লিড পেল পাকিস্তান

আগের সংবাদ

শ্রীলঙ্কা সফরে ফিরছেন সাকিব!

পরের সংবাদ

সাত সিনিয়র খেলোয়াড়ের দিকে তাকিয়ে সবাই

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ৭, ২০২০ , ১০:২৬ অপরাহ্ণ

বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের অনুশীলনে ডাক পাওয়া ফুটবলারদের মধ্যে যে ২৪ জনের প্রথম দুই দিনে ক্যাম্পে ওঠার কথা ছিল তাদের মধ্যে ১১ জনই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। জাতীয় দলের ফুটবলারদের মধ্যে করোনা আক্রান্তের হার ৪৫.৮৩ শতাংশ। জাতীয় দলের প্রাথমিক ক্যাম্পে ডাক পাওয়া ফুটবলাররা যে যার বাড়িতে থাকলেও কোচ জেমি ডে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে সবার শরীরচর্চা ও খাওয়া-দাওয়া পর্যবেক্ষণ করেছেন। তারপরও তাদের প্রায় অর্ধেকই করোনা পজিটিভ। বিষয়টি ভাবিয়ে তুলছে বাফুফে কর্মকর্তাদের। এখন সবাই তাকিয়ে আগামীকাল কি ঘটে। জাতীয় দলের ৭ সিনিয়র খেলোয়াড় রিপোর্ট করবেন আগামীকাল। তারা হলেন তৌহিদুল আলম সবুজ, মামুনুল ইসলাম মামুন, তপু বর্মন, আশরাফুল ইসলাম রানা, রায়হান হাসান, নাবিব নেওয়াজ জীবন ও ইয়াসিন খান। তাদের পরীক্ষা করার পর জানা যাবে ৩১ ফুটবলারের মধ্যে শেষপর্যন্ত কতজন উঠতে পারেন ক্যাম্পে।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপ ও ২০২৩ এশিয়ান কাপের এশিয়া অঞ্চলের বাছাইয়ের প্রিলিমিনারি রাউন্ডের দ্বিতীয় ধাপের ম্যাচ শুরু হবে আগামী ৮ অক্টোবরে। বাছাইয়ের প্রথম ম্যাচে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের সঙ্গে খেলবেন জামাল ভূঁয়ারা। হোম গ্রাউন্ডে ম্যাচ বলেই কিনা আশায় বুক বাঁধছে সমর্থকরা। তাদের সঙ্গে ফুটবলাররাও যোগ দিয়েছেন, বলছেন জয়ের কথা। কোচ জেমি ডেও দেখাচ্ছেন স্বপ্ন। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়ে জেমি বলেন, ‘বিশ্বকাপ বাছাইয়ে আমাদের চারটি ম্যাচ বাকি আছে। আমি চাই সবকটিই জিততে। তবে বাস্তবতা হলো, যদি চার ম্যাচ থেকে চার পয়েন্টও পাই, তাহলে আমি খুবই খুশি হবো।’
করোনাভাইরাসে স্থগিত হওয়া ইউরোপিয়ান চারটি লিগ পুনরায় চালু হলেও তা হয়েছিল ক্লোজড ডোরে। কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ ও ২০২৩ এশিয়া কাপের বাছাইপর্বের ম্যাচগুলোও দর্শকশূন্য হওয়ার কথা। সবার স্বাস্থ্য সুরক্ষার চিন্তা করেই ক্লোজড ডোরে ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা করে আসছিল ফিফা ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন। তবে গত ৩১ জুলাই এএফসি প্রতিটি দেশের ফুটবল ফেডারেশনের কাছে ৭০ পৃষ্ঠার একটি গাইডলাইন পাঠিয়েছে। করোনার মধ্যে কীভাবে এএফসির অধীনে ম্যাচ এবং বিশ্বকাপ বাছাইয়ের খেলা আয়োজন করা যায়, তার বিস্তারিত তুলে ধরেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো গ্যালারিভর্তি দর্শক নিয়ে স্বাভাবিক পরিবেশ, সীমিত দর্শক কিংবা দর্শকবিহীন ম্যাচ। এ তিনটির যে কোনো একটি বেছে নিয়ে ম্যাচ আয়োজন করতে পারবে স্বাগতিক দেশগুলো। এর জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষার কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করতে হবে আয়োজকদের। এএফসির এই গাইডলাইন পাওয়ার পর সীমিত সংখ্যক দর্শক নিয়ে ম্যাচ আয়োজনের কথা ভাবছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন।
আজ ৭ জনের মধ্যে কারও পজিটিভ ফল হলে জেমির কপালের দুশ্চিন্তার ভাঁজটা আরও মোটা হওয়ারই কথা। কিন্তু জেমি ডে এখনই এ নিয়ে আতঙ্কিত হচ্ছেন না। তার মতে, হাতে অনেক সময় আছে। এর মধ্যে অনেকেই সুস্থ হয়ে ফিরবে- এ প্রত্যাশা নিয়েই অপেক্ষা করবেন এই ব্রিটিশ কোচ।
আপনার ২৪ খেলোয়াড়ের মধ্যে ১১ জনেরই করোনা পজিটিভ। পরিস্থিতি বলছে আরও বাড়ার শঙ্কা আছে। নিশ্চয়ই দুশ্চিন্তায় আছেন? জেমির উত্তর, আসলে আমি এমনটি আঁচ করেছিলাম। কারণ বাংলাদেশের করোনাভাইরাস পরিস্থিতি ভালো নয়। অবশ্যই এটা খারাপ খবর। তবে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ দেখছি না।’
প্রায় অর্ধেক ফুটবলারের দেহে করোনাভাইরাস সনাক্ত। তারপরও আতঙ্কিত নন কেন? ‘আমাদের হাতে যথেষ্ট সময় আছে। এর মধ্যে অনেকে করোনাভাইরাসমুক্ত হয়ে ফিরবে বলেই বিশ্বাস আমার। ভালো দিক হলো করোনা পজিটিভ হলেও কারও মধ্যেই করোনার উপসর্গ নেই’- লন্ডন থেকে বলছিলেন জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ জেমি ডে। এমন হতে পারে আশংকা করেই বেশি খেলোয়াড় ডেকেছিলেন উল্লেখ করে জেমি ডে বলেছেন, ‘প্রথম ম্যাচ থেকে আমরা এখনও ১০ সপ্তাহ দূরে। আমাদের জন্য ৬ সপ্তাহ প্রয়োজন হবে খেলোয়াড়দের ফিট করতে। তাই আগামী এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে খেলোয়াড়রা সুস্থ হয়ে ফিরতে পারবে।’
এ পর্যন্ত যে ১১ জনের করোনা পজিটিভ তারা হলেন- বিশ্বনাথ ঘোষ, নাজমুল ইসলাম রাসেল, সুমন রেজা, ম্যাথিউস বাবলু, রবিউল হাসান, আনিসুর রহমান জিকু, শহিদুল আলম সোহেল, সোহেল রানা, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, সুশান্ত ত্রিপুরা ও টুটুল হোসেন বাদশা।

ডিসি