তিন বিশ্বকাপের ভাগ্য নির্ধারণ আজ

আগের সংবাদ

পাকিস্তানে যেতে সমস্যা নেই ইংল্যাণ্ডের

পরের সংবাদ

বলিউডে আত্মহত্যার মিছিল থামছে না

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ৭, ২০২০ , ১১:১৩ পূর্বাহ্ণ

অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর শোক এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি বলিউড। প্রতিদিনই তার মৃত্যু তদন্তে মিলছে নানা তথ্য। এরই মাঝে খবর পাওয়া গেল আত্মহত্যা করেছেন ভোজপুরী সিনেমার অভিনেত্রী অনুপমা পাঠক। গত ২ আগস্ট মুম্বাইয়ের দহিসারে নিজের বাড়িতেই গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন এই অভিনেত্রী। এর একদিন আগে তিনি ফেসবুকে প্রায় ১০ মিনিট ধরে লাইভ করেন।

লাইভে তিনি নিজের মনের কথা বলেছেন। জীবনে কাউকে কোনোদিন বিশ্বাস না করা এবং মৃত্যুর পর মৃত মানুষকে নিয়ে অনেক কিছু বললেও প্রয়োজনে কাজে আসে না বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

এছাড়া গত বুধবার (৫ আগস্ট) সুশান্ত সিং রাজপুতের মতোই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী মুম্বাইয়ের জনপ্রিয় অভিনেতা সমীর শর্মা। টেলিভিশন জগতের একসময়কার চেনা মুখ। হলেও বেশ কিছু ধারাবাহিকে অভিনয় করতেন সমীর। সে রাতেই মুম্বাইয়ে অভিনেতার বাসভবন থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে মালাড পুলিশ।

‘কাহানি ঘর ঘর কি’, ‘ইস প্যায়ার কো কেয়া নাম দু’, ‘কিউ কি সাঁস ভি কভি বহু থি’ থেকে ‘ইয়ে রিস্তে হ্যায় প্যায়ার কে’ সিরিয়ালে ‘কুহু’র বাবার চরিত্র, বেশ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন ছোটপর্দার এই অভিনেতা।

অন্যদিকে গেল ৮ জুন মুম্বাইয়ের মালাডে মালবনী এলাকায় একটি বাড়ির ১৫ তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের সাবেক ম্যানেজার দিশা সালিয়ান। আর ১৪ জুন দিশার মৃত্যুর মাত্র ৫ দিন পর শোনা গেল মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় নিজের বাড়িতে আত্মহত্যা করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা সুশান্ত।

জনপ্রিয় তরুণ অভিনেতার মৃত্যুতে বলিউডে এখনও শোকের ছায়া। স্বেচ্ছা মৃত্যুর এ মিছিল থামছেই না।

সুশান্ত, দিশা, সমীর ও অনুপমার আগে আরও বেশ কয়েকজন বলিউড তারকার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছিল। তাদের মধ্যে কয়েকজন হলেন-

শ্রীদেবী: ২০১৮-এর ২৪ ফেব্রুয়ারি মারা যান শ্রীদেবী। দুবাইয়ের এক সাততারা হোটেলের বাথটাব থেকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তাকে। পোস্টমর্টেম রিপোর্টে জলে ডুবে মৃত্যু লেখা থাকলেও বাথটবের জলে কেউ কী ভাবে ডুবে মারা যেতে পারেন, তা আজও অস্পষ্ট।

দিব্যা ভারতী: এক বছরে এক ডজন ছবির রেকর্ড করা এই অভিনেত্রীর মৃত্যু হয় মাত্র ১৯ বছর বয়সে। ১৯৯৩ সালের ৭ এপ্রিল নিজের ভারসোভার ফ্ল্যাটের ব্যালকনি থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয় তার। মৃত্যুর রাতে নিজের ফ্ল্যাটে পার্টির আয়োজন করেছিলেন তিনি। সে পার্টিতে ফ্যাশন ডিজাইনার নীতা লুল্লা-সহ আরও বেশ কিছু বন্ধুবান্ধব এসেছিলেন। পার্টি চলাকালীন সময়ে ব্যালকনি থেকে পড়ে যান তিনি। কিন্তু কিভাবে পড়ে গেলেন তা আজও অজানা।

পারভিন ববি: ১৯৮০-র দশকে বলিউড কাঁপানো অভিনেত্রী পারভিন ববির শেষ জীবন কেটেছে খুবই কষ্টে। সম্পর্কে ভাঙন তাঁকে ব্যক্তিগত জীবনে সুখী হতে দেয়নি। তার মৃত্যুদিন সম্পর্কে কারোরই কিছু জানা নেই। তার ফ্ল্যাটের দরজার সামনে খবরের কাগজ আর দুধের প্যাকেট জমতে দেখে প্রতিবেশিরা খবর দেয় পুলিশে। এরপর পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে তার।

নাফিসা জোসেফ: ২০০৪-এর ২৯ জুলাই মুম্বাইয়ে নিজের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয় ‘বিউটি কুইন’ নাফিসা জোসেফের। জানা যায়, ব্যবসায়ী গৌতম খান্ডুজার সঙ্গে তার বিয়ে হওয়ার কথা পাকাপাকি হয়েও ভেঙ্গে যায়। যার পরপরই অবসাদে চলে গিয়ে এমন ঘটনা ঘটিয়েছিলেন নাফিসা।

সিল্ক স্মিতা: আইটেম গার্ল থেকে অভিনেত্রী হয়ে উঠতে বেশ কাঠখড় পোড়াতে হয়েছিল এই অভিনেত্রীকে। কিন্তু মুম্বইয়ের নিজের আবাসনে আত্মহত্যা করেছিলেন তিনি। কেন করেছিলেন আত্মহত্যা? হতাশা, বিচ্ছেদের যন্ত্রণা নাকি অন্য কিছু, জানা যায়নি আজও।

গুরু দত্ত: মাত্র ৩৯ বছর বয়সে মারা যান তিনি। তার মৃত্যু আজও রহস্যাবৃত। মদের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে পান করার কারণে নাকি মৃত্যু হয়েছিল ‘কাগজ কে ফুল’ খ্যাত এই অভিনেতা-পরিচালকের। তার ঘনিষ্ঠমহলের দাবি, মৃত্যুর আগের দিনও বেশ হাসিখুশি ছিলেন গুরু। আত্মহত্যা, নাকি ভুলবশত ওভারডোজ? আজও জানা যায়নি।

জিয়া খান: জুহুর ফ্ল্যাটে আত্মহত্যা করেছিলেন তিনি। অভিযোগ উঠেছিল তার সেই সময়ের বয়ফ্রেন্ড সূরজ পাঞ্চোলির বিরুদ্ধে। জিয়া যখন আত্মহত্যা করেন, তখন তিনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। জিয়ার মা দাবি করেছিলেন, পরিস্থিতির চাপে পড়ে জিয়া বাধ্য হয়েছিলেন এমন একটা চরম সিদ্ধান্ত নিতে। জিয়ার ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছিল সুইসাইড নোট।

অর্চনা পাণ্ডে: ২০১৪-র ২৯ সেপ্টেম্বর মুম্বইের ভারসোভাতে নিজের ফ্ল্যাট থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় মডেল অর্চনা পাণ্ডের। তার ঘর থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়। তাতে বয়ফ্রেন্ড ওমর পাঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন অর্চনা।

কুলজিৎ রণধাওয়া: প্রাক্তন এই মডেলের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় ২০০৬-এর ৮ সেপ্টেম্বর। জুহুতে তার অ্যাপার্টমেন্ট থেকে দেহ উদ্ধার হয়। হিপ হিপ হুররে, কোহিনূর-এর মতো জনপ্রিয় শো-এ ছিলেন তিনি। সুইসাইড নোটে মৃত্যুর কারণ হিসেবে মানসিক চাপের কথা উল্লেখ করেছিলেন কুলজিৎ।

বিবেকা বাবাজি: ভারতের অন্যতম সেরা মডেল বিবেকার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। তার ঘর থেকে পাওয়া একটি ডায়েরিতে লেখা ছিল- আই কিল। সন্দেহ করা হয়, বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে মনোমালিন্যই তার এই পথ বেছে নেওয়ার কারণ।

কুনাল সিংহ: ‘দিল হি দিল ম্যায়’ ছবির অভিনেতা। ঘরের সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। যদিও অভিনেতার বাবার দাবি, কুনালকে খুন করা হয়েছে।

মনমোহন দেশাই: অমর আকবর অ্যান্টনি, কুলি, ধরমবীর-এর মতো সুপারহিট হিন্দি ছবির পরিচালক মনমোহন দেশাই বাড়ির ব্যালকনি থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন। তার ঘনিষ্ঠমহলের দাবি, ফিল্মি কেরিয়ারে অসাফল্যের জন্যই আত্মহত্যা করেছেন পরিচালক। আবার এই তথ্যও উঠে এসেছে যে, পিঠের অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরেই আত্মহত্যা করেছেন তিনি। কিন্তু তার আত্মহত্যার আসল কারণ আজও রহস্য ঘেরা।

পিআর