পর্যটকদের পদভারে মুখরিত তাহিরপুর

আগের সংবাদ

খোঁয়ারি : অসাধারণ মমত্বময় গল্প

পরের সংবাদ

পাচারের অন্যতম হোতাসহ গ্রেপ্তার ২

লিবিয়ার ৩ টর্চার সেলে চলে অমানসিক নির্যাতন

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ৬, ২০২০ , ১০:০৬ অপরাহ্ণ

বেনগাজীর মাঝুরী, জোয়ারার গেইমিং ক্যাম্প ও ত্রিপোলীর সুলেমান ক্যাম্পগুলোতে সীমাহীন নির্যাতন করা হতো ভিকটিমদের। সেসবের ভিডিও বা ছবি পরিবারের কাছে পাঠিয়ে দাবি করা হতো মোটা অংকের টাকা। আর তা পেলেই আরেক অনিশ্চিতের পথে যাত্রা। অবৈধভাবে লিবিয়া থেকে ইতালি পাঠানোর উদ্দেশ্যে ছোট নৌকায় করে ভাসিয়ে দেয়া হতো উত্তাল ভূমধ্যসাগরে। এমন পরিস্থিতিতে অধিকাংশ সময়ই বিভিন্ন দেশের কোস্টগার্ডের হাতে আটক হয়ে কারাবরণ বা নৌকা অচল হয়ে গেলে নিশ্চিত মৃত্যুই হতো একমাত্র পরিণতি।

লিবিয়ায় মানবপাচারকারী চক্রের অন্যতম মূলহোতা মো. মনির হাওলাদার ওরফে মনির হোসেন (২৬) ও মো. সেলিম ওরফে সেলিম শিকদারকে (৩৫) গ্রেপ্তারের বিষয়ে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) এসব কথা জানান ডিবির গুলশান শাখার উপকমিশনার (ডিসি) মশিউর রহমান।

তিনি বলেন, ৬ জুন মতিঝিল থানায় ২৭ জন মানবপাচারকারীর বিরুদ্ধে হওয়া মামলার এজাহারনামীয় ১ নং আসামি মো সেলিম ওরফে সেলিম শিকদার ও ২ নং আসামি মো. মনির হাওলাদার ওরফে মনির হোসেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার (২৯ জুলাই) রাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী কাজলা এলাকা থেকে ওই দুজনকে আটক করা হয়। তারা মূলতো শরিয়তপুর, মাদারীপুর, ফেনী,টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষকে ভালো বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়ায় যেতে চাওয়া লোক সংগ্রহ করতো। এরপর তাদের পাসপোর্ট ও ছবিসহ ঢাকার দালাল শরীফ ও কবিরের কাছে পাঠিয়ে দিত। পরবর্তীতে পাচার হওয়া লোকদের অভিভাকদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে টাকা সংগ্রহ করে টাকার একটি অংশ বাংলাদেশে অবস্থানরত মনিরের স্ত্রী কিংবা শশুর কিংবা বাবাকে পাঠাতো। আরেকটি অংশ দালাল শরীফ অথবা কবিরের কাছে পাঠাতো। এ কাজের জন্য সেলিম প্রতি লোকের কাছ থেকে একটা কমিশন পেত।

ছবি: ভোরের কাগজ

ডিসি মশিউর রহমান আরো জানান, মানবপাচার চক্রের অন্যতম মূলহোতা মনির লিবিয়ায় একটি কন্সট্রাকশন কোম্পানিতে চাকরি করতে গেলেও অল্প সময়ের মধ্যেই লিবিয়ার মিলিশিয়া সেনাবাহিনীর সঙ্গে অবৈধ সখ্যতা গড়ে তোলে। পরে তাদেরই সহযোগীতায় প্রত্যক্ষভাবে বেনগাজীর মাঝুরী, ত্রিপোলীর সুলেমান ও জোয়ারার গেইমিং ক্যাম্প পরিচালনা করতেন তিনি।

ডিবির এ কর্মকর্তা আরো বলেন, মনির ভাল চাকুরির প্রলোভন দেখিয়ে জনপ্রতি ৪ লাখ টাকায় দালাল শরীফ ও কবিরদের পরিচালিত স্বাধীন ট্রাভেলসের মাধ্যমে অবৈধভাবে শতাধিক লোককে বাংলাদেশ থেকে লিবিয়াতে নিয়ে যায়। বাংলাদেশ থেকে দুবাই হয়ে লোকজন বেনগাজীতে পৌঁছার পর প্রথম দফায় তাদের দালাল শরীফের বন্দিশালায়, ২য় দফায় বাদশাহ ও তার (মনিরের) মাঝুরী বন্দিশালায় এবং ৩য় দফায় ত্রিপোলীতে মনিরের সুলেমান বন্দিশালায় আটক রাখা হতো। এরপর উক্ত লোকজনদের মারধরের ভিডিও ধারণ ও কান্নার শব্দ মোবাইলে রেকর্ডিং করে তাদের আত্মীয়স্বজনদের পাঠিয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হতো।

এছাড়া গ্রেপ্তারকৃত মনির লিবিয়ার জোয়ারাতে একটি গেইমিং ক্যাম্প পরিচালনা করে দালালদের মাধ্যমে লিবিয়ায় পাঠানো প্রায় অর্ধশতাধিক লোককে জনপ্রতি কমপক্ষে ২ লাখ টাকার বিনিময়ে লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালীতে পাঠায়। এভাবে ইতালী গমনকারীরা বেশিরভাগ সময় সমূদ্রপথে বিভিন্ন দেশের কোস্টগার্ড কর্তৃক আটক হয় অথবা বোট অচল হয়ে মারা যায়।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মনিরের টর্চার সেলে আরো বেশকিছু বাংলাদেশী বন্দী আছে। ইতোমধ্যে অন্য মামলায় গ্রেপ্তারকৃত বাদশাহ এর মাধ্যমে যোগাযোগ করে কমপক্ষে ১৭ জন বাংলাদেশীকে মুক্ত করা হয়েছে। তারা ফিরে পেয়েছে তাদের পাসপোর্ট ও পকেট মানি।

এসআর