স্বপ্নচারী শেখ কামাল ও বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন

আগের সংবাদ

স্বাস্থ্যসচিব ও স্বাস্থ্য মহাপরিচালককে আইনি নোটিশ

পরের সংবাদ

বন্যার্তদের ঈদ আনন্দ

তামান্না ই জান্নাত লিমা

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ৫, ২০২০ , ৭:০৭ অপরাহ্ণ

ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ। এই দিনে মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের আনন্দের সীমা থাকে না। কিন্তু কিছু পরিস্থিতি সেই আনন্দের ঈদকেই এবার দুঃখে পরিণত করেছে। দেশের ৩১ জেলার ৫০ লক্ষাধিক মানুষ বন্যায় ঘরবন্দি হয়ে দিনযাপন করছেন। বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের ঘরে ঈদের আনন্দ তো দূরের কথা, তিনবেলার খাবারই জোটেনি। এমনকি তারা ঘর থেকেই বের হতে পারছেন না। অনেক বাবা পারেননি সন্তানের মুখে ঈদের আনন্দ ফুটিয়ে তুলতে, পারেননি দিতে ভালো খাবার ও নতুন জামা। একদিকে করোনা মহামারিতে মানুষ ঘরবন্দি অন্যদিকে এই দুর্যোগ। এ যেন কাটা ঘায়ে লবণের ছিটার মতো। ওইসব অঞ্চলের মানুষের জীবিকা নির্বাহের সব পথ বন্ধ। তাই দুমুঠো খাবারের জন্য তাদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে ত্রাণের জন্য। অনেক মানুষের নিজ গৃহটিও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আবার অনেকে পরিবারের সদস্য ও গবাদি পশু মিলে এক ঘরে অবস্থান করছে। সবমিলিয়ে ঈদের আনন্দ তাদের কাছে ক্ষীয়মান। ঈদুল আজহা মূলত সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি অর্জনের নিমিত্তে পালিত হয়। মুসলমান জাতি তাদের প্রিয় পশুটি কুরবানির মাধ্যমে সন্তুষ্টি অর্জন করে। কিন্তু এই বানভাসি মানুষেরা যেখানে বেঁচে থাকার জন্য সর্বক্ষণ লড়াই করে চলেছে সেখানে কুরবানির কথা ভাবা বিলাসিতা মাত্র। ধর্মীয় বাধ্যবাধকতার বাইরে বাস্তবিক জীবন যে কতটা অসহায় তা এই দুর্যোগ জানিয়ে দিল। দূর থেকে দেখে আমরা কষ্ট পাচ্ছি আর সমবেদনা জানাচ্ছি। কিছু মানবতাবাদী মানুষ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি নানা ত্রাণ তৎপরতাও দেখা যাচ্ছে। আর স্বেচ্ছাসেবীরা তাদের সাধ্যমতো সহযোগিতা করছে। তবুও এই অর্ধাহার, অনাহারে থাকা বানভাসি মানুষের কষ্টের সীমা নেই। তাই আমাদের সবাইকে এক হয়ে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে। নিজেদের সাধ্যমতো বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নিতে হবে। সব কিছু স্বাভাবিক হলে পরবর্তী বছর ঈদ সবার মাঝে আনন্দের বন্যা বয়ে নিয়ে আসবে। সবার মুখে ফুটে উঠবে ঈদের খুশি।

শিক্ষার্থী,
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
[email protected]

এসআর