআরকে জানিয়েছেন। বড় কথা হলো প্রতিবছর বাজেটে এনবিআরকে একটা অবাস্তব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়া হয়, যা বছর শেষে বাস্তবায়ন সম্ভব হয়। এ ছাড়া অর্থবছরের ৯ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও যে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় তাও বাস্তবায়ন হয় না। আর এনবিআরে ডিজিটালাইজ প্রক্রিয়াও শেষ হয়নি। সব মিলিয়ে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নযোগ্য হওয়া উচিত বলে মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ।

এনবিআর সূত্র জানায়, রাজস্ব আদায়ে করোনার প্রভাব পড়েছে ভ্যাট আদায়েও। করোনার কারণে সাধারণ ছুটি চলাকালীন সময়ে সব ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ থাকায় ভ্যাট আদায়ে বিপর্যয় নেমে এসেছে। বিদায়ী অর্থবছরে ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা, আদায় হয়েছে ৮৪ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ ভ্যাটে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার কোটি টাকা। ভ্যাট আদায়ে প্রবৃদ্ধি মাইনাস (-) ২.৬৭ শতাংশ। কিন্তু কাস্টমসের কার্যক্রম পরিচালিত হলেও করোনার কারণে এর উপরের প্রভাব পড়েছে। বিদায়ী বছরে কাস্টমস থেকে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৫ হাজার ২২১ কোটি টাকা, আদায় হয়েছে ৬০ হাজার ৫৩২ কোটি টাকা। অর্থাৎ কাস্টমসে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা।

পিআর