আদিবাসী বনাম উপজাতি বিতর্ক

আগের সংবাদ

সড়কে আর কত স্বপ্নের মৃত্যু হবে

পরের সংবাদ

কোভিড-১৯ ও আদিবাসীদের জীবন-জীবিকার সংগ্রাম

ড. রাহমান নাসির উদ্দিন

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ৮, ২০২০ , ৮:৫৯ অপরাহ্ণ

ড.-রাহমান-নাসির-উদ্দিন

আজ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। প্রতি বছর আগস্টের ৯ তারিখ বিশ্বব্যাপী জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোতে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত হয়। আজ এ দিবস পালনের ২৬তম বছর। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী পৃথিবীতে ৯০টি রাষ্ট্রে প্রায় ৪০ কোটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী বাস করে। আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে প্রতি বছর জাতিসংঘ সমকালীন বিষয়াদির প্রাসঙ্গিক বিবেচনায় একটি স্লোগান বা ঘোষণা নির্ধারণ করে। এ বছর আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের ঘোষণা হচ্ছে COVID-19 and indigenous peoples resilience. যার বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘কোভিড-১৯ ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিরোধ’। কিন্তু জাতিসংঘ ঘোষণা দিলেও বিভিন্ন দেশ তাদের আর্থসামাজিক এবং রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতের বিচেনায় মূল বক্তব্যকে সমুন্নত রেখে নিজেদের মতো করে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের স্লোগান বা ঘোষণা নির্ধারণ করে। সেভাবেই বাংলাদেশে ২০২০ সালের আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের প্রতিপাদ্য করা হয়েছে ‘করোনা ভাইরাসের মহামারি ও আদিবাসীদের জীবন-জীবিকার সংগ্রাম’। সার্বিক বিবেচনায় বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে এ শিরোনাম আমার কাছে যথার্থ মনে হয়েছে। কিন্তু ২০২০ সালের আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘের যে বক্তব্য এবং এ দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘের মহাসচিবের যে বাণী, তার কন্টেন্ট বিবেচনায় নিলে আমার কাছে মনে হয়, এ বছরের বাংলা শিরোনাম হতে পারে, ‘করোনা মহামারি ও আদিবাসীদের প্রতিরোধের স্বতন্ত্র সক্ষমতা’। তথাপি বাংলাদেশে বসবাসকারী পাহাড় এবং সমতলের সব আদিবাসীর জাতীয় সংগঠন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের নির্ধারিত শিরোনাম নিয়েই পৃথিবীর অন্যান্য দেশের আদিবাসীদের মতো বাংলাদেশে বসবাসকারী প্রায় ৩০ লাখ আদিবাসী জনগোষ্ঠী আজ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালন করছে।
বাংলাদেশের আদিবাসী ইস্যু নিয়ে নানা ধরনের অস্বস্তিকর বিতর্ক জারি আছে। আমি পত্রিকান্তরে এসব বিষয় নিয়ে বিস্তর লিখেছি। তাও প্রাসঙ্গিক বিবেচনায় পুরনো কাসুন্দি নতুন করে একটু ঘাঁটি। ‘কারা আদিবাসী’ এ বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে জাতিসংঘের মাধ্যমে ২০০৭ সালেই মোটামুটি ফয়সালা হয়ে গেছে। তাও দীর্ঘ আলোচনা, দীর্ঘ বিতর্ক এবং প্রায় দুই দশকের নানা কার্যক্রমের বিচার-বিশ্লেষণের ভেতর দিয়ে জাতিসংঘের মাধ্যমে আদিবাসীদের অধিকারবিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক ঘোষণাপত্র তৈরি করা হয়েছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন পর্ষদে ও বিভিন্ন পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার পরও আদিবাসীদের ব্যাপারে সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্য কোনো সংজ্ঞায় উপনীত হওয়া সম্ভব হয়নি বিধায় ‘সেলফ-ডেফিনিশন’ বা আদিবাসী জাতিগুলোর স্ব-সংজ্ঞায়নের হাতে আদিবাসী সংজ্ঞায়নের দায়িত্ব ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তবে কিছু কিছু বৈশিষ্ট্যের ব্যাপারে একটা মতৈক্য হয়েছে যে, সাধারণত কোনো একটি নির্দিষ্ট এলাকায় অনুপ্রবেশকারী বা দখলদার জনগোষ্ঠীর আগমনের পূর্বে যারা বসবাস করত (এটা ঔপনিবেশিকতার অভিজ্ঞতার সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য) এবং এখনো করে; যাদের নিজস্ব ও আলাদা সংস্কৃতি, রীতিনীতি ও মূল্যবোধ রয়েছে; যারা নিজেদের আলাদা সামষ্টিক সমাজ-সংস্কৃতির অংশ হিসেবে চিহ্নিত করে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যারা সমাজে জাতিগত সংখ্যালঘু হিসেবে পরিগণিত, তারাই আদিবাসী। অর্থাৎ একটি রাষ্ট্রের কাঠামোর মধ্যে বসবাসকারী একদল জনগোষ্ঠী যারা সাংস্কৃতিকভাবে সংখ্যালঘু, যাদের নিজস্ব একটি সংস্কৃতি আছে যা জনতাতত্ত্বিক সংখ্যাগুরুদের সংস্কৃতি থেকে স্বতন্ত্র এবং যাদের একটি স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকর আছে এবং যারা রাষ্ট্রের কাঠামোয় সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিকভাবে প্রান্তিক তারাই আদিবাসী হিসেবে বিবেচিত হওয়ার দাবি রাখে। মূলত ১৯৮২ সালে জাতিসংঘে প্রথম আদিবাসীবিষয়ক আলোচনা শুরু হয় এবং পৃথিবীতে আদিবাসীদের অস্তিত্ব আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকার করা হয়। প্রায় এক দশক পর দীর্ঘ আলোচনার ভিত্তিতে ১৯৯৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রতিবছর ৯ আগস্টকে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস হিসেবে পালনের ঘোষণা দেয়া হয় (রেজ্যুলেশন ৪৯/২১৪)। ৯ আগস্টকে তারিখ হিসাবে নির্ধারণ করার পেছনে প্রধান কারণ ছিল ১৯৮২ সালের এই দিনেই জাতিসংঘ সর্বপ্রথম আদিবাসীদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেয়। তারপরের বছর থেকে ১৯৯৫-২০০৪ ‘প্রথম আদিবাসী দশক’ এবং ২০০৫-২০১৪ ‘দ্বিতীয় আদিবাসী দশক’ ঘোষণা করা হয়। ‘প্রথম আদিবাসী দিবসে’র লক্ষ্য ছিল আদিবাসীদের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, ভূমি, পরিবেশ, উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সমস্যা দূরীকরণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা শক্তিশালীকরণ। ‘দ্বিতীয় আদিবাসী দিবসে’র লক্ষ্য ছিল আদিবাসীদের জীবনের নানা রিসোর্সের কার্যকর প্রয়োগ ও সম্মানের জায়গা নিশ্চিতকরণের জন্য অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা। অবশেষে ২০০৭ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে আদিবাসী অধিকার সনদ সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে পাস হয়। যেখানে চারটি দেশ (আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড) এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে এবং ১১টি দেশ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে নিজেদের বিরত রাখে। বাংলাদেশ সে ১১টি দেশের মধ্যে একটি। ২০১১ সালের আদমশুমারিতে বাংলাদেশে বসবাসরত আদিবাসীদের বলা হয়েছে ‘এথনিক পপুলেশন’ আর পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে ২৩ (ক) অনুচ্ছেদে সাংস্কৃতিকভাবে ভিন্ন জনগোষ্ঠীকে ‘উপজাতি, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা’ প্রভৃতি শব্দ দিয়ে নির্দেশ করা হয়েছে, যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আদিবাসীবিষয়ক বিতর্কটি এখনো অথৈ সমুদ্রেই রয়ে গেল এবং কোনো ক‚লকিনারা পেল না। তথাপি প্রতি বছর আগস্ট মাসের ৯ তারিখ আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ৩০ লাখ মানুষ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালনের পাশাপাশি তাদের নানা আশা-আকাক্সক্ষা, চাওয়া-চাহিদা এবং বঞ্চনা-বেদনার কথাও প্রকাশ করে। এভাবেই বিশ্বব্যাপী আদিবাসী জনগোষ্ঠী আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের দিনটিকে তাদের সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য, সমৃদ্ধ ঐহিত্য ও বৈচিত্র্যময় উত্তরাধিকার উপস্থাপনের পাশাপাশি নিজের বহুমাত্রিক দাবি-দাওয়াও পেশ করেন। বাংলাদেশেও এর ব্যতিক্রম নয়। এবারের বাংলাদেশ আদিবাসী পরিষদের প্রধান দাবি-দাওয়া বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম ‘১৪ দফা দাবি’ শিরোনামে আনুষ্ঠানিকভবে ভার্চুয়াল প্রেস কনফারেন্স করে প্রকাশ করে : ১. আদিবাসীসহ সব নাগরিকের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। যেহেতু আদিবাসীরা অতি প্রান্তিক ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থান করেন এবং তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা অবস্থা নাজুক, তাই বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আদিবাসী অঞ্চলে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। ২. করোনা মহামারির কারণে যেসব আদিবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং অনিশ্চিত জীবনের সম্মুখীন, তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় এককালীন আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ প্রদান করতে হবে। ৩. সারাদেশে কমপক্ষে ১০ হাজার আদিবাসী পরিবারকে করোনাকালে খণ্ডকালীন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে তারা পরিবারের আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে পারেন। ৪. আদিবাসী ছাত্রছাত্রী যাতে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম থেকে ঝরে না পড়ে, তার জন্য আর্থিক সহায়তাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ৫. সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল বা এসডিজি বাস্তবায়নে আদিবাসীদের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। ৬. পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে এবং এ লক্ষ্যে সময়সূচিভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা বা রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে। ভ‚মি কমিশন আইন অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে। প্রয়োজনীয় আইন সংশোধন ও অপারেশন উত্তরণ প্রত্যাহার করতে হবে। ৭. জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ২০০৭ সালে গৃহীত আদিবাসী অধিকারবিষয়ক ঘোষণাপত্র অনুসমর্থন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। আইএলও কনভেনশন ১০৭ বাস্তবায়ন ও ১৬৯ নং কনভেনশন অনুস্বাক্ষর করতে হবে। ৮. সমতল অঞ্চলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয়সহ ভ‚মি সমস্যা সমাধানের জন্য অবিলম্বে ভ‚মি কমিশন গঠন করতে হবে। আদিবাসীদের ঐতিহ্যগত ও প্রথাগত ভ‚মি অধিকারের স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে। ৯. আদিবাসীবিষয়ক সংসদীয় ককাস কর্তৃক প্রণীত আদিবাসী অধিকার আইন প্রণয়ন করতে হবে। ১০. আদিবাসীদের ওপর সাম্প্রদায়িক আক্রমণ, মিথ্যা মামলা, হয়রানি ও অপপ্রচার বন্ধ করতে হবে। আদিবাসী নারীসহ সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ১১. গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের ওপর চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার করতে হবে এবং অবিলম্বে তাদের ভ‚মি ফেরত দিতে হবে। ১২. মধুপুর বনে ঘোষিত রিজার্ভ ফরেস্ট গেজেট বাতিল করতে হবে এবং আদিবাসীদের ভ‚মি মালিকানা নিশ্চিত করতে হবে। ১৩. পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারাদেশে আদিবাসী মানবাধিকার সুরক্ষাকর্মীদের ওপর মিথ্যা মামলা, হয়রানি ও নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। ১৪. জাতিসংঘ ঘোষিত ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করতে হবে।
পরিশেষে বলব, যেহেতু দাবি-দাওয়া দেয়ার অধিকার সবার আছে, সেহেতু এ দেশের নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের কাছে দাবি-দাওয়া পেশ করার অধিকার আদিবাসীদেরও আছে। সে বিবেচনায় আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের ৩০ লাখ আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম ১৪ দফা দাবি পেশ করেছে। আমরা সাধারণ নাগরিক হিসেবে আশা করব, রাষ্ট্র এসব দাবি সক্রিয় বিবেচনায় নেবে এবং স্বল্প-মেয়াদে, মধ্য-মেয়াদে এবং দীর্ঘ-মেয়াদে এসব দাবি বাস্তবায়নে আন্তরিক হবে। কেননা আদিবাসী জনগোষ্ঠী একই রাষ্ট্রের সীমানায় বাস করা জাতিগত, ধর্মীয় এবং ভাষাতাতত্ত্বিক সংখ্যালঘু। সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক বিবেচনায়ও প্রান্তিক। সুতরাং তাদের প্রতি যত্নবান হওয়া এবং তাদের চাওয়া-চাহিদার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া সংখ্যাগুরু হিসেবে আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। বাংলাদেশের সংবিধানেও পিছিয়ে জনগোষ্ঠীকে বিশেষ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে সুযোগের সাম্যতা বিধানের কথা বলা আছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলস) এজেন্ডাতেও আদিবাসীদের সার্বিক উন্নয়নে বিশেষ নজর দেয়ার তাগিদ আছে। রাষ্ট্র এসব বিষয় সক্রিয় বিবেচনায় নেবে, একজন আদিবাসী গবেষক হিসেবে এ কামনা এবং প্রত্যাশা নিরন্তর। সবাইকে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের শুভেচ্ছা।

ড. রাহমান নাসির উদ্দিন : নৃবিজ্ঞানী ও অধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
[email protected]

ডিসি