হাওরে নৌকাডুবি, ১৭ লাশ উদ্ধার, নিখোঁজ ১

আগের সংবাদ

সিলেটে মোটরসাইকেলে বোমাসদৃশ ডিভাইস

পরের সংবাদ

অভিমানে দেশে ফিরেননি রনি, এসেছে মৃত্যুর খবর

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ৫, ২০২০ , ৮:৫৯ অপরাহ্ণ

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মেহেদী হাসান রনি (২৮) নামের এক যুবক নিহত হয়েছে। নিহত প্রবাসী রনি সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের ভাদেশ্বরা গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে রনির মৃত্যুর সংবাদ আসে তাঁর পরিবারের কাছে। একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বাবা তাজুল ইসলাম। আর মা ইনরা বেগম ছেলের মৃত্যুর সংবাদ পেয়েই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।

রনির পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিন ভাই-এক বোনের মধ্যে রনি ছিলেন বড়। গ্রামের একটি স্কুলে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। আর্থিকভাবে অস্বচ্ছ পরিবারের কথা ভেবে রনি বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সুদে পাঁচ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ২০১৪ সালের ৯ মার্চ লেবাননে পাড়ি জমান রনি। এর মধ্যে বাবা তাজুল ইসলামও বাহরাইন থেকে দেশে ফেরত আসেন। এর ফলে পরিবারের পুরো চাপ পড়ে রনির ওপর। তবে পরিবারের জন্য হাসিমুখেই কাজ করে যাচ্ছিলেন রনি। লেবাননের বৈরুতে একটি বিপনী বিতানে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করতেন তিনি। একটু বেশি বেতনে কাজ করার জন্য অন্য কোনো দেশে যেতে চেয়েছিলেন রনি। বাড়ির সবাইকে বলেছিলেন অনুমতি দেওয়ার জন্য। কিন্তু ঋণের টাকা শোধ না হওয়ায় বাড়ি থেকে অনুমতি মিলেনি। গত মার্চ মাসে দেশে ফেরার কথা ছিল তার অভিমান করে দেশেও ফেরেনি সে। পরিবারের কাউকে না জানিয়ে অন্য দেশে চলে যাওয়ার কথাও বলেছিলেন বোন জেসমিন আক্তার হ্যাপিকে।

রনির বাবা তাজুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার রাতে রনির এক সহকর্মী ফোন করে জানান তিনি অসুস্থ্, তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এরপর বুধবার ভোরে আবার ফোন করে জানান রনি মারা গেছেন।

মাছিহাতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল আমিনুল হক পাভেল বলেন, ঘটনার পর থেকেই আমি রনির পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। মরদেহ আনার জন্য সবধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নিহতের পরিবারকে সকল প্রকার সহায়তা করা হবে।

ডিসি