করোনা বিজয়

আগের সংবাদ

শিল্প-সাহিত্যে বঙ্গবন্ধুর অবদান

পরের সংবাদ

বাবলি

আন্দালিব রাশদী

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ৬, ২০২০ , ১১:০৮ অপরাহ্ণ

দখিনদুয়ারি : অ্যান ইনট্রোডাকশন

এলাকার বদনাম ঘুচাতে আমাদের এমপি সাহেব যথেষ্ট ভালো কাজ করেছেন যতটা সম্ভব কম টাকা, চাল, গম ও টিন আত্মসাৎ করে কিছুটা মাটি ভরাট করে ভাঙা রাস্তা মেরামত করেছেন, ঈদগাহ মাঠ অনেকটাই সমান করে দশ ইঞ্চির জায়গায় পাঁচ ইঞ্চি পুরু হলেও সীমানা দেয়াল দিয়েছেন। রাষ্ট্রের টাকা মেরে দেবার বদলে সে টাকায় মায়ের নামে এতিমখানা করেছেন, বাবার নামে যাত্রা ও ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছেন। তাছাড়া যে ক’টা বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার বাকি ছিল কোনো রকম বড় ধরনের চাঁদাবাজি ছাড়াই সেসব বাড়ি পর্যন্ত তার টানিয়েছেন। খাম্বা বসানো ও তার টানানোর ঠিকার কাজটি করেছে তারই পুত্রের প্রতিষ্ঠান।
জনকল্যাণকর কাজে এমপি গোলাম হাক্কানই যে জেলার এবং এমনকি বিভাগেরও যে সেরা সে বার্তা বহুদূর পর্যন্ত রটেছে এমনকি এ আলাপও নাকি হয়েছে : এমন নিবেদিত প্রাণ জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে সামান্য খুনখারাবি কিংবা ধর্ষণের অভিযোগ থাকলেও তাকে অন্তত প্রতিমন্ত্রী করা উচিত। তার সমস্যা একটাই এই জেলার ভিন্ন একটি নির্বাচনী এলাকা থেকে পাশ দেখানো ফটফট করে ইংরেজি বলতে পারা একজন এমপিকে আগেই প্রতিমন্ত্রীর শপথ নেয়ানো হয়েছে। তার সাথে নাকি পাওয়ার হাউসের মেইন সুইচের হেভি খাতির।
যেহেতু এলাকাটা আমাদের এবং এমপি গোলাম হাক্কানের কারণে এলাকার পুরনো বদনাম অনেকটাই কমে এসেছে। অবশিষ্ট বদনামটুকু লাঘব করার জন্য আমরা তাকেই মন্ত্রী না হোক অন্তত প্রতিমন্ত্রী পদে দেখতে চাই।
রাজনীতিতে নামলে বিরোধী দল এবং নিজের দলের বিরোধীরা কিছু অপপ্রচার করেই থাকে, তাছাড়া কিছু ভুল-ভ্রান্তিও যে ঘটে না এমন নয়। সেটা বড় কথা নয়। যেখানে কোনো কোনো এলাকার এমপি তার ইয়ার-বকশিদের নিয়ে পুরোটাই মেরে দেন, সেখানে গোলাম হাক্কানকে তো আমরা সোনার মানুষই মনে করি। তার কথা আমাদের একটু বেশিই বলতে হয়, কারণ তিনি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সুযোগ্য সন্তান থাকলে তাকে জনগণের সেবক হতে উৎসাহিত করতে এমপিরা তাদেরও মাঠে নামিয়ে থাকেন। গোলাম হাক্কানও তার ছেলে গোলাম রাব্বানকে জনসেবার ময়দানে নামিয়ে দিলেন। ছেলে এমনিতে ভালো, হাতও বেশ চলে। মানুষের জন্য কাজ করতে হলে মানুষের কাছে আসতে হয়। মানুষের সংসারে স্ত্রী-কন্যা থাকে। গোলাম রাব্বান বৌ-ঝিদের দিকেও হাত বাড়াতে শুরু করে। এটাও অন্য অনেকের পুত্রের তুলনায় তেমন বেশি কিছু নয়। তারা তো প্রকাশ্য দিবালোকে বিবস্ত্র করে শুইয়ে দেয়।

আমাদের এলাকার লোকজন এমনিতেই বিটকেল ধরনের। যা বলে তার বারো আনাই মিথ্যে। তাতেও নাকি আমাদের এলাকার লোকদের দুই আনা লাভ থাকে। এলাকাটা শহরের গা-ঘেঁষা গ্রাম হলেও পৌরসভার ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়ার পর ইলেকট্রিসিটিও এসেছে। একটি কি দুটি বাল্ব প্রায় সব বাড়িতেই জ¦লে। তবে একবার লোডশেডিং করলে টানা আটঘণ্টা অন্ধকারে। সেজন্য আমাদের হারিকেনগুলো নির্বাসিত হয়নি। তেল-সলতে নিয়েই আছে।
আমাদের বাচ্চাগুলোও কম বিটকেল নয়।
ঢাকার একটি নামকরা স্কুলে আমাদের দখিনদুয়ারির একটি ছেলেও চাঞ্চ পেল। ক্লাসটিচার যখন তার ছাত্রছাত্রীদের নিজের নাম ও বাবা-মায়ের পেশা কি বলতে বললেন, একটি ছেলে বলল, আমি ইয়াসির, বাবা জয়েন্ট সেক্রেটারি মা এডভোকেট; একটি মেয়ে বলল, আমি সিনথিয়া, বাবা ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট মা হাউসওয়াইফ; আমাদের ছেলেটি বলল, আমি কোব্বাদ, বাবা নেই, মানে চলে গেছে, আর মা প্রসটিটিউট।
কথা শুনে গোটা ক্লাস থ হয়ে গেল।
ক্লাসটিচার কোব্বাদকে প্রিন্সিপাল রুমে নিয়ে গেলেন এবং ছাত্রটিকে কিছু ব্যক্তিগত বিষয় জিজ্ঞেস করার জন্য প্রিন্সিপালকে অনুরোধ করে নিজের ক্লাসে নিয়ে এলেন।
কিছুক্ষণ পর কোব্বাদও যখন ক্লাসে ফিরে এলো, তিনি জিজ্ঞেস করলেন, সব কথা প্রিন্সিপাল স্যারকে বলেছ?
জ্বি স্যার, বলেছি।
তোমার মায়ের পেশা?
বলেছি।
তিনি কি বলেছেন?
স্যার ড্রয়ার থেকে দুটো চকোলেটবার বের করে আমাকে দিয়ে মার ঠিকানা ও ফোন নম্বর নিয়েছেন। আর বলেছেন, তোমার মাকে আমার কাছ থেকে টাকা কম নিতে বলো।
এবার ক্লাসটিচার থ হয়ে রইলেন।
দখিনদুয়ারির বাচ্চা-কাচ্চারা অবলীলায় এমন সব কথা বলে যে অন্য এলাকার লোকজনের ধারণা এরা মায়ের পেটে থেকে ওকালতি পাস করেই ভ‚মিষ্ঠ হয়।
ওকালতি মানে এলএলবি। আর এলএলবি নিয়ে মায়ের পেট থেকে নামতে পারলে তাদের পলিটিশিয়ান হওয়া কে ঠেকায়?
দু’একটা আরো এক কাঠি উপরে, ব্যারিস্টারি পাস দেয় মায়ের পেটেই।
তাদেরই নিয়ে যত সমস্যা।
আপনি জিজ্ঞেস করবেন তাদের নিয়ে আবার কিসের সমস্যা? ভাগ্যবতী মায়ের গর্ভে তাদের জন্ম, লিঙ্কনস ইন আর মিডল টেম্পলের পড়াশোনা তারা সেখানেই হেফজ করে প্র্যাকটিসিং ল’ ইয়ার হিসেবে নেমে আসে। তাদের মায়েরা পাপিয়া-স্বভাবের, বাপের ঠিক নেই- কারো বাপ মন্ত্রী মহোদয়, কারো বাপ সচিব স্যার, কারো বাপ টকশোওয়ালা কিন্তু কেউ জানে না কে কার বাপ।
ব্যারিস্টার মানেই যে ব্যারিস্টার তা নয় তাদের কেউ থানার ওসি, কেউ ভুয়া সার্টিফিকেটধারী মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, কেউ আমলা, কেউ এপিএস। বৈচিত্র্য আছে, মানতে হবে।
পাপিয়া-স্বভাব আবার কেমন স্বভাব এটা জিজ্ঞেস করে বিব্রত করবেন না। আমাদের পাশের রোডের সাতষট্টি বছর বয়সী পাপিয়া সিদ্দিকা বিব্রত হয়ে তার নাম বদলের এফিডেভিটের খসড়া করেছেন, নাম বদলে তিনি হতে চান বেগম রোকেয়া সিদ্দিকা।
বিটকেল ধরনের মানুষের সংখ্যা বেশি বলেই এলাকাটার নামের ভার কম। এক সময় এলাকার মোট মুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকার যোগ করলে এলাকার মোট পুরুষের প্রায় দুইগুণ হতো, তার মানে দুটো করে সার্টিফিকেট তাদের ছিল যে আমলে যেটা কাজে লাগে।
কিছুটা বদনাম থাকার কারণে বিয়ের বাজারে আমাদের পাত্র-পাত্রীর দর ও কদর কম। এজন্যই বিয়ের বন্দোবস্ত করার কথা উঠলেই আমাদের এলাকার ঘটকরা ডাবল টাকা চার্জ করে বসেন। বলেন, কোথায় ঘোড়সওয়ারী আর কোথায় দখিনদুয়ারি! এখানকার পাত্র বা পাত্রীর স্টুডিওতে তোলা ফটো নিয়ে যখন মক্কেল ধরতে চেষ্টা করেন তাকে অনেক বাড়তি কথা বলতে হয় : মাটি খারাপ মানে? এখানকার মাটিতে মিনারেল কম থাকে নাকি? ফসল কম হয় এমন শুনেছেন?
কিংবা কৌশল বদলে বলেন, ঠিক আছে মেনে নিলাম মাটি খারাপ, জায়গা খারাপ এমনকি মানুষও খারাপ। কিন্তু গোবরেও পদ্মফুল ফোটে। এই পাত্র হচ্ছে সেই রকম একটা পদ্মফুল। এই পদ্মফুলটাই আপনাদের হাতে তুলে দিতে চাই। পাত্রীর ঘটক হলে তো বাংলা বাগধারা সংশোধন করে বলে বাংলার গোবরে বসরার গোলাপ। ঘটকের বর্ণনা শুনে মনে এখনই এই মেয়ে তুলে না নিলে দশ মিনিটের মধ্যে হাতছাড়া হয়ে যাবে।

নিজের কনস্টিটিউয়েন্সির মেইল ও ফিমেইল ভোটারদের দিকে এমপি সাহেবের তো নেক-নজর থাকারই কথা এটা তেমন দোষের ব্যাপার নয়। কিন্তু তার ছেলে গোলাম হাক্কানের নজর ও হাত যখন যার তার ওপর পড়তে শুরু করল, এমপি সাহেবকে নালিশ শুনতে হলো।
তিনি বললেন, এসব করার এটাই তো বয়স, এখন করবে না তো আশি বছর বয়সে করবে? চিন্তা করো না, খায়েশ মিটলে এক সময় নিজেই হাত গুটিয়ে নেবে।
তাকে বলা হলো, তাই বলে আপনার নির্বাচনী এলাকায়?
তিনি বললেন, তোমরা কি বলছ এসব? অন্য কারো নির্বাচনী এলাকায় যাবে? সেখানে সেই এমপির ছেলে-ভাতিজারা আছে না? তাদের রিজিকে হাত পড়লে তারা কি গোলাম রাব্বানের হাত-পা খুলে ফেলবে না?
এমপি সাহেবের দলের ইউনিয়ন কমিটির একজন বিশিষ্ট নারী কর্মী, সেখানকার সাংগঠনিক সম্পাদকের স্ত্রী তহুরা বানু দাঁত কামড়ে গোলাম রাব্বানের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে থাকে, প্রস্তুতিও নেয়। এক সন্ধ্যায় হাতে লুকোনো ধারাল ব্লেডটি গোলাম রাব্বানের উত্থিত বেসামাল অঙ্গটির মাঝ বরাবর চালিয়ে দেয়। তাতে শীর্ষ থেকে অর্ধেকটা কাটা পড়ে যায়।
নেতৃত্বের গুণ ছিল বলেই এমন একটা ভয়ঙ্কর কাণ্ড করার পরও তহুরা কোথাও পালিয়ে যায়নি বা পালানোর চেষ্টা করেনি। এমনকি তার স্বামী এসেও যখন বলে তাড়াতাড়ি পালাও, নইলে বাকি জীবন জেলে কাটবে, তহুরা বানু চেঁচিয়ে উঠে দরকার হয় তাই থাকব।
কাজটা কেমন করে করল, কেমন পাষণ্ড এই নারী? তহুরা বলল, ইচ্ছে করলে তো গোড়া থেকেই ছেঁটে ফেলতে পারতাম।
কিন্তু তার মনে হয়েছে ভিকটিম তো অনেকেই, কাজেই শাস্তি দেবার অধিকার তাদেরও আছে। তাদের হাতে কাটা পড়ার জন্য বাকি অর্ধেকটা রেখে দিয়েছে। সময় ও সুযোগমতো তারা হাতে ব্লেড নেবে।
থানার ওসির আসার ইচ্ছে ছিল না, কিন্তু ভিকটিম এমপির পুত্র। ভিআইপি কেইসে পুলিশি ভাষায় পিও প্রেস অব অকারেন্স তার ভিজিট করার কথা; কাজেই তাকে যেতে হয়। যারা তহুরা বানুকে ধরে রেখে খুব বড় সামাজিক দায়িত্ব পালন করেছে বলে মনে করে তাকে ওসির কাছে সোপর্দ করল, কিন্তু তহুরার রুদ্রমূর্তি ও ভাষণ শুনে তাকেও বিব্রত হতে হলো। তহুরা বানু তাকে বলল, ব্লেড কিন্তু আমার হাতেই আছে স্যার। আর আপনি আমাকে কী করতে চেয়েছেন, সেটাও ভুলিনি।
এমপি সাহেব অবশ্যই অন্যদের চেয়ে বেশি বোঝেন। ওসির ফোন পেয়ে তিনি বললেন, অ্যারেস্ট কোনো সমাধান নয়, তুমি ফিরে যাও, আমি এসে সামলাব। তবে গোলাম রাব্বানকে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে পাঠাও। আগে জানে বাঁচুক। মামলা মোকদ্দমা পরে করা যাবে। ওসিগিরি আর এমপিগিরি এক কথা নয়।
এমপি সাহেব তহুরা বানুকে ডেকে নিয়ে প্রথমে বললেন, পোলাপান মানুষ, না হয় কিছু একটা করলই, তুমি তার যে সর্বনাশটা করলে এটা কি ঠিক হয়েছে?
তহুরা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, না ঠিক করি নাই, তবে এই পোলা তার বাপের চেয়েও বেশি খারাপ।
এমপি সাহেব অসন্তুষ্ট হলেন, বললেন, বেশ তাহলে মামলা দিয়ে দিই, বাকি জীবন শিকের ভেতরই থাকো।
তহুরা বলল, আল্লাহর হুকুম থাকলে শিকের ভেতর থাকব অসুবিধা নাই। তবে তার আগে আপনার কীর্তির কথা মানুষকে বলে যাব। আপনার বিরোধী দলের নেতা ঘটনা ইনভেস্টিগেট করতে লোক পাঠিয়েছেন। বলেছেন, তাদের মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদককে বিদায় করে দেবেন, আমি রাজি থাকলে আমার সাথে কথা বলতে তিনি নিজেই আসবেন।
নিজের কীর্তি ফাঁস হওয়া নিয়ে তিনি বিচলিত নন। কারণ এমপির কীর্তি ও কেলেঙ্কারি কোনোভাবেই তার চেয়ে কম নয়, বরং বেশি। কিন্তু তহুরা দল বদল করবে, বিরোধীদের উপজেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক হবে এটা তো ভ্যাজারাম খবর। তিনি তাড়াতাড়ি কৌশল পাল্টে বললেন, তহুরা এতক্ষণ তোমার জিদ পরীক্ষা করলাম। আমাদের পার্টি চালাতে এমন তেজি মেয়েই দরকার। অন্যায়ের সাথে কোনো আপস নয়। তুমি ঠিক কাজই করেছ। এমনকি এমপি সাহেবের ছেলে অন্যায় করলেও আপস করবে না।
এমপি সাহেবই বারবার তাকে আপসহীন নেত্রী বলতে বলতে তাকে একটি বড় ব্রেক দিয়ে দিলেন। তহুরা জেলা কমিটিতে এসে গেছে।
অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে গোলাম রাব্বানের মৃত্যু হতে পারত। কিন্তু হয়নি। শিশ্নের বিচ্ছিন্ন অংশটুকু জোড়া লাগাবার চেষ্টাও সফল হয়নি।
বছর দেড়েকের মাথায় চলন্ত গাড়ির গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে রাব্বান ও তার এক বন্ধুর মৃত্যু হয়। ড্রাইভার আহত হয়।
কফিনে রাব্বানের অর্ধদগ্ধ মুখ দেখে তহুরা বেগমও চোখ মুছেন। এতটা নির্মম শাস্তি কখনোই তার চাওয়া ছিল না।
পুত্রশোক গোলাম হাক্কানকে নির্বাক করে ফেলেছিল। আরো একটি আঘাত আসে। দলীয় প্রধানের শ্যালক এলাকার একজন চোরাচালানি গাউস বক্সের কাছ থেকে পাঁচ কোটি (কারো কারো মতে দশ) টাকা নিয়ে নির্বাচনে তার নমিনেশন নিশ্চিত করেন। পার্টির সহকারী মহাসচিবকে দিয়ে গোলাম হাক্কানকে নির্দেশ দেয়া হয় তিনি যেন নতুন প্রার্থীকে সহযোগিতা করেন। পার্টি আবার ক্ষমতায় এলে তার ক্ষতি পুষিয়ে দেয়া হবে। গাউস বক্স এমপি, গোলাম হাক্কান রাষ্ট্রদূত কিংবা টেকনোক্র্যাট কোটায় প্রতিমন্ত্রী।
বিষয়টি তহুরা বেগমও ভালোভাবে নেয়নি।
এমপি হবার প্রস্তুতি নেবার ইচ্ছে তারও ছিল। গোলাম হাক্কান রাজনীতিবিদ, তাকে আরো একবার মেনে নেয়া যায়। কিন্তু একজন চোরাচালানিকে অবশ্যই নয়।
তহুরা যখন গোলাম হাক্কানকে সহানুভ‚তি জানাতে আসেন, এমপি সাহেব কেঁদে ফেলেন। বিলাপ করে বলতে থাকেন, আমিই দায়ী, অন্য কেউ নয়। আমিই বারবার গাউস বক্সকে জেল থেকে বাঁচিয়েছি। আমার সাহায্য না পেলে সে তো ছিঁচকে ফেনসিডিল ক্যারিয়ারই থাকত।
তহুরা বেগম বললেন, যা হবার হয়ে গেছে। এখন কৌশল ঠিক করুন। গাউস বক্সকে ঠেকাতে তো হবে।
কৌশল ঠিক করতে গিয়ে তহুরার কয়েকটি রাত কেটে যায় এমপি সাহেবের বাড়িতে। দু’জনের আরো ঘনিষ্ট সম্পর্ক নিয়ে নতুন গুঞ্জন শুরু হয়। সাংগঠনিক সম্পাদক মর্তুজাও স্ত্রীর চরিত্র নিয়ে এটা ওটা বলতে শুরু করে।
স্বামীর সাথে তহুরার ছাড়াছাড়ি যখন আসন্ন, মর্তুজা গোপনে গাউস বক্সের সাথে হাত মেলায়। তারই টাকায় দখিনদুয়ারি গার্লস হাইস্কুলের মাঠে চোরাচালান-বিরোধী সভার আয়োজন করে, সভায় উপস্থিত থাকেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
স্থানীয় এমপি গোলাম হাক্কান ও জেলা নেত্রী তহুরা বেগমের অনুপস্থিতির দিকে আঙুল তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঐ দু’জন কি চোরাচালান বাড়ানোর পক্ষে? তাহলে জনপ্রতিনিধি বদলে ফেলার এটাই সময়।
আমাদের এলাকা সম্পর্কে একটি সাধারণ ধারণা দেবার জন্য আপাতত এটুকুই লিখলাম।
পরের অংশটুকু আমার একান্তই ব্যক্তিগত।

ডিসি