ঈদের ছুটি শেষে রাজধানীতে ফিরছে মানুষ

আগের সংবাদ

এই শ্রাবণে সেই ‘ডিফরেন্ট টাচ’

পরের সংবাদ

লাদাখের রহস্যঘেরা চুম্বক পাহাড়

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ৪, ২০২০ , ৩:৩৬ অপরাহ্ণ

লেহ লাদাখ মানেই স্বর্গীয় সৌন্দর্যের রূপকথার দেশ। প্রকৃতি তার সকল সৌন্দর্য উজাড় করে দিয়েছে এখানে। চিরসুন্দর প্রকৃতি থেকে শুরু করে এখানকার মানুষ, সংস্কৃতি সবকিছুই যেন এক স্নিগ্ধতায় পরিপূর্ণ। লাদাখের অপার সৌন্দর্যে হারাতে তাই পর্যটকরা ছুটে আসেন এখানে। স্বর্গীয় সৌন্দর্যের মাঝে প্রকৃতির কাছে নিজেকে সঁপে দেন। লেহ লাদাখের প্রতিটি জায়গায়ই রয়েছে সৌন্দর্যের এক অনন্য মাত্রা। অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বাহিরেও এখানে আছে রহস্যময়তা। রহস্যেঘেরা এই জায়গাটি হল ম্যাগনেটিক হিল (Magnetic Hill)।

লাদাখের লেহ অঞ্চল থেকে কারগিলের দিকে যেতে ত্রিশ কিলোমিটার দূরত্বেই ম্যাগনেটিক হিল বা চুম্বক পাহাড় অবস্থিত। শ্রীনগর-লেহ মূল সড়ক দিয়ে গেলে খুব সহজেই এই পাহাড়টি দেখতে পাবেন এবং সড়কটিও এই পাহাড়ের উপর দিয়েই গেছে। চমৎকার সৌন্দর্যের এই সড়কে দিয়ে যাওয়ার সময় প্রত্যক্ষ করতে পারবেন অদ্ভুত এক ব্যাপার।

এই সড়কে এসে আপনি যদি গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ করে রাখেন তাহলে তার কিছু সময় পরই দেখতে পাবেন আপনার গাড়িটি আপনা আপনি ক্রমশই সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কোনও রকম কিছু ছাড়াই গাড়িটি এগিয়ে চলছে আপন মনে। ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটার গতিতে আপনার গাড়িটিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে যেন কোনও অদৃশ্য শক্তি। এমন অদ্ভুতুড়ে কাণ্ড এখানে আগত সব গাড়ির সাথেই ঘটে।

অনেকে হয়তো ভাবতে পারেন, ডাউন হিলে চলার পথে হয়ত গ্র্যাভেটির কারণে গাড়ি নিচে নেমে যাচ্ছে। কিন্তু না, আপ হিলেও গাড়ি আপনা আপনি সমানভাবে সামনের দিকে এগিয়ে চলে। এই সড়কে এসে ড্রাইভাররা গাড়ির স্টার্ট বন্ধ করে দেয়, ব্রেক থেকে পা সরিয়ে শুধু স্টিয়ারিং ধরে বসে থাকে আর গাড়ি এগিয়ে চলে নিজে নিজে।

এখানে এসে পর্যটকরা দারুণ রোমাঞ্চ অনুভব করে। গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ করে দিয়ে বিশ কিলোমিটার গতিতে অনায়াসে রাস্তার দুপাশের চমৎকার পরিবেশ উপভোগ করতে পারেন পর্যটকরা। অদ্ভুত এই জায়গায় শুধু গাড়িই নয়, বিমান উড়ে যাওয়ার সময়ও সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়।

ছবি : ট্রাভেল ট্রায়াঙ্গল

এই অঞ্চল দিয়ে উড়ে যাবার সময় পাইলটরা খুব বেশি কড়া নজর রাখেন যাতে করে তাদের বিমানের গতিপথ ভুল না হয়ে যায়। স্থানীয়দের মাঝে এই পাহাড়টিকে ঘিরে বিভিন্ন মিথ প্রচলিত আছে। তাদের অনেকেই বিশ্বাস করেন এখানে কোনও অতিপ্রাকৃত শক্তি আছে যা এই ঘটনা ঘটায়।

তবে, আরও অবাক করা ব্যাপার হল এই ম্যাগনেটিক হিলের এই চৌম্বকীয় আকর্ষণ শুধু যে লোহার বস্তুর ক্ষেত্রেই দেখা যায় তা নয়, অন্যান্য যেকোনো বস্তুর ক্ষেত্রেই এই আকর্ষণ সমানভাবে কাজ করে। এই সড়কের ধারে বা এই অঞ্চলের যেকোনো জায়গার কিছুটা উঁচু স্থানে দাঁড়ালে তীক্ষ্ণ রকমের এক অদ্ভুত শব্দ শুনতে পাওয়া যায়।

অনেকেই এই শব্দকে ভৌতিক কোনও কিছু মনে করতো। পরবর্তীতে বিজ্ঞানীদের মাধ্যমে জানা যায় যে, পৃথিবীর যেসব অঞ্চলে এমন গ্র্যাভিটি হিল আছে সেখানেই এই শব্দ শুনতে পাওয়া যায়। এই শব্দ চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের তরঙ্গে ঘর্ষণের ফলে উৎপাদিত হয়। এছাড়াও এই ম্যাগনেটিক হিলের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীর পানিও গ্র্যাভিটির সূত্র ধরে ভিন্ন দিকে বয়ে চলার চেষ্টা করে।

স্থানীয়রা ছাড়া বাহিরের মানুষজন অনেক পরে এই ম্যাগনেটিক পাহাড় সম্পর্কে জানতে পারে। তৎকালীন সময়ে কাশ্মীর কর্তৃপক্ষ এই অঞ্চলের চৌম্বকীয় আকর্ষণের ব্যাপার সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে অবগত করার প্রয়োজন মনে করেনি। যার ফলে এখানে বেশ কিছু মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।

পরবর্তীতে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের কার্গিল যুদ্ধ হওয়ার পর থেকে এই অঞ্চলের সার্বিক চেহারার বেশ পরিবর্তন হয়। বর্তমানে লাদাখ কর্তৃপক্ষ এই সড়কটির দুই প্রান্তেই সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়েছে। যাতে লিখা আছে এখান থেকে ম্যাগনেটিক হিলের এলাকা শুরু হয়। এর ফলে এখানে দুর্ঘটনা একদমই কমে গিয়েছে। -ট্রাভেলবিডি।

পিআর