সুখবর দিয়ে শেখ হাসিনাকে জাপান প্রধানমন্ত্রীর ফোন

আগের সংবাদ

প্যাঁচার প্যাঁচালি

পরের সংবাদ

রায়হান কবিরের কী হবে?

ইকবাল হাসান

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ৫, ২০২০ , ৫:৩১ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশের অর্থনীতি অনেকটা নির্ভর করে রেমিট্যান্সের ওপর। প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ বাংলাদেশ থেকে অন্য দেশগুলোতে কাজের খোঁজে যায়। অভিবাসী হওয়ার ঢলে সারাবিশ্বে বাংলাদেশিরা রয়েছে ষষ্ঠ অবস্থানে। ২০১৯ সালের হিসাব মতে, বাংলাদেশের ৭৮ লাখ মানুষ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাস করছেন। তাদের অধিকাংশ জীবিকার তাগিদে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অস্থায়ীভাবে অভিবাসন নিয়েছেন। আবার কেউ উন্নত জীবনের প্রত্যাশায় যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়ার মতো উন্নত দেশে স্থায়ী অভিবাসী হয়েছেন। তিন দশকে বাংলাদেশি অভিবাসীর সংখ্যা ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এভাবেই বছরের পর বছর এ দেশের লাখ লাখ মানুষ জীবিকার তাগিদেও ভালো থাকার আকাক্সক্ষায় দেশান্তরী হচ্ছেন।
এই পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে বলে দেয়, বাংলাদেশে চাকরির নিরাপত্তা কিংবা ভবিষ্যতের নিরাপত্তা অন্যান্য দেশ থেকে কম। কতটা অসহায় হলে একজন মানুষ তার চেনা-জানা পরিবেশ, আত্মীয় সবকিছু ছেড়ে জীবিকার জন্য অন্য দেশে চলে যায়! সে দেশে সে কাজ নাও পেতে পারে, মারাও যেতে পারে তবুও তাদের আশা, আর যাই হোক বাংলাদেশে থাকার চেয়ে অন্য দেশে সে ভালো থাকবে! অনেকে বৈধপথে যায় অনেকে বাধ্য হয়ে নিয়ম-কানুনের অবাধ্য হয়ে নদীপথে পাড়ি দেয় একটা নতুন জীবনের আশায়। সবাই সুন্দর জীবন পায় না। অনেকে মারা যায় স্বপ্নের দেশে যাওয়ার পথে আবার অনেকে দালালের হাতে নিঃস্ব হয় কিংবা অবৈধ অভিবাসী হয়ে পৃথিবীর নরকে জ্বলতে থাকে।
লিবিয়ায় ঘটে যাওয়া ঘটনার কথাই ধরা যাক! যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশ লিবিয়া। একক সরকার না থাকায় ছোট ছোট মিলিশিয়া বাহিনীর সদস্যরা কর্তৃত্ব দেখাচ্ছে এবং এদের হাতেই খুন হয় ২৬ বাংলাদেশি। শুধু লিবিয়া নয়, প্রায় দেশগুলোতে একই সমস্যা। সৌদি আরব থেকে শুরু করে মালয়েশিয়া কোথাও নিস্তার নেই। আমরা মালয়েশিয়ার ঘন জঙ্গল থেকে একের পর মরদেহ উদ্ধার হতে দেখেছি। তবুও থেমে নেই দালালের দৌরাত্ম্য। সাম্প্রতিক সময়ের একটি ঘটনা যদি উল্লেখ করি তবে সেটা হবে রায়হান কবিরের ঘটনাটি। অথচ মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের খোঁজখবর রাখার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) রায়হান কবিরের ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছে। আল-জাজিরায় প্রচারিত ১০১ ইস্ট অনুষ্ঠানে ‘লকড আপ ইন মালয়েশিয়াস লকডাউন’ শিরোনামে ২৫ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের একটি প্রতিবেদন প্রচারিত হয়। এতে করোনা ভাইরাস মহামারিতে মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের সঙ্গে সরকারের আচরণ নিয়ে কথা বলেছিলেন রায়হান কবির। ওই ডকুমেন্টারিতে বলা হয়, মহামারির মধ্যে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ দুই হাজারেরও বেশি অনিবন্ধিত শ্রমিককে আটক করেছে এবং কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে তাদের আটকে রাখা হয়েছে।
মালয়েশিয়া নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের অন্যতম বড় শ্রমবাজার। কিন্তু সেখানে অন্য অভিবাসীদের থেকে বাংলাদেশি অভিবাসীরা সবচেয়ে দুরবস্থায় থাকেন। রায়হান কবির শুধু কিছু সত্য তুলে ধরেছেন মাত্র! মে মাসে কাগজপত্রহীন অভিবাসীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে নিজের বন্ধুদের আটক হতে দেখে আবেগাক্রান্ত হয়ে ওই বক্তব্য দিয়েছেন তিনি। সেই বক্তব্যের জন্য তাকে আটক ও কালো তালিকাভুক্ত করা হয়। যাতে পরবর্তী সময়ে সে আর মালয়েশিয়া প্রবেশ করতে না পারে। বাক-স্বাধীনতার এরকম হস্তক্ষেপ নিয়ে নানাজন নানা মন্তব্য করলেও রায়হান কবিরকে ‘স্পষ্টভাষী’ উল্লেখ করে তাকে মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। এছাড়া ঢাকাতেও অভিবাসীদের সংগঠন এবং অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করে এরকম ৬৪ সংগঠন বৃহস্পতিবার প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে।
করোনার কারণে প্রায় কোনো দেশই এখন আর শ্রমিক নিচ্ছে না। যারা ফেরত এসেছিল তাদের মধ্যে অনেকে দেশেই রয়ে গেছেন। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ বহির্বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে যদি না বাংলাদেশ অন্যদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণ না করতে পারে। অন্যান্য দেশের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে আমাদের অর্থনীতির ক্ষতি। করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে আমাদের করোনা যোদ্ধারা। সরকারকে শুধু রেমিট্যান্স থেকে আয় দেখলেই হবে না, যারা আয় করছে তাদেরও দেখতে হবে। তাদের সমস্যা, অসুবিধা দেখার জন্য বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন দেশে অবস্থিত দূতাবাসকে বাংলাদেশি অভিবাসীদের সহযোগিতা করতে হবে। না হলে আগামীর রায়হান কবিরের কী হবে?

শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

[email protected]

এসআর