বিভাগীয় শহরগুলোতে স্কুল-কলেজ খুলবে পুলিশ

আগের সংবাদ

মেয়রের কাছে খোলা চিঠি

পরের সংবাদ

চামড়া, পাট ও মৃৎশিল্প টেকসই উন্নয়নের ধারক

সাঈদ চৌধুরী

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ৫, ২০২০ , ৬:১৯ অপরাহ্ণ

আমাদের বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বড় আন্দোলন টেকসই উন্নয়নের ধারাকে সামনে এগিয়ে নেয়া। টেকসই উন্নয়ন বলতে বড় একটি জায়গাজুড়ে রয়েছে পরিবেশের সুরক্ষা! পরিবেশ সুরক্ষার কথা এলেই সবার প্রথমে সামনে আসবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বড় চ্যালেঞ্জ প্লাস্টিক ও পলিথিন জাতীয় পণ্য। আমাদের সামনে এই প্লাস্টিক যখন একটি সমস্যার নাম তখন আমাদের সম্পদগুলোই ছিল আমাদের প্রাপ্তির জায়গা তৈরি করতে পারে। মাটি, পাট এবং চামড়া আগামী বিশ্বের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় টেকসই উন্নয়নের ধারক হবে। পচনশীল সিনথেটিক প্লাস্টিক নিয়ে নতুনভাবে ভাবার জায়গা তৈরি করার চেয়েও ভালো চিন্তার প্রকাশ ঘটাতে পারে এই তিন উপাদান। অথচ এখানেই আমরা কোনো উন্নয়ন ঘটাতে পারছি না! চামড়া নিয়ে এবারো বড় ধরনের হতাশার জায়গা তৈরি হলো। ঈদের দিন রাতে গাজীপুরের শ্রীপুরের কয়েকটি বাজার ঘুরেছি। কোথাও দেখিনি চামড়া ব্যবসায়ীরা স্বস্তিতে আছেন! সরকার নির্ধারিত দাম তো নয়ই বরং চামড়া ফেলে দিতে হয়েছে অনেক জায়গায়! খাসির চামড়া দুই থেকে তিন টাকা এবং গরুর চামড়া বিক্রি করতে হয় পঞ্চাশ টাকায়! তখন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা পড়ে যান বিপাকে। পয়সা না উঠলেও চামড়া তারা ফেলে দেন বিভিন্ন জায়গায়! রাজশাহীতে পদ্মা নদীতে চামড়া ফেলে দেয়া দৃশ্য আমাদের ভাবিয়েছে। চামড়ায় এভাবে দর পতন ও অবহেলার কারণে একটি শ্রেণির মানুষ ঈদকে ঘিরে যে তাদের ক্ষুদ্র ব্যবসার একটি বড় বাজার তৈরি করে তারা জীবিকা নির্বাহ করত তাদের সমস্যা হয়েছে বহু। অনেক মাদ্রাসা চামড়ার টাকায় চলতে পারত অনেক দিন। বিশেষ করে এতিমখানাগুলোর বর্তমান চিত্র খুব নাজুক। তাদের প্রতিদিনকার খাবার জোগানোর ক্ষেত্রে বড় একটি ধাক্কা লেগেছে এই চামড়ার দর পতনের কারণে!
এভাবে আর কত? পাট, চামড়া, মাটির বস্তু তৈরিতে এখন থেকেই ভাবনা শুরু করতে হবে। নতুন নতুন চিন্তা যোগ করার ক্ষেত্রে ভাবতে হবে এমন বিষয় যাতে একদিকে পণ্যের দাম কম হয় অন্যদিকে খুব বেশি প্রয়োজনীয় হয়। আমাদের চারপাশের সব প্রয়োজনীয় বস্তু এখন প্লাস্টিকের দখলে। পাট দিয়ে শুধু ব্যাগ নয় উদ্যোগ নিতে হবে নিত্যপ্রয়োজনীয় বস্তু তৈরিতে পাটের ব্যবহার বাড়ানো। টিভির কাভার, মোবাইল ব্যাগ, কম্পিউটার রাখার ব্যাগ, কাচের প্রলেপ যুক্ত পাটের বোতল, অফিসিয়াল বিভিন্ন ধরনের পণ্য তৈরি করা না গেলে পাটের জনপ্রিয়তা আনা সম্ভব হবে না। এর সঙ্গে সরকারের নীতিমালাও কিছু পরিবর্তন করতে হবে। পরিবেশ সুরক্ষার জন্য গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের সঙ্গে সঙ্গে আইন ও নীতিমালায় যদি সাধারণ মানুষের ব্যবহার্য পণ্যগুলো কি ধরনের হবে তা বলে দেয়া যায় সে বিষয়টি হতে পারে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। যেমন বলা যেতে পারে প্লাস্টিক বেশি ব্যবহার করলে সরকারকে কর দিতে হবে প্রতি বোতল বা পণ্যের জন্য নির্দিষ্ট হারে এবং পাটের, চামড়ার বা মাটির তৈরি জিনিস ব্যবহার করলে সরকার প্রণোদনা বা ঋণ সুবিধা অথবা নির্দিষ্ট কোনো রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহারে ছাড় দেয়ার বিষয়ে ভাববে তবে সাধারণ মানুষ এগুলো ব্যবহারে উৎসাহ দেখাবে এবং ব্যবহার বাড়াবে।
পচনশীল বস্তু থেকে পণ্য তৈরি করার জন্য গবেষণা আরো বাড়ানো প্রয়োজন। এ কারণে বাজেটে গবেষণার ওপর আরো বেশি টাকা ধার্য করা এখন সময়ের দাবি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পাট, চামড়া ও মাটির তৈরি পণ্য নিয়ে গবেষণার জন্য বেশি করে লগ্নি করা খুব দরকার। আগামীর বিশ্বে এ জাতীয় পণ্যই টেকসই উন্নয়নের প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে। পরিবেশ দূষণ বন্ধ নিয়ে ভাবতে গেলে পরিবেশ সুরক্ষা করে এমন পণ্য নিয়েই আগে কাজ করা প্রয়োজন। সুতরাং নতুন কোনো পরিবেশসম্মত পণ্য তৈরি করা গেলে চামড়া ফেলে দেয়ার ঘটনা যেমন দেখব না তেমনি এগুলো হয়ে উঠবে আমাদের সম্পদ। চামড়া, পাট ও মাটির বস্তু উৎপাদনে শিল্প মন্ত্রণালয়সহ সব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এ ব্যাপারে ভাববে প্রত্যাশা এটাই।

শ্রীপুর, গাজীপুর।

[email protected]

এসআর