রিমান্ড শেষে কারাগারে সাহেদ

আগের সংবাদ

শেখ কামালের প্রতিকৃতিতে বিএসএমএমইউ এর শ্রদ্ধা

পরের সংবাদ

রাজনীতি ভেদাভেদ ভুলে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ান

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ৫, ২০২০ , ৪:০২ অপরাহ্ণ

ঢাকা-৯ আসনের সাংসদ ও বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বলেছেন, দেশের অনেক জায়গাতেই বিপদসীমার উপরে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। গৃহবন্দী হয়ে পড়েছে হাজারো মানুষ। তলিয়ে গেছে বসতবাড়ি, স্কুল-কলেজ, গোরস্থান, বিভিন্ন ফার্ম থেকে শুরু করে ফসলি জমি। করোনা মহামারীর মধ্যে এ দুর্যোগকেও সবাইকে চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিতে হচ্ছে। এ সঙ্কট নিরসনে ক্ষতিগ্রস্থ বন্যার্তদের কথা চিন্তা করে রাজনীতি ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে রাজধানীর খিলগাঁও থানার অন্তর্গত ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্লাবিত ৫০০ পরিবারকে ত্রান-সামগ্রী বিতরণ শেষে এ কথা বলেন তিনি। এসময় অন্যান্যের মধ্যে ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা কাউন্সিলর নাসরিন আহমেদ, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন, আওয়ামীলীগ নেতা ওমর আলী, সাদমান মিলনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সাবের হোসেন চৌধুরী ত্রিমোহনী গোদারাঘাট ব্রিজ থেকে ট্রলারে করে বন্যাকবলিত এলাকার নাসিরাবাদ, দাসেরকান্দি, বালুরপাড়, বাবুর জায়গা, ঈদেরকান্দি ও ফকিরখালি পরিদর্শন করেন। এসব এলাকার পানিতে ডুবে যাওয়া বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে সবার খোঁজখবর নেন এবং নিজ হাতে ত্রান পৌছে দেন। একইসঙ্গে বন্যা পরিস্থি আরো অবনতি হলে সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়ার আশ্বাস দেন।

সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, গত ৩ দশকের এই এলাকায় সর্বোচ্চ বন্যা দেখা দিয়েছে। বিপদসীমার ৫ মিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ইতিমধ্যেই রাস্তা-ঘাট, বসতবাড়ি, স্কুল, গোরস্থানসহ সবকিছু তলিয়ে গেছে। করোনা মহামারীর মধ্যে এটি আরেকটি বড় দুর্যোগ। মানুষ যাতে করোনার সঙ্গে বন্যা অর্থাৎ ডাবল দুর্যোগ মোকাবেলা করার চ্যালেঞ্জ নিতে পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে। এই এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসাবে ব্যক্তিগত ও দলীয়ভাবে আপাতত বেশি ক্ষতিগ্রস্থ ৫০০ মানুষকে ত্রাণ সহায়তা দেয়া হচ্ছে। সরকারি ত্রাণের জন্য ত্রান প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে চিঠি দেয়া হয়েছে। সরকারিভাবে ৩ হাজার ত্রাণ পাওয়ার আশা রয়েছে। সেগুলো হাতে পেলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় প্রাপ্পদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

ঢাকা-৯ আসনের সাংসদ বলেন, এই এলাকাটি গত বছর সিটি কর্পোরেশনের আওতায় এসেছে। ফলে অতীতে তেমন কোনো উন্নয়নমূলক কাজ করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। কিন্তু ইতিমধ্যে এই এলাকাটি ঘিরে ব্যাপক পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। একনেকেও একটি বড় প্রজেক্ট পাশ হয়ে আছে। প্রতি ইউনিয়নে ১৫০-২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। করোনার মহামারী শেষ হলে এবং বন্যার পানি নেমে গেলে এই এলাকার উন্নয়ন কাজ শুরু করা হবে। তবে, সবার আগে যোগাযোগ ব্যবস্থার সামগ্রীক উন্নয়ন ও ভবিষ্যতে বন্যা পরিস্থিতির যাতে এমন রুপ না নেয় সে লক্ষ্যে কাজ করা হবে। পাশাপাশি এ এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের চাওয়া বালুরপাড়-রুপগঞ্জ সেতু নির্মানেও চেষ্টা চলছে। আশা করি খুব দ্রুত এ সেতু নির্মান করে রুপগঞ্জ এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা যাবে। এছাড়াও সিটি কর্পোরেশনের আওতায় এ এলাকাটিতে সবচেয়ে বেশি ফাঁকা জায়গা। ফলে এটিকে রাজধানীর অন্যতম আকর্ষনীয় স্থান হিসাবে গড়ে তোলার ইচ্ছা রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, সিটি কর্পোরেশনের আওতায় গেলে সবারই অধিকার থাকে নাগরিক সুবিধা ভোগ করার। এজন্য এখানে খেলার মাঠ, কমিউনিটি সেন্টার, শিশু পার্ক, উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ সবকিছুই করা হবে। এক প্রশ্নের উত্তরে সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, রাজধানীর চারদিকের নদীপথের মধ্যে এই বালু নদী অন্যতম। কিন্তু কিছু দখলদার আওয়ামীলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে এখানে অবৈধ স্থাপনা করছে। এটা স্পষ্ট করে বলা দরকার, শেখ হাসিনা সরকার কোনো দখলদারকেই প্রশ্রয় দেয়নি, দিবেওনা। কারণ দখলদারদের কাছে হার মানলে উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হবে। রাজধানীর ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত করতে এ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই হবে। বর্তমান মেয়র এ ব্যাপারে খুবই আন্তরিক। আশা করি তিনি ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত করতে দ্রুতই পদক্ষেপ নিবেন। ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে আমাদের সঙ্গে আলোচনাও করেছেন মেয়র।

এমএইচ