ওয়াসা সিটি করপোরেশনের সঙ্গে একীভূত হোক

আগের সংবাদ

নদীর তীর সংরক্ষণে স্থায়ী ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ হবে

পরের সংবাদ

সত্য উদ্ঘাটন ও বিচার নিশ্চিত করা জরুরি

সম্পাদকীয়

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ৭, ২০২০ , ৯:২৪ অপরাহ্ণ

বিচারবহির্ভূত হত্যা কোনোভাবেই বন্ধ করা যাচ্ছে না। এ অবস্থার অবসান ঘটানোই সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ। গত ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভে চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। তিনি ‘তল্লাশিতে বাধা দিয়েছিলেন’ বলে পুলিশের ভাষ্য। তবে পুলিশের এই ভাষ্য নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও প্রশাসনের প্রতিনিধি নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সিনহা রাশেদের হত্যার বিচার চেয়ে তার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস গত বুধবার কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। ওই হত্যার মামলায় অভিযুক্ত টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলী ও এসআই দুলাল রক্ষিতকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে ৭ দিনের জন্য র‌্যাব হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত। এছাড়া ‘আত্মসমর্পণ’ করা বাকি ৪ আসামি কনস্টেবলকে দুদিন কারা ফটকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন বিচারক। মামলার বাকি ২ আসামি পলাতক রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছে আদালত। মেধাবী ও তরুণ এ সেনা কর্মকর্তা ২০১৮ সালে সেনাবাহিনী থেকে স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়া সিনহা রাশেদ ‘লেটস গো’ নামে একটি ভ্রমণবিষয়ক ডকুমেন্টারি বানানোর জন্য প্রায় এক মাস ধরে কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকায় ছিলেন। আরো তিন সঙ্গীকে নিয়ে তিনি উঠেছিলেন নীলিমা রিসোর্টে। ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে তিনি নিহত হন। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের কথা জানিয়ে সে সময় পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, সিনহা তার পরিচয় দিয়ে ‘তল্লাশিতে বাধা দেন’। পরে ‘পিস্তল বের করলে’ চেকপোস্টে দায়িত্বরত পুলিশ তাকে গুলি করে। তবে ঘটনার যে বিবরণ পুলিশ দিয়েছে, তা নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব হলো কাউকে সন্দেহজনক মনে হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা বা আইনের আওতায় এনে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া। কিন্তু কোনো জিজ্ঞাসাবাদ, তদন্ত ও বিচার ছাড়াই কাউকে গুলি করে হত্যা করা মানবাধিকার ও আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এটা সমাজে আইনশৃঙ্খলার জন্য বিপজ্জনক পরিস্থিতি। আশার কথা, সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ এবং পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদ কক্সবাজারে গিয়ে সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, এ ঘটনায় দায়ী হিসেবে যে বা যারা চিহ্নিত হবে, তারাই শাস্তি পাবে। আমরা মেজর সিনহা রাশেদ হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা জানতে চাই। দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও দেখতে চাই।

এসআর